
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর মিডিয়াতে চলতেই থাকে তারকাদের এই আছে এই নেই সম্পর্ক আর তাসের ঘরের রোজনামচার বয়ান। হালে এই তালিকায় যোগ হলো দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী তাহসান খান আর সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ রোজা আহমেদের নাম।

রূপালি পর্দা বা গ্ল্যামার জগতের তারকাদের জীবন বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে মনে হয়, ভেতরে তা অনেক সময়ই ততটা স্থির নয়। লাল গালিচার হাসি, সোশ্যাল মিডিয়ার নিখুঁত ছবি আর জমকালো বিয়ের আয়োজনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে চাপ, দ্বন্দ্ব আর নিঃসঙ্গতা। তাই সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—তারকাদের বিয়ে এত দ্রুত বা এত ঘনঘন ভাঙে কেন? কেন তাঁদের সংসার এত ঠুনকো? তাহসানের জনপ্রিয় গানের মতোই বলা যায়, চাঁদের আলো তুমি কি কখনও আমার হবে না? আর যদিও হয়েও যায়, তবু ভালোবাসার সেই আলো যেন বেশিদিন টেকেনা তারকাদের জীবনে। বিভিন্ন সময় নানা স্টাডিতে এর বেশ কিছু কারণ উঠে এসেছে যা আসলেই চিন্তার খোরাক যোগায়। সেগুলো দেখে নিয়ে নিজেদের সম্পর্ক ও সংসারের বেলায়ও সচেতন হওয়ার সময় এসেছে এই অস্থিরতা আর সামাজিক মাধ্যমের ওভারলোডের যুগে। তারকাদের ঠুনকো সম্পর্কের ৬টি বড় কারণ আপনার জীবনে নেই তো?

অতিরিক্ত স্পটলাইট আর ব্যক্তিগত জীবনের সংকট
তারকাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অতিরিক্ত নজরদারি। একটি সাধারণ দাম্পত্য কলহ যেখানে ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে তারকাদের ক্ষেত্রে তা হয়ে ওঠে সংবাদ। ছোট ভুল, সামান্য মতবিরোধ—সবই ক্যামেরা আর গসিপ কলামের আলোয় বড় হয়ে ওঠে। এই স্থায়ী চাপ অনেক সময় সম্পর্কের ভিত দুর্বল করে দেয়।
ক্যারিয়ারের চাপ ও সময়ের অভাব
অভিনয়, গান বা খেলাধুলা সব ক্ষেত্রেই তারকাদের কাজের সময়সূচি অস্বাভাবিক রকম ব্যস্ত। শুটিং, ট্যুর, বিদেশযাত্রা, রাতের শিফটের কাজ সব মিলিয়ে পরিবারকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় আলাদা থাকা সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ায়, তৈরি করে ভুল বোঝাবুঝি।

অর্থ ও ক্ষমতার ভারসাম্য
বিয়ের পর অনেক সময় দেখা যায়, দুজনের ক্যারিয়ার সমান গতিতে এগোয় না। একজন বেশি সফল হলে আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে ঈর্ষা, নিরাপত্তাহীনতা কিংবা ইগো ক্ল্যাশ তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে সম্পর্ককে ক্ষয় করে।

দ্রুত প্রেম, দ্রুত সিদ্ধান্ত
তারকাদের প্রেম অনেক সময়ই হয় তীব্র আবেগনির্ভর। সেটে কাজ করতে গিয়ে, কোনো প্রজেক্টের ঘনিষ্ঠতায় সম্পর্ক তৈরি হয় এবং দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু আবেগের তীব্রতা কমলে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসে, তখন বোঝা যায়—পরিচয়ের সময়টা ছিল খুবই কম।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
আজকের দিনে তারকাদের দাম্পত্য সম্পর্ক শুধু দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তা এক অর্থে জনসম্মুখে প্রদর্শিত। কে কাকে ফলো করল, কে কার ছবি দিল না—এই ছোট বিষয়গুলোও আলোচনার বিষয় হয়। তুলনা, ট্রোলিং আর ভক্তদের চাপ সম্পর্কের ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করে।

স্বাধীনতা বনাম সমঝোতা
তারকাদের ব্যক্তিত্ব সাধারণত শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা হয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে প্রয়োজন সমঝোতা ও ছাড়। দুজনই যদি নিজের স্বাধীনতা ও ক্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দেন, তবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

তারকাদের বিয়ে ভাঙার পেছনে মূলত মানুষের মতোই আবেগ, প্রত্যাশা আর বাস্তবতার দ্বন্দ্ব কাজ করে—পার্থক্য শুধু একটাই, তাদের জীবনে ঝলমলে আলো বেশি, চাপও বেশি। তাই বাইরে থেকে যত সহজে বিচার করা হয়, বাস্তবে তাদের দাম্পত্য সংকট ততটাই জটিল ও মানবিক। গ্ল্যামারের আড়ালেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা মানুষ—ভালোবাসা, ভুল আর ভাঙনের গল্প নিয়েই।
সূত্র: বিবিসি কালচার, দ্য গার্ডিয়ান
ছবি: ইন্সটাগ্রাম