মা দিবস এক্সক্লুসিভ: মা আমার প্রথম আশ্রয়, প্রথম শক্তি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মা মানেই আশ্রয়। মা মানেই নির্ভরতার আরেক নাম। আর একজন শিল্পীর জীবনে মা যদি হন প্রথম ম্যানেজার, প্রথম শিক্ষক, প্রথম সমালোচক ও প্রথম বন্ধু—তাহলে সেই গল্পটা হয়ে ওঠে আরও গভীর, আরও অনুপ্রেরণাময়। মা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের টিভি পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী, নৃত্যশিল্পী ও মডেল আইশা খান–এর সঙ্গে হাল ফ্যাশনের আলাপচারিতায় উঠে এলো এমনই এক মায়ের গল্প, যিনি নীরবে, ধৈর্য আর ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তুলেছেন আজকের তাহিয়াকে।

আইশার জীবনে মা-ই প্রথম ম্যানেজার, প্রথম শিক্ষক, প্রথম সমালোচক ও প্রথম বন্ধু
আইশার জীবনে মা-ই প্রথম ম্যানেজার, প্রথম শিক্ষক, প্রথম সমালোচক ও প্রথম বন্ধু

শোবিজে আইশার পথচলা শুরু ছোটবেলা থেকেই। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম অভিনয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে শুটিংয়ে রওনা দেওয়া, দিনের শেষে ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফেরা—একটি শিশুর জন্য যা সহজ ছিল না। কিন্তু তার পাশে ছিলেন মা। শুটিং ফ্লোরেই পড়াশোনা, হোমওয়ার্ক, সময়মতো খাওয়ানো, বিশ্রাম—সবকিছু নিজের হাতে সামলাতেন তিনি। নিজের ঘুম-অবসাদ ভুলে মেয়ের স্বপ্নকে আগলে রেখেছেন নিঃশব্দে।

বিজ্ঞাপন

আইশা বলেন, 'জীবনের এক কঠিন সময়—যখন পুরো পরিবার অসুস্থ, এমনকি মাম্মাও—তখনও তিনি আমাকে একা হতে দেননি। হয়তো তখন বুঝিনি, কিন্তু এখন বুঝি—ওই সময়টার মানসিক শক্তিই আমাকে আজকের জায়গায় দাঁড়াতে সাহায্য করেছে,”

মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা—ব্যালেন্স আর শৃঙ্খলা
মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা—ব্যালেন্স আর শৃঙ্খলা

মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা—ব্যালেন্স আর শৃঙ্খলা। অভিনয়, উপস্থাপনা, মডেলিং—সবকিছু একসঙ্গে সামলেও কীভাবে পরিবার ও সামাজিক সম্পর্ক সমানভাবে ধরে রাখতে হয়, সেটাই তিনি দেখেছেন মায়ের মধ্যে। মা কখনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেননি। বরং বলতেন, “যা করতে চাও করো, তবে ভালো করতে হবে।” এই কথাটিই আইশার জীবনের মূলমন্ত্র হয়ে আছে আজও।

বিজ্ঞাপন

ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ভিন্নধর্মী কিংবা সাহসী চরিত্রে অভিনয়ের আগে এখনো মায়ের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। তাদের সম্পর্কটা শুধু মা-মেয়ের নয়, অনেকটাই বন্ধুর মতো। যুক্তি দিয়ে কথা বলা, বোঝাপড়া করা—এই খোলামেলা সম্পর্কটাই আইশার কাছে বড় প্রাপ্তি।

ছোটবেলায় মুখে তুলে খাওয়ানোর স্মৃতি খুব বেশি নেই। কারণ মা চাইতেন দুই বোন ছোট থেকেই স্বাধীন হোক। অসুস্থতা বা কঠিন পরিস্থিতিতে যেন নিজেরাই নিজেদের সামলে নিতে পারে—এই শিক্ষাই দিয়েছেন তিনি। আজ আইশা মনে করেন, সেই স্বাধীনতাই তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

তাদের সম্পর্কটা শুধু মা-মেয়ের নয়, অনেকটাই বন্ধুর মতো
তাদের সম্পর্কটা শুধু মা-মেয়ের নয়, অনেকটাই বন্ধুর মতো

মায়ের হাতের কাবাব তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। আর একটি বিশেষ স্মৃতি—জন্মের সপ্তাহেই বিটিভির একটি অনুষ্ঠানে মা ও তাকে ফিচার করা হয়েছিল। সেই দৃশ্য আজও তাঁর কাছে আবেগঘন, অমূল্য স্মৃতি।

জীবনের অনেক মুহূর্তেই আইশার মনে হয়েছে—মা না থাকলে হয়তো আজকের অবস্থানে পৌঁছানো হতো না। একসময় নাচের ক্লাসে যেতে চাইতেন না তিনি। কিন্তু মায়ের দৃঢ় সিদ্ধান্তেই সেই যাত্রা শুরু। আজ নাচ তাঁর পরিচয়ের বড় অংশ। পড়াশোনাতেও মায়ের কড়া নজর ছিল। তাই আজ যখন মানুষ তার ব্যবহার, উপস্থাপনা বা ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করেন, আইশা জানেন—তার বড় অংশই মায়ের শেখানো।

"তুমি শুধু মা নও, তুমি আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
"তুমি শুধু মা নও, তুমি আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

ব্যস্ত শুটিং, ক্লান্ত ভ্রমণ, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া—সবকিছুর মাঝেও মায়ের একটি ফোন কল তাকে শান্ত করে দেয়। “মা এমনভাবে কথা বলেন, যেন সব ঠিক হয়ে যাবে”—এই বিশ্বাসই তার সবচেয়ে বড় শক্তি।

মা দিবসে মাকে উদ্দেশ করে তাহিয়ার কণ্ঠে ছিল গভীর কৃতজ্ঞতা—

“মা, আমি তোমার কাছে ভীষণ কৃতজ্ঞ। আজ আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, তার পেছনে তোমার ত্যাগ, ধৈর্য আর শিক্ষা আছে। তুমি শুধু মা নও, তুমি আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।”

একজন সফল শিল্পীর আলো ঝলমলে পথচলার আড়ালে যে নিঃশব্দ প্রহরী থাকেন, তিনি একজন মা। আইশা খানের গল্প সেই চিরন্তন সত্যকেই আবার মনে করিয়ে দেয়—মা থাকলে পথ যত কঠিনই হোক, হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

অনুলিখন: নাদিয়া ইসলাম

ছবি: আইশা খান

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ১১: ০৫
বিজ্ঞাপন