
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা গেল, ত্বকের ওপেন পোরস কমাতে তিনি ভরসা রাখছেন এক বিশেষ যন্ত্রে—ফেসটাব।
সাধারণ আইস ফেশিয়ালে আমরা বরফ জলে মুখ ডুবিয়ে রাখি বা বরফ ঘষে নিই। কিন্তু দীর্ঘ সময় বরফ জলে মুখ ডুবিয়ে রাখা সহজ নয়—শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি, এমনকি কার্বন-ডাই-অক্সাইড জমে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
ফেসটাব মূলত একটি বিশেষ ফেশিয়াল কোল্ড প্লাঞ্জ ডিভাইস, যাতে শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য আলাদা একটি যন্ত্র সংযুক্ত থাকে। বরফ জলে মুখ ডোবানোর আগে ব্যবহারকারী মুখে সেই শ্বাসযন্ত্রটি পরেন। ফলে দীর্ঘ সময় ঠান্ডা জলে মুখ রাখলেও শ্বাস নিতে অসুবিধা হয় না। পুরো প্রক্রিয়াটি হয় নিয়ন্ত্রিত ও স্বস্তিদায়কভাবে।
বরফের ঠান্ডা স্পর্শ ত্বকে তাৎক্ষণিক কিছু পরিবর্তন আনে—
* চোখের ফোলা ভাব দ্রুত কমায়
* মুখের সামগ্রিক ফোলাভাব হ্রাস করে
* ক্লান্ত, নিস্তেজ চেহারায় ফিরিয়ে আনে সতেজতা
* ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
* ওপেন পোরস টাইট করতে সহায়ক
* ত্বকের ছোট গর্ত বা অসমান টেক্সচার কিছুটা মসৃণ দেখাতে সাহায্য করে
বিশেষ করে শুটিং, ইভেন্ট বা ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগে এই পদ্ধতি দ্রুত “স্কিন রিসেট” হিসেবে কাজ করে।

ত্বকের বয়স বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থামানো না গেলেও তার গতি ধীর করা যায়। নিয়মিত স্কিনকেয়ার, সুষম জীবনযাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিউটি ডিভাইস—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় দীর্ঘস্থায়ী গ্লো।
প্রিয়ঙ্কার এই ফেসটাব ব্যবহার দেখিয়ে দিল, বিউটি রুটিন এখন আর শুধু ক্রিম-সিরামে সীমাবদ্ধ নয়। প্রযুক্তিও ঢুকে পড়েছে স্কিনকেয়ারের জগতে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন—অতিরিক্ত ঠান্ডা ত্বকের জন্য সব সময় উপকারী নাও হতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে বা রোসেশিয়া, তীব্র ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা থাকলে আগে ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের।
গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝলকানি একদিকে, অন্যদিকে বিজ্ঞানভিত্তিক যত্ন—এই দুইয়ের মিলেই তৈরি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের স্কিনকেয়ার ট্রেন্ড। আর সেখানে ফেশিয়াল কোল্ড প্লাঞ্জ এখন নিঃসন্দেহে হট ফেভারিট।