
বিগত কয়েক বছর ধরে সৌন্দর্যপ্রেমীদের কাছে ‘গ্লাস স্কিন’ ছিল এক ধরনের স্বপ্ন। কোরিয়ান স্কিনকেয়ার থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ট্রেন্ডের মূল আকর্ষণ ছিল আয়নার মতো উজ্জ্বল, ডিউই বা শিশিরভেজা ত্বক। বহু বছর ধরেই বিউটি ইন্ডাষ্ট্রিতে রাজত্ব করেছে এই ‘গ্লাস স্কিন’ । তবে ২০২৬ সালে এসে সৌন্দর্য জগতে দেখা যাচ্ছে নতুন এক পরিবর্তন। সেই চকচকে গ্লো থেকে সরে এসে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন আরও স্বাভাবিক আর কোমল একটি লুকের দিকে। আর সেই নতুন ট্রেন্ডের নাম ‘ক্লাউড স্কিন’। নামের মতোই এই লুকের মূল বৈশিষ্ট্য হলো মেঘের মতো নরম, মসৃণ ও স্বাভাবিক দেখানো ত্বক। গ্লাস স্কিনের মতো এতে অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় না। বরং ফোকাস থাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক তৈরির দিকে। বিউটি লাভারদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই ট্রেন্ড মূলত তাদের জন্য, যারা ‘পারফেক্টলি ইমপারফেক্ট’ সৌন্দর্যে বিশ্বাস করেন।

বিউটি বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্লাউড স্কিন এমন একটি লুক, যেখানে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আড়াল না করে বরং আরও পরিশীলিতভাবে তুলে ধরা হয়। এতে ত্বকের ছোটখাটো অসম্পূর্ণতা বা খুঁতগুলো হালকাভাবে ঝাপসা হয়ে যায়, তবে ত্বককে ভারী মেকআপের স্তরে ঢেকে ফেলা হয় না। ফলে ত্বক দেখায় মসৃণ, সতেজ এবং স্বাভাবিক। গ্লাস স্কিনের মতো এতে অতিরিক্ত উজ্জ্বলতার ওপর জোর দেওয়া হয় না, আবার পুরোপুরি ম্যাট ফিনিশও নয়। বরং ম্যাট এবং গ্লোর একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্রণ তৈরি করা হয়, যা ত্বককে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত দেখায়। মূলত গ্লাস স্কিনের "চকচকে" ভাবের বদলে "ব্লার" বা নরম-অস্পষ্ট লুক তৈরি করার কনসেপ্টই ক্লাউড স্কিন।

বর্তমান সময়ে সৌন্দর্যচর্চায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ‘ন্যাচারাল লুক’-এর প্রতি মানুষের বাড়তে থাকা আগ্রহ থেকে। এখন আর সবাই নিখুঁত, ফিল্টার করা বা অতিরিক্ত গ্ল্যামারাস ত্বক খোঁজেন না। বরং এমন একটি লুকের চাহিদা বেড়েছে, যা দেখতে বাস্তব, স্বাভাবিক এবং সহজাত সৌন্দর্যের প্রতিফলন। কাঁচের মতো চকচকে গ্লো বা ভারী ম্যাট ফিনিশের বদলে অনেকেই এখন এমন ত্বক চান, যা সত্যিকারের ত্বকের মতোই দেখায়। আর ঠিক এই জায়গাতেই ক্লাউড স্কিন ট্রেন্ডটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো ব্যবহারিক সুবিধা। শীতকালে গ্লাস স্কিনের ডিউই ফিনিশ আকর্ষণীয় লাগলেও গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অতিরিক্ত চকচকে মেকআপ অনেক সময় ত্বককে তেলতেলে দেখাতে পারে। এমনকি দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকলে মেকআপ দ্রুত গলে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিপরীতে, ক্লাউড স্কিনের আসল আকর্ষণ হলো ত্বককে হালকা ম্যাট কিন্তু পর্যাপ্ত হাইড্রেটেড দেখানো। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আর্দ্র আবহাওয়ার দেশগুলোতে এই ট্রেন্ড বিশেষভাবে কার্যকর। বিশেষ করে যাদের ত্বক মিশ্র বা তৈলাক্ত, তাদের জন্য ক্লাউড স্কিন হতে পারে আদর্শ একটি বিকল্প।

না, গ্লাস স্কিন একেবারেই হারিয়ে যায়নি। যারা ঝলমলে, ডিউই সিগনেচার গ্লো পছন্দ করেন, তাদের কাছে গ্লাস স্কিন এখনও সমান জনপ্রিয়। তবে বিউটি ট্রেন্ডে এখন বৈচিত্র্য এসেছে। গ্লাস স্কিনের পাশাপাশি জায়গা করে নিচ্ছে ক্লাউড স্কিনও। মূলত যারা একটু বেশি স্বাভাবিক, পরিমিত এবং সহজে ক্যারি করা যায় এমন একটি লুক খুঁজছেন, তাদের কাছে ক্লাউড স্কিন হয়ে উঠছে আকর্ষণীয় একটি বিকল্প।
১. ত্বক প্রস্তুত করুন হাইড্রেটিং প্রাইমার দিয়ে

ত্বক ভালোভাবে ময়েশ্চারাইজড রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ সঠিক হাইড্রেশন থাকলেই মেকআপ মসৃণভাবে ব্লেন্ড হয় । তাই শুরুতে একটি জেন্টল হাইড্রেটিং প্রাইমার দিয়ে ত্বকের টেক্সচার স্মুথ করে নিতে হবে । প্রাইমার মেকআপকে দীর্ঘস্থায়ীও করে তোলে।
২. তৈরি করুন সফট, ন্যাচারাল বেস

ক্লাউড স্কিন লুকের মূলমন্ত্র হলো, কম মেকআপে বেশি সৌন্দর্য। এখানে লক্ষ্য থাকে নিজের স্বাভাবিক কমপ্লেক্সনকে আরও সুন্দর ও উজ্জ্বল করে তোলা, ঢেকে দেওয়া নয়। তাই এমন একটি ফাউন্ডেশন বা সিসি ক্রিম বেছে নেওয়া উচিত, যা আপনার ত্বকের রঙের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশে যায় এবং হালকা কভারেজ দেয়। কনসিলারও শুধু প্রয়োজনীয় জায়গাগুলোতেই ব্যবহার করুন। এরপর সামান্য কনট্যুর, উষ্ণ টোনের ব্লাশ এবং সফট হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন।
৩. লুজ পাউডার দিয়ে আনুন ‘ক্লাউড’ ইফেক্ট

ক্লাউড স্কিন লুকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি হলো লুজ সেটিং পাউডার ব্যবহার। অনেকটা জাদুকাঠির মতোই এটি ত্বকে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘ক্লাউড’ বা সফট-ফোকাস ইফেক্ট তৈরি করতে সাহায্য করে। তবে পুরো মুখে ভারীভাবে পাউডার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। বরং টি-জোনের মতো যেসব স্থানে তেল বেশি আসে, সেখানে হালকা করে পাউডার লাগালেই যথেষ্ট। এর উদ্দেশ্য হলো ত্বককে মসৃণ ও সফটলি ম্যাট রাখা, কিন্তু একই সঙ্গে স্বাভাবিক আভাও বজায় রাখা। ফলে ত্বক অতিরিক্ত চকচকে দেখাবে না, আবার একেবারে প্রাণহীন বা পাউডারি ম্যাটও লাগবে না।
ছবি: পেকজেলসডটকম