
পেপটাইড আসলে ক্ষুদ্র অ্যামিনো অ্যাসিড চেইন। যেগুলো আমাদের শরীর বা ত্বকে নির্দিষ্ট সংকেত পাঠায়। এই উপাদান মূলত ত্বকের-
• কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করে
• ইনফ্ল্যামেশন কমায়
• মাংসপেশি দ্রুত রিকভারি করে
• হরমোন সিগনালিং নিয়ন্ত্রণ করে
স্কিন সেরাম, ক্রিম, ওরাল সাপ্লিমেন্ট কিংবা ইনজেকশন, এসবের মাধ্যমে এখন পেপটাইডের ব্যবহার বেড়েছে।

ডার্মাটোলজিস্ট ডা. বিনদিলিশ জানান, স্ট্যাকিং মানে একাধিক পেপটাইড একসঙ্গে ব্যবহার করা, যাতে তাদের সম্মিলিত প্রভাব আলাদা আলাদা পেপটাইডের চেয়ে বেশি হয়। একটি পেপটাইড একটি মাধ্যমে কাজ করলেও, দু-তিনটি মাধ্যমে একসঙ্গে পেপটাইড গ্রহণ করলে, তা ত্বক বা শরীরকে আরও সম্পূর্ণভাবে সাপোর্ট দিতে পারে।
এই কারণেই স্কিন টাইটেনিং, ফাইন লাইন কমানো, রেডনেস হ্রাস, ব্যারিয়ার রিপেয়ার—সবকিছুতেই স্ট্যাকিং দ্রুত কাজ করে।

সেলিব্রিটি স্কিন ব্র্যান্ড যেমন, ডুয়া লিপার ডিউইএ (DUA) বা হেইলি বিবারের রোড, পেপটাইডকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা এর সঙ্গে ড্রপার, নীল বোতল ও কপার পেপটাইড রুটিন দেখাতে শুরু করলে ব্যাপারটি ঝড় তোলে। এর ফলে অনেকের কাছেই মনে হয়েছে পেপটাইড একটা শর্টকাট টু গ্লোয়িং স্কিন। বিউটিকেয়ার পাশাপাশি দ্রুত রেজাল্ট, ব্যক্তিগত মিশ্রণ তৈরি করার সুযোগ—সব মিলিয়ে এটি এখন দীর্ঘায়ু, গাট হেলথ এবং রিকভারি কালচারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আরও শক্ত অবস্থান নিয়েছে।
ডার্মাটোলজিস্টরা কয়েকটি কার্যকর কম্বিনেশন সাজেস্ট করেন—
১. কোলাজেন + টাইটেনিং স্ট্যাক: মেট্রিক্সসেল ৩০০০ (কোলাজেন সিগনালিং) + Argireline (মাইক্রো-এক্সপ্রেশন লাইনে কাজ করে)
২. রিপেয়ার + ব্যারিয়ার স্ট্যাক: Copper peptides (GHK-Cu) + Palmitoyl tripeptide-1
৩. অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি + পিগমেন্টেশন স্ট্যাক: Acetyl tetrapeptide-40 (রেডনেস কমায়)+ Oligopeptide-68 (ব্রাইটনিং)

ওরাল সাপ্লিমেন্টেও স্ট্যাকিং এর ক্ষেত্রে -
গ্লুটাথায়ন + ভিটামিন C + কোলাজেন,
বা NAD + ভিটামিন C + কোলাজেন পেপটাইড।
তবে ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ ত্বকের ধরন ও চাহিদা মাত্রা নির্ধার করা উচিত, একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই এ বিষয়ে ভালো পরামর্শ দিতে পারে। এমনকি তাদের মতে ত্বককে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।

পেপটাইড ছোট হলেও এদের প্রভাব শরীরের গভীর স্তরের সিগনালিং-এ পৌঁছে। একাধিক পেপটাইড একসঙ্গে নিলে এগুলো মাঝে মাঝে একে অপরকে—
• ওভারল্যাপ
• অ্যামপ্লিফাই
• বা ইন্টারফেয়ার করতে পারে। ফলে দেখা দিতে পারে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা:
ত্বকে:
* জ্বালা, রেডনেস
* ব্রেকআউট
* পেপটাইডের স্ট্যাবিলিটি নষ্ট হওয়া। (যেমন অ্যাসিডের সঙ্গে কপার পেপটাইড ঠিকভাবে কাজ করে না)
শরীরে:
* মুড পরিবর্তন
* ঘুমের সমস্যা
* রক্তে গ্লুকোজ ওঠানামা
* যকৃৎ ও কিডনির উপর চাপ
বিশেষ করে ইনজেক্টেবল পেপটাইড মেশানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ—এটি অবশ্যই চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে করতে হয়।

তাহলে সমাধান?
পেপটাইড স্ট্যাকিং কার্যকর—কিন্তু প্রয়োজন ভিষণ সতর্কতা,
• নিজের স্কিন টাইপ অনুযায়ী বেছে নেওয়া
• সব পেপটাইড একসঙ্গে না দিয়ে রুটেশন করা
• কপার পেপটাইডের সঙ্গে শক্ত অ্যাসিড/রেটিনয়েড না মেশানো
• নতুন কিছু শুরু করার আগে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া
পেপটাইড এই মুহূর্তের বিউটি সাইন্সের তারকা—আর স্ট্যাকিং মানে সেই তারকাদের দলবদ্ধ করে দ্রুত, লক্ষ্যভিত্তিক কাজ করানো। তবে যত উন্নত হচ্ছে টেকনোলজি, তত বাড়ছে দায়িত্বও। তাই ট্রেন্ডে ভেসে না গিয়ে নিজের ত্বক, শরীর এবং লাইফস্টাইল বুঝে পণ্য ব্যবহারই সবচেয়ে সঠিক পথ।
সূত্র: ভোগ ও স্কিনকেয়ার
ছবি: এআই