রেটিনয়েড: ত্বককে দেয় নতুন জীবন, কিন্তু কিছু সাবধানতা মানা জরুরি
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ত্বকের যত্নে নতুন কিছু খোঁজার নেশা আজ আমাদের প্রায় সবার মধ্যেই। বাজারে এসেছে নানা ধরনের সিরাম, ক্রিম, অ্যাকটিভ উপাদান। এর মধ্যেই সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নাম রেটিনয়েড। বলা হয়, নিয়মিত ব্যবহার করলে এটি নাকি ত্বককে নতুন প্রাণ দিতে পারে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এর ব্যবহারে যেমন উপকার আছে, তেমনি আছে কিছু ঝুঁকিও।

নতুন কোষগুলো তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হয়
নতুন কোষগুলো তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হয়

সম্প্রতি চিকিৎসক সারমেদ মেজহার একটি ভিডিওতে জানিয়েছেন, রেটিনয়েড এমন এক উপাদান যা ত্বকের কোষের পুনর্জন্মের হার বাড়ায় এবং কোলাজেন উৎপাদনকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে ত্বক হয় মসৃণ, দাগহীন ও টান টান। বয়সের ছাপ কমাতে, পোরস বন্ধ করতে ও স্কিন টেক্সচার উন্নত করতে এর জুড়ি নেই।

তবে ডা. মেজহার সতর্ক করে বলেন, “যে উপাদান ত্বকে প্রভাব ফেলতে পারে, তার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে।”

রেটিনয়েডে কীভাবে কাজ করে

রেটিনয়েড ত্বকের কোষ নবায়নের গতি বাড়িয়ে দেয়। তাই পুরোনো, মৃত কোষ উঠে গিয়ে নতুন কোষের পুনর্জন্ম হয়। এর ফলেই অনেক সময় ত্বকে খসখসে ভাব, চামড়া ওঠা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। ডা. মেজহারের মতে, “এটা আসলে আপনার ত্বকের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়ারই অংশ।”

কিন্তু এখানেই যত সতর্কতা। নতুন কোষগুলো তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল হয়। তাই সূর্যের আলো, গরম বাতাস বা প্রসাধনীতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড একেবারেই নিষিদ্ধ
গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড একেবারেই নিষিদ্ধ

চিকিৎসকের মতে, রেটিনয়েড ব্যবহারে যেসব সমস্যা হতে পারে—

* ত্বক সূর্যালোকে বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

* জ্বালা, লালচে ভাব বা হালকা পোড়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।

* অতিরিক্ত শুষ্কতা বা চামড়া উঠে খসখসে হতে পারে।

* গর্ভাবস্থায় রেটিনয়েড একেবারেই নিষিদ্ধ।

ঝুঁকি কমানোর উপায়

প্রথম সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার শুরু করে ধীরে ধীরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ান
প্রথম সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার শুরু করে ধীরে ধীরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ান

রেটিনয়েড ব্যবহার করতে চাইলে কিছু মৌলিক নিয়ম মানা জরুরি—

* প্রতিদিন SPF ৫০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।

* নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ত্বক আর্দ্র রাখুন।

* সূর্যের আলো এড়িয়ে চলুন এবং প্রয়োজনে হ্যাট বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন।

* প্রথম সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার শুরু করে ধীরে ধীরে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ান।

ডা. মেজহার শেষে বলেন, “কোনো সক্রিয় উপাদানই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়।”

রেটিনয়েড ত্বকের যত্নে এক যুগান্তকারী উপাদান, তবে ব্যবহার শুরু করার আগে জানা জরুরি এর প্রকৃত কার্যপ্রণালী ও সীমাবদ্ধতা। সঠিক নিয়ম মেনে চললেই এই উপাদান আপনার ত্বককে সত্যিই দিতে পারে এক ‘নতুন জীবন’।

সূত্র: চিকিৎসক সারমেদ মেজহার–এর ইনস্টাগ্রাম

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮: ৫১
বিজ্ঞাপন