
ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে মূলত ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়, ফলে হয়ে পড়ে নিস্তেজ ও প্রাণহীন। এই সময়ে নিয়মিত অলিভ অয়েলের ব্যবহার ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এ ছাড়া এতে প্রচুর ভিটামিন এ ও ই-এর সঙ্গে ভিটামিন ডি থাকে, যা ত্বকের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশকে সর্বোচ্চ সুরক্ষা প্রদান করে। তাই অলিভ অয়েলকে সরাসরি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কিংবা কোনো ময়েশ্চারাইজারিং লোশন বা ক্রিমের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যবহার করলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। ত্বককে নরম ও কোমল করে তুলতে অলিভ অয়েলের তুলনা হয় না। তাই শীত শুরুর আগে থেকেই অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো। কারণ এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ক্ষতিকর পর্যায়ের চেয়ে বেশ কম থাকে।

স্পেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলিভ অয়েল উৎপাদনকারী দেশ। সেখানকার প্রিমিয়াম মানের অলিভ অয়েলে থাকে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ই, পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলো ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে। শীতের কারণে ত্বকে যে রুক্ষতা, খোসা ওঠা বা টান টান ভাব দেখা যায়, অলিভ অয়েলের নিয়মিত ব্যবহারে তা ধীরে ধীরে কমে আসে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ত্বক সুরক্ষা ও রিপেয়ার
অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। শীতকালে দূষণ ও ঠান্ডা বাতাস ত্বকের স্বাভাবিক ব্যারিয়ার দুর্বল করে দেয়। এই অবস্থায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ অলিভ অয়েল ত্বকের সুরক্ষা-স্তর মজবুত করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক রিপেয়ারে সাহায্য করে। ফলে ত্বক দেখায় স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত।
ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। এটি ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং দীর্ঘক্ষণ ত্বককে নরম ও কোমল রাখে। গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল ম্যাসাজ করলে ত্বক সহজেই তেল শোষণ করে নেয়। শীতকালে হাত, পা, কনুই ও হাঁটুর মতো শুষ্ক অংশে অলিভ অয়েল বিশেষভাবে উপকারী।

ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও অলিভ অয়েল সমান কার্যকর। শীতে মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে খুশকি ও চুল পড়ার সমস্যা বাড়ে। অলিভ অয়েল মাথার ত্বকে পুষ্টি জোগায়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। সপ্তাহে অন্তত দুবার কুসুম গরম অলিভ অয়েল দিয়ে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করলে চুল নরম, উজ্জ্বল ও সহজে জটমুক্ত থাকে। অলিভ অয়েল কুসুম গরম করে তাতে চায়ের লিকার মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নেওয়া যায়। সঠিক নিয়মে এটি ব্যবহার করলে কন্ডিশনারের মতো কাজ করবে অর্থাৎ চুল নরম ও মোলায়েম হবে। সঙ্গে ঔজ্জ্বল্যও ফিরে আসবে।
অলিভ অয়েল উপকারী হলেও অতিরিক্ত ব্যবহার না করাই ভালো। অল্প পরিমাণে নিয়মিত ব্যবহারেই ভালো ফল পাওয়া যায়। যাঁদের ত্বক বা মাথার ত্বক খুব তেলতেলে, তাঁদের সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করাই ভালো। অলিভ অয়েল ভেজা ত্বকেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের রুক্ষ আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের প্রাকৃতিক যত্নে প্রিমিয়াম স্প্যানিশ অলিভ অয়েল হতে পারে নির্ভরযোগ্য সমাধান। এই শীতে ত্বক ও চুলের প্রাণ ফিয়ে আনতে বেছে নিতে পারেন মেরিল প্রিমিয়াম স্প্যানিশ অলিভ অয়েলের মতো কার্যকরী উপকরণ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজারসমৃদ্ধ এই উপকরণ শীতকাল জুড়ে ত্বককে রিপেয়ার করে, ফিরিয়ে আনে মসৃণতা ও কোমলতা।
ছবি: ফ্রিপিক ও মেরিল