
২০২৬ সালে জেন–জির কাছে শুধু আকর্ষণীয় প্যাকেজিং কিংবা চটকদার মার্কেটিং যথেষ্ট নয়। তাঁরা জানতে চান পণ্যটি আসলে কী করে, এর ইনগ্রেডিয়েন্ট কী এবং প্রতিদিনের বিউটি রুটিনে এটি কতটা প্রয়োজনীয়।
একসময় ‘ভেগান’, ‘ক্রুয়েলটি-ফ্রি’, ‘ক্লিন’ কিংবা ‘লং-লাস্টিং’-এর মতো শব্দই বিউটি প্রোডাক্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিল। এখন জেন–জির কাছে এসব আর বাড়তি সুবিধা নয়; বরং একটি ভালো বিউটি প্রোডাক্টই তাদের আসল প্রত্যাশা। ফলে বদলে যাচ্ছে বিউটি ইন্ডাস্ট্রির আলোচনাও । মার্কেটিং বাজওয়ার্ড থেকে ফোকাস চলে যাচ্ছে পারফরম্যান্স, ট্রান্সপারেন্সি এবং ইনগ্রেডিয়েন্ট-ভিত্তিক ইনোভেশনের দিকে।

জেন–জির বিউটি শপিংয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হলো পণ্যের কার্যকারিতাকে গুরুত্ব দেওয়া। কোনো প্রোডাক্ট কতটা জনপ্রিয় বা তার প্যাকেজিং কতটা আকর্ষণীয়, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সেটি সত্যিই কোনো সমস্যার সমাধান করছে কি না।
অর্থাৎ জেন–জিরা ‘প্রোডাক্টে কী আছে’ এখন আর তা জানতে চায় না। তারা জানতে চায় পণ্যটি আমার জন্য কী করবে। কোনো প্রোডাক্ট কি সত্যিই প্রয়োজনীয়? নিয়মিত ব্যবহার করা সহজ কি? বিউটি ব্যাগে এর জায়গা পাওয়ার মতো যথেষ্ট কার্যকর কি? এমন প্রশ্নই ক্রয়ের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।

জেন–জির ব্যস্ত ও দ্রুতগতির জীবনযাত্রার প্রভাব পড়ছে বিউটি রুটিনেও। দীর্ঘ সময় ধরে একের পর এক প্রোডাক্ট ব্যবহারের বদলে তাঁরা এমন ফর্মুলার দিকে ঝুঁকছেন, যা একসঙ্গে একাধিক প্রয়োজন মেটাতে পারে।
বিশেষ করে মেকআপের ক্ষেত্রে স্কিনকেয়ার ও মেকআপ, দুই সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায় এমন প্রোডাক্টের চাহিদা বাড়ছে। একটি প্রোডাক্ট যদি স্কিনকেয়ারের সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো কভারেজ বা ফিনিশও দিতে পারে, তাহলে সেটিই হয়ে উঠছে বেশি আকর্ষণীয়।
অর্থাৎ জেন–জির কাছে কনভিনিয়েন্স এখন আর মানের সঙ্গে আপস নয়। বরং কম সময়ে বেশি সুবিধা পাওয়াই হয়ে উঠছে বিউটি ইনোভেশনের অন্যতম মাপকাঠি।

বিউটি শপিংয়ে জেন–জির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ইনগ্রেডিয়েন্ট সম্পর্কে আগ্রহ। পণ্যের সামনে লেখা বড় বড় দাবি দেখেই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না; বরং অনেকেই প্রোডাক্টের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট পড়ছেন এবং নির্দিষ্ট উপাদান সম্পর্কে তথ্য খুঁজে দেখছেন।
বিশেষ করে হেয়ারকেয়ার প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে এই সচেতনতা আরও স্পষ্ট। কোনো প্রোডাক্টে প্যানথেনল বা আরগান অয়েলকে প্রধান উপাদান হিসেবে তুলে ধরা হলে ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্টে সেগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
একইভাবে ‘ফ্র্যাগরেন্স’ বা ‘পারফিউম’ কোথায় রয়েছে, সেটিও দেখে নিচ্ছেন সচেতন ক্রেতারা। ফলে শুধু বিজ্ঞাপনের ভাষা নয়, প্রোডাক্টের লেবেলও হয়ে উঠছে ক্রেতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

জেন–জির কাছে কোনো ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় ব্র্যান্ডটি কতটা স্বচ্ছ।
কোন ইনগ্রেডিয়েন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, কেন ব্যবহার করা হয়েছে, প্রোডাক্টটি কীভাবে কাজ করবে এবং ব্র্যান্ড তার দাবির কতটা বাস্তব প্রমাণ দিতে পারছে। এসব বিষয় নিয়ে জেন–জি আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রশ্ন করছে।
ফলে বিউটি ব্র্যান্ডগুলোর জন্য শুধু ভালো প্যাকেজিং কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া যথেষ্ট নয়। ক্রেতার আস্থা ধরে রাখতে হলে প্রোডাক্টের মান, ধারাবাহিকতা এবং কমিউনিকেশনে স্বচ্ছতা থাকতে হচ্ছে।

২০২৬ সালের বিউটি মার্কেটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ব্যক্তিগত প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। জেন–জি এমন প্রোডাক্ট খুঁজছে, যা তাদের স্কিন টাইপ, স্কিন টোন, লাইফস্টাইল এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই।
বিশেষ করে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার জন্য উপযোগী ফর্মুলা, বিভিন্ন স্কিন টোনের সঙ্গে মানানসই মেকআপ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে আরামদায়ক প্রোডাক্টের চাহিদা বাড়ছে।
একই সঙ্গে সাসটেইনেবিলিটিও জেন–জির বিবেচনায় থাকছে। রেসপনসিবল সোর্সিং, থটফুল প্যাকেজিং এবং পরিবেশের ওপর কম প্রভাব ফেলে এমন উৎপাদনপ্রক্রিয়ার দিকেও নজর দিচ্ছে বিউটি কনজিউমাররা।

২০২৬ সালের বিউটি ট্রেন্ডের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সম্ভবত কোনো নির্দিষ্ট ইনগ্রেডিয়েন্ট বা ভাইরাল প্রোডাক্ট নয়। পরিবর্তনটি আসলে ঘটছে কনজিউমার মাইন্ডসেটে।
জেন–জি কম প্রোডাক্ট কিনতে চাইছে, কিন্তু কেন কিনছে সে বিষয়ে বেশি নিশ্চিত হতে চাইছে। একটি প্রোডাক্ট সত্যিই প্রয়োজন কি না, নিয়মিত ব্যবহার করা হবে কি না এবং এর প্রাইসের তুলনায় পারফরম্যান্স যথেষ্ট কি না। এসব প্রশ্ন ক্রয়ের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ফলে বিউটি ইন্ডাস্ট্রিও ধীরে ধীরে ‘মোর প্রোডাক্টস’ থেকে ‘বেটার প্রোডাক্টস’-এর দিকে এগোচ্ছে।
২০২৬-এর বিউটি কনজিউমারকে তাই শুধু ট্রেন্ড অনুসরণকারী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জেন–জি এখন ব্র্যান্ডের দাবি যাচাই করছে, ইনগ্রেডিয়েন্ট নিয়ে প্রশ্ন করছে এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোডাক্ট বেছে নিচ্ছে।
বিউটির ভবিষ্যৎ তাই হয়তো আরও বেশি প্রোডাক্টে নয়। বরং কম প্রোডাক্ট, বেশি পারফরম্যান্স, পরিষ্কার ইনগ্রেডিয়েন্ট এবং সত্যিকারের ট্রান্সপারেন্সিতেই।
সূত্র: ফোর্বস, বিওএফ
ছবি: এআই