
চিকিৎসকের মতে, দুটিরই কিছু সুবিধা থাকলেও অতিরিক্ত গরম বা খুব ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলাই ভালো। বরং এমন আবহাওয়ায় ত্বক ও চুলের যত্নে সবচেয়ে আরামদায়ক হতে পারে কুসুম গরম পানি।

বৃষ্টিতে ভিজে ঘরে ফেরার পর গরম পানির গোসল বেশ আরামদায়ক মনে হতে পারে। শরীরের ঘাম, তেল ও জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করতেও এটি সহায়ক। কিন্তু পানি যদি খুব বেশি গরম হয়, তখন উল্টো ক্ষতি হতে পারে। অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে ফেলতে পারে। এতে ত্বক শুষ্ক, লাল ও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। যাদের একজিমার মতো ত্বকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম পানি অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
চুলের ক্ষেত্রেও খুব গরম পানি আদর্শ নয়। এতে চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চুল রুক্ষ ও ফ্রিজি হয়ে যেতে পারে। এই সময়ের আর্দ্র আবহাওয়ায় এমনিতেই চুল সামলানো কঠিন, তাই খুব গরম পানি ব্যবহার করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।

ভ্যাপসা গরমের দিনে ঠান্ডা পানির গোসল নিঃসন্দেহে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। শরীরও কিছুটা ঠান্ডা লাগে। তবে শরতের শুরু ও বর্ষার শেষ এই সময় আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় হঠাৎ খুব ঠান্ডা পানিতে গোসল করাও সবার জন্য আরামদায়ক নাও হতে পারে।
বিশেষ করে বৃষ্টির পর শরীরের তাপমাত্রা যখন কিছুটা কম থাকে, তখন খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে শরীরে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাছাড়া ঠান্ডা পানি ত্বকে জমে থাকা ঘাম, তেল ও ময়লা পরিষ্কারে উষ্ণ পানির মতো কার্যকর নাও হতে পারে। আর্দ্র পরিবেশে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার না রাখলে ব্রণ বা ফাঙ্গাল সংক্রমণের মতো সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

গরমও নয়, ঠান্ডাও নয় এই সময় গোসলের জন্য সবচেয়ে ভালো পছন্দ হতে পারে কুসুম গরম পানি। বিশেষজ্ঞের মতে, এই মাঝামাঝি তাপমাত্রার পানি শরীর পরিষ্কার করার পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
কুসুম গরম পানি ঘাম, তেল ও ময়লা পরিষ্কার করতে যথেষ্ট উষ্ণ, আবার অতিরিক্ত গরম পানির মতো ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও অতিরিক্তভাবে সরিয়ে দেয় না। ফলে আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বক থাকে পরিষ্কার ও স্বস্তিতে, আবার অতিরিক্ত শুষ্কও হয়ে পড়ে না।

গোসল দীর্ঘ করবেন না: প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে গোসল শেষ করার চেষ্টা করুন। দীর্ঘ সময় পানিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে গোসল করুন: বাইরে থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ফিরলে শরীর ও ত্বক পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টিফাঙ্গাল সাবান ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই।
ত্বক ভেজা থাকতেই ময়েশ্চারাইজার: গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই হালকা, নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানি এড়িয়ে চলুন: এই সময়ের গোসলের মূলমন্ত্র হতে পারে ভারসাম্য। খুব গরম বা খুব ঠান্ডার বদলে কুসুম গরম পানি বেছে নিন।
এই সময় গোসলের জন্য তাই আলাদা কোনো কঠিন নিয়মের প্রয়োজন নেই। শরীরকে আরাম দেওয়া, ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই মূল কথা। আর এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে কুসুম গরম পানিই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ পছন্দ।
সূত্র: হেলথলাইন
ছবি: এআই