শীতে ঠোঁটের ময়েশ্চার ধরে রাখবেন যেভাবে
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আমাদের সৌন্দর্যে ঠোঁটের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও ত্বকের যত্নে যতটা সচেতন থাকি, প্রায় সময় ঠোঁটের ক্ষেত্রে ততটা সচেতন থাকি না। অথচ সামান্য কিছু অভ্যাস আর সঠিক যত্নেই ঠোঁট রাখা যায় কোমল ও ময়েশ্চারাইজড। ঠোঁট কেন খুব সহজেই রুক্ষ ও মলিন হয়ে পড়ে এবং কীভাবে, এর থেকে পরিত্রাণের উপায় কী—চলুন জানা যাক।

ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার পেছনের সাধারণ অভ্যাসগুলো

শীতে ঠোঁট শুষ্ক হওয়ার প্রধান কারণ হলো ঠোঁটের ত্বকে প্রাকৃতিক তেলগ্রন্থি না থাকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কম। এর সঙ্গে যোগ হয় ঠান্ডা বাতাস ও রোদের প্রভাব। পর্যাপ্ত পানি পান না করাও একটি বড় কারণ। শীতে পিপাসা কম লাগলেও শরীরের পানিশূন্যতার প্রভাব প্রথমে দেখা দেয় ঠোঁটেই। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার কিংবা ঠোঁটে অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনী প্রয়োগ—এসব কারণেও ঠোঁট তার স্বাভাবিক কোমলতা হারায়। তাই শীতকালে ঠোঁটের যত্নে সচেতন না হলে অল্প সময়েই ঠোঁট হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক ও মলিন।

শীতকালে ঠোঁটের ময়েশ্চার ধরে রাখার কয়েকটি উপায়

শীতে ভিটামিনসমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন মেরিলের ভিটামিন-ই–সমৃদ্ধ লিপবামের মতো পণ্যগুলো
শীতে ভিটামিনসমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন মেরিলের ভিটামিন-ই–সমৃদ্ধ লিপবামের মতো পণ্যগুলো

১. ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকা

শীতকালে ঠোঁটের যত্নের প্রাথমিক ধাপ হলো নিজেকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখা। অন্যথায় যা কিছুই করা হোক–না কেন, সবই বৃথা। শীতকালে পিপাসা কম লাগলেও দিনভর পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। শরীরের পানিশূন্যতা ঠোঁটে দ্রুত প্রভাব ফেলে এবং ঠোঁট ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখলে ঠোঁটের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।

২. ঠোঁটের স্বাভাবিক কোমলতা বজায় রাখতে এক্সফোলিয়েশন

শীতকালে ঠোঁটের যত্নে সচেতন না হলে অল্প সময়েই ঠোঁট হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক ও মলিন
শীতকালে ঠোঁটের যত্নে সচেতন না হলে অল্প সময়েই ঠোঁট হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক ও মলিন

মৃত কোষ জমে থাকলে ঠোঁট আরও বেশি শুষ্ক দেখায়। তাই সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন হালকা এক্সফোলিয়েশন প্রয়োজন। চিনি ও মধু দিয়ে হালকা হাতে স্ক্রাব করলে ঠোঁটের মৃত কোষ দূর হয় এবং ময়েশ্চার ভালোভাবে শোষিত হয়। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাব করা থেকে বিরত থাকতে হবে, এতে ঠোঁট সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

৩. দিনে ও রাতে লিপ কেয়ার রুটিন

দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়ার আগে ঠোঁট সুরক্ষিত রাখা জরুরি। শুষ্ক বাতাস ও রোদের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ঠোঁটকে বাঁচাতে নিয়মিত লিপ কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করা উচিত। রাতে ঘুমানোর আগে ময়েশ্চারাইজার বা লিপবাম লাগালে সারা রাত ঠোঁট হাইড্রেটেড থাকে এবং সকালে ঠোঁট হয়ে ওঠে নরম ও মসৃণ। সেই সঙ্গে ভিটামিনসমৃদ্ধ লিপ কেয়ারে মিলবে বাড়তি সুরক্ষা। ভিটামিনসমৃদ্ধ লিপবাম ব্যবহার করতে চাইলে বেছে নিতে পারেন মেরিলের ভিটামিন-ই–সমৃদ্ধ লিপবামের মতো পণ্যগুলো। তাদের রয়েছে তিনটি ফ্লেভারের লিপবাম—লেমন, স্ট্রবেরি, পোমেগ্রানেট। এগুলো ঠোঁটকে কোমল ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করার পাশাপাশি ঠোঁট কালো হয়ে যাওয়া থেকেও রক্ষা করে। আর অরেঞ্জ ফ্লেভারের ভিটামিন-সি লিপ জেল ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করার পাশাপাশি ঠোঁটকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকেও রক্ষা করে।

কিছু অভ্যাস আর সঠিক যত্নেই ঠোঁট রাখা যায় কোমল ও ময়েশ্চারাইজড
কিছু অভ্যাস আর সঠিক যত্নেই ঠোঁট রাখা যায় কোমল ও ময়েশ্চারাইজড

৪. শীতে লিপস্টিক ব্যবহারে সতর্কতা

শীতকালে দীর্ঘ সময় ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই এ সময়ে ময়েশ্চারাইজিং বা ক্রিমি লিপস্টিক ব্যবহার করাই ভালো। তবে ম্যাট লিপস্টিক ব্যবহার করতে হলে ঠোঁটকে ভালোভাবে প্রস্তুত করে নিন। লিপস্টিক ব্যবহারের আগে ঠোঁটে ভালো মানের কোনো লিপবাম ব্যবহার করুন। এতে ঠোঁট থাকে সুরক্ষিত এবং লিপস্টিকও সুন্দরভাবে বসে।

শীতকালে ঠোঁটের যত্ন কোনো আলাদা কাজ নয়, বরং দৈনন্দিন রুটিনেরই একটি অংশ। সঠিক অভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত এক্সফোলিয়েশন এবং উপযুক্ত লিপ কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের মাধ্যমে শীতের রুক্ষতাকে দূর করে ঠোঁট রাখা সম্ভব নরম, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়।

ছবি: ফ্রিপিক ও মেরিল

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭: ১৯
বিজ্ঞাপন