
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডভিত্তিক চিকিৎসক ডা. কুণাল সুদ জানাচ্ছেন, স্ক্যাল্পে খোসা বা স্ক্যাব তৈরি হওয়া সাধারণত ত্বকের ভেতরের প্রদাহজনিত সমস্যার ফল। সময়মতো কারণ চিহ্নিত না করলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে জটিল আকার নিতে পারে।

স্ক্যাল্প ফ্লেকিং বা খোসা ওঠার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
* সেবোরেইক ডার্মাটাইটিস (ড্যানড্রাফ): স্ক্যাল্পে অতিরিক্ত তেল ও ইস্টের উপস্থিতিতে ত্বক উত্তেজিত হয়ে পড়ে
* ফলিকিউলাইটিস: চুলের গোড়ায় প্রদাহ বা সংক্রমণ
* অ্যাকনের মতো ছোট বাম্পস
* স্ক্যাল্প সোরিয়াসিস: যেখানে ইমিউন সিস্টেম অস্বাভাবিকভাবে ত্বকের কোষ উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়
* চুলের পণ্যে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
* শুষ্ক আবহাওয়া বা রুক্ষ হেয়ার প্রোডাক্ট
বিশেষ করে স্ক্যাল্প সোরিয়াসিসের ক্ষেত্রে ত্বকে ঘন স্কেল, লালচে ভাব ও খোসা দেখা যায়, যা চুলকাতে গিয়ে স্ক্যাবে পরিণত হতে পারে।

অনেকেরই অভ্যাস—চুলকানি বা অস্বস্তি হলেই স্ক্যাব তুলে ফেলা। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এতে স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে যায়। ফলে—
* সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে
* প্রদাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়
* ক্ষত সারতে বেশি সময় লাগে
দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে দেখা দিতে পারে—
* স্ক্যাল্পে দাগ বা স্কার
* চুল পাতলা হয়ে যাওয়া
* নির্দিষ্ট জায়গায় চুল পড়া বা হেয়ার লস

কিছু ক্ষেত্রে স্ক্যাব খোঁটার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, যাকে বলা হয় এক্সকরিয়েশন ডিসঅর্ডার। এটি অনেক সময় মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সঙ্গেও যুক্ত।
সমাধান কী?
এই সমস্যা সমাধানের জন্য শুধু স্ক্যাব খোঁটা বন্ধ করলেই যথেষ্ট নয়। মূল কারণ চিহ্নিত করে চিকিৎসা করাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে—
* প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেটেড শ্যাম্পু ব্যবহার
* টপিক্যাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ট্রিটমেন্ট
* মানসিক চাপ কমানো ও স্ক্যাল্পে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন ট্রিগার এড়িয়ে চলা
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—যদি স্ক্যাল্পে দীর্ঘদিন ধরে খোসা, ব্যথা বা অস্বস্তি থাকে, তবে অবশ্যই একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া।
স্ক্যাল্পের যত্ন শুধু চুলের সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি সরাসরি আমাদের ত্বক ও সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গে জড়িত। ছোট মনে হওয়া একটি অভ্যাস বা উপসর্গই কখনো কখনো বড় সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই অবহেলা নয়, সচেতন যত্নই হোক স্ক্যাল্প কেয়ারের প্রথম ধাপ।