
এই পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক কিংবা ইউটিউবে স্কিনকেয়ার বিষয়ক কনটেন্ট, ‘গেট রেডি উইথ মি’ ভিডিও, বিউটি ইনফ্লুয়েন্সারদের পরামর্শ এবং ডার্মাটোলজিস্টদের তথ্যভিত্তিক আলোচনা সানস্ক্রিন সম্পর্কে মানুষের ধারণাই বদলে দিয়েছে। একসময় যেটিকে অনেকেই ঐচ্ছিক মনে করতেন, আজ সেটিই ত্বক সুরক্ষার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা শুধু ত্বকের তাৎক্ষণিক সৌন্দর্য নয়, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। ত্বকে কালচে দাগ, পিগমেন্টেশন, অকাল বার্ধক্য কিংবা অতিবেগুনি রশ্মির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার ফলে প্রতিরোধমূলক স্কিনকেয়ারের প্রতি আগ্রহও বেড়েছে।

সানস্ক্রিন ব্যবহারের ধারণায়ও এসেছে বড় পরিবর্তন। আগে অনেকেই মনে করতেন, কেবল রোদে বের হলে বা সমুদ্রসৈকতে গেলে সানস্ক্রিন প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে মানুষ বুঝতে শিখেছে যে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব শুধু সরাসরি রোদেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিনের যাতায়াত, জানালার পাশে বসে কাজ করা কিংবা অল্প সময়ের জন্য বাইরে বের হওয়াও ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহারের গুরুত্ব আরও বেশি করে সামনে এসেছে।

একই সঙ্গে বাজারে এসেছে নতুন প্রজন্মের সানস্ক্রিন। হালকা টেক্সচার, নন-স্টিকি ফর্মুলা, ময়েশ্চারাইজার ও মেকআপের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়ার সুবিধা তরুণদের কাছে পণ্যটিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে। ফলে প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার এখন আর ঝামেলার বিষয় নয়।
ভারতের মতো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সানস্ক্রিনের গুরুত্ব আরও বেশি। অনেকেই মনে করেন, গায়ের রং অপেক্ষাকৃত শ্যামলা হওয়ায় ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই সুরক্ষিত। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেলানিন কিছুটা সুরক্ষা দিলেও এটি ত্বককে সম্পূর্ণভাবে রোদজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে না। দীর্ঘদিন অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে ট্যানিং, হাইপারপিগমেন্টেশন, অসম ত্বকের রং, মেলাজমা, ব্রণের দাগ এবং ফটোএজিংয়ের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বর্তমান সময়ে অনলাইনে স্কিনকেয়ার নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও এসেছে এই প্রতিরোধমূলক সৌন্দর্যচর্চা। দ্রুত ফল পাওয়ার প্রতিশ্রুতির বদলে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি ত্বক সুরক্ষায়। আর সেই দর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে সানস্ক্রিন।

‘এসপিএফ জেনারেশন’-এর উত্থান আসলে সৌন্দর্যচর্চার একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। এটি এমন এক প্রজন্মের গল্প, যারা সচেতনতা, নিয়মিত যত্ন এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নিজেদের ত্বকের যত্ন নিতে শিখছে। আর এই যাত্রার শুরুটা হচ্ছে একটি সহজ অভ্যাস দিয়ে, প্রতিদিন সানস্ক্রিন ব্যবহার।
সূত্র: ভোগ ইন্ডিয়া, স্কিনডটকম
ছবি: এআই