শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বক বাঁচাতে চাই এক্সফোলিয়েট
শেয়ার করুন
ফলো করুন

দুই ধরনের এক্সফোলিয়েশন বেশি প্রচলিত ফিজিক্যাল ও কেমিক্যাল। কারও ত্বক যদি আবহাওয়া ও  দূষণের প্রভাবে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাহলে ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েশন করতে হবে। এ ধরনের এক্সফোলিয়েটর বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আবার চাইলে ঘরেও তৈরি করা যায়। যেমন আখরোটের গুঁড়া, চালের গুঁড়া, চিনি, লবণ, কফি—এই প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর সঙ্গে যেকোনো ধরনের ক্যারিয়ার অয়েল মিশিয়ে বানিয়ে নেওয়া যায়। যদি ত্বক অনেক বেশি রুক্ষ, ড্যামেজ হয়ে যায়, তাহলে বেছে নিতে হবে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড বা বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড ও নানা রকমের ফ্রুট এনজাইমযুক্ত কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর।

অনেকেই মনে করতে পারেন ত্বকের যত্নে এক্সফোলিয়েশন কেন ও কতটা প্রয়োজন। হারপার ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক লেখায় বলা হয়। মানুষের ত্বক ক্রমাগত নিজেকে মেরামত করে এবং নিয়মিত সরাই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যায়। ঠিক এ কারণেই আমরা নিজের শরীরজুড়ে মৃত চামড়ার স্তর দেখতে পাই। আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী শীত আসতে শুরু করলেই এই মৃত চামড়া বেশি দেখা যায়। এক্সফোলিয়েশন সহজভাবেই এই মৃত চামড়া থেকে মুক্তি দেয়। তা ছাড়া এক্সফোলিয়েশনের পাঁচটি বিশেষ সুবিধা রয়েছে। যেমন -
১. বয়সের দাগ বা বলিরেখা হালকা করতে সাহায্য করে।
২. ফাইন লাইন বা ত্বকের সূক্ষ্মরেখা কমায়।
৩. মৃত চামড়ার স্তরটি পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত উপাদানগুলো সহজে ত্বকে কাজ করতে পারে।
৪. ত্বকের ছিদ্র বা পোরসে জমে থাকা ময়লা দূর হয়।
৫. ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমে আসে।

বিজ্ঞাপন

এককথায়, উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক পেতে হলে এক্সফোলিয়েশনের জুড়ি মেলা ভার।
কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েশনের ক্ষেত্রে আলফা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড (এএইচএ), বিটা-হাইড্রক্সি অ্যাসিড (বিএইচএ) বা এনজাইম ব্যবহার করে মৃতকোষ দূর করা হয়। মূলত অতি সংবেদনশীল ও ব্রণ-প্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট খুব ভালো কাজ করে। ডার্মাটোলজিস্টরা শুরুতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড, ম্যান্ডেলিক অ্যাসিডের এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তা ছাড়া পেঁপে, আনারস বা কুমড়ার মতো ফল বা সবজির এনজাইম সমৃদ্ধ এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহারের পরামর্শও দেন অনেকে।

কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করতে চাইলে তালিকার প্রথমেই রাখা উচিত সাধারণ এএইচএ এবং বিএইচএ। এএইচএ সবচেয়ে সাধারণ ধরনের মৃদু জাতের কেমিক্যাল পিল। ফল, দুধ বা চিনি থেকেই এগুলোর উৎপত্তি। বর্তমানে ত্বকযত্নে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দুটি পণ্য হলো গ্লাইকোলিক অ্যাসিড—যা চিনি থেকে তৈরি এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড—যা দুধ থেকে তৈরি। এএইচএ জাতের ফেশিয়াল এক্সফোলিয়েটর তৈলাক্ত ত্বকে দারুণ কাজ করে।

ছবি: ইনস্টাগ্রাম

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ০১
বিজ্ঞাপন