
শীতের এই শুষ্ক বাতাস এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্ক্যাল্পের যত্নে শুধুমাত্র বাইরের পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ থাকা যথেষ্ট নয়। চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যকে দীর্ঘমেয়াদিভাবে ধরে রাখতে অভ্যন্তরীণ পুষ্টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সুস্থ স্ক্যাল্পের মূল চালিকাশক্তি হলো সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, যা আমাদের ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, প্রদাহ কমায় এবং চুলকে শক্ত ও ঝলমলে রাখে। শুধু শ্যাম্পু বা তেল, মালিশে খুশকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও, সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলে স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ আরও সঠিকভাবে বজায় থাকে। শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় অতিরিক্ত রুক্ষতা, ত্বক শুষ্ক হওয়া এবং খুশকির পুনরাবৃত্তি কমাতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস। চলুন জেনে আসি এমন কিছু খাবারের তালিকা সম্পর্কে, যা নিয়মিত গ্রহণ করলে শীতের মৌসুমে স্ক্যাল্পকে সুস্থ, আর্দ্র ও ফ্লেক-মুক্ত রাখা সম্ভব।

জিংক তেল উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখে। শীতকালে সপ্তাহে কয়েকবার কুমড়ার বীজ, ছোলা, মুরগির মাংস খাবার তালিকায় রাখুন।

বিশেষ করে ভিটামিন বি৬ ও বি১২ ত্বকের স্বাস্থ্য ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, সম্পূর্ণ শস্য ও সবুজ শাক-সবজি নিয়মিত খেলে চুলের স্ক্যাল্প সুস্থ থাকে।
এই স্বাস্থ্যকর চর্বি প্রদাহ কমায় এবং স্ক্যাল্পকে আর্দ্র রাখে। স্যামন, ম্যাকারেলসহ তৈলাক্ত মাছ, আঠা বীজ ও আখরোটের মতো খাবার শীতকালে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

আমাদের হজম ব্যবস্থা সরাসরি ত্বকের স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই দই, কেফির বা সাউক্রাউটের মতো ফারমেন্টেড খাবার গ্রহণ করলে, তা শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
দিনভর পর্যাপ্ত পানি পান করলে তা আমাদের স্ক্যাল্পকে শুষ্কতা ও চুলকানি থেকে রক্ষা করে। অর্থাৎ, হাইড্রেটেড শরীর মানে সুস্থ ও আরামদায়ক স্ক্যাল্প।

শীতকালে খুশকি নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো, ভেতর থেকে স্ক্যাল্পকে শক্ত করে তোলা। তাই প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য রাখা, পানি যথেষ্ট পরিমাণে পান করা এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাদ্য যোগ করা স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যকে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল রাখে। শীতের শুষ্কতা যতই বাড়ুক না কেন, নিয়মিত ও সচেতন খাদ্যাভ্যাস স্ক্যাল্পকে আর্দ্র, আরামদায়ক এবং ফ্লেক-মুক্ত রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: বি বিউটিফুল
ছবি: এআই