
নাজুক ত্বকের যত্নে এমন কোনো কিছুই ব্যবহার করা যাবে না, যা ত্বকের ওপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই যুগ যুগ ধরে মায়েদের আস্থার জায়গা দখল করে রয়েছে প্রাকৃতিক উপাদানগুলোই। কারণ, প্রাকৃতিক উপাদানের তেমন ক্ষতিকর প্রভাব নেই বললেই চলে। আর এমন প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েল শিশুদের ত্বকের জন্য খুবই নিরাপদ একটি উপাদান। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, বিশেষ করে অলিক অ্যাসিড ও লিনোলিক অ্যাসিড, যা শিশুর ত্বকে বেশ কিছু অপরিহার্য পুষ্টি সরবরাহ করে।

শিশুদের ত্বকে খুব দ্রুত আর্দ্রতা হ্রাস পায়। বিশেষ করে শীতকালে ত্বক আরও দ্রুত শুষ্ক হয়ে পড়ে। তবে অলিভ অয়েল ত্বকের গভীরে প্রবেশে প্রাকৃতিক ময়েশ্চার ধরে রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং বাইরের শুষ্ক পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
অনেক শিশুর ত্বক এতটাই সংবেদনশীল যে সামান্য পরিমাণ ভুল পণ্য ব্যবহারেই লালচে ভাব বা র্যাশ দেখা দেয়। খাঁটি অলিভ অয়েল সাধারণত এসব সমস্যার ঝুঁকি কমায়। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বককে প্রশান্ত করে এবং জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করে। তাই সংবেদনশীল ত্বকের শিশুর ক্ষেত্রেও খাঁটি অলিভ অয়েল হতে পারে একটি অন্যতম প্রাকৃতিক সমাধান। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন মেরিল বেবি অলিভ অয়েলের মতো পণ্যগুলো। মেরিল বেবি অলিভ অয়েল সম্পূর্ণ বেবি–সেফ ফর্মুলায় তৈরি এবং সংবেদনশীল ত্বকের জন্যও উপযোগী।

অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট শিশুর ত্বককে পরিবেশগত বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এগুলো ত্বকের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বককে সুস্থ ও সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অলিভ অয়েল ব্যবহারে ত্বক হয় আরও মসৃণ ও প্রাণবন্ত।
শিশুর শরীরে তেল মালিশ হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরেই, যেন এটি একটি প্রথা। তবে এই প্রথা কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত। অলিভ অয়েল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে, পেশি শিথিল হয় এবং শিশুর ঘুমও ভালো হয়। একই সঙ্গে এই ম্যাসাজ মা–বাবা ও শিশুর মধ্যে মানসিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।

শিশুর শরীরে মালিশের জন্য ব্যবহার করতে পারেন অলিভ অয়েল। শিশুর চুলের যত্নেও অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া গোসলের সময় পানিতে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে শিশুর ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে বাঁচে। তবে শিশুর ত্বকে অলিভ অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই খাঁটি ও ভালো মানের তেল বেছে নেওয়া জরুরি। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল সবচেয়ে উপযোগী বলে বিবেচিত। প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট কোনো অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো, যাতে কোনো অস্বস্তি হলে তা সহজেই বোঝা যায়।
শিশুর কোমল ত্বকের যত্নে অলিভ অয়েল একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক সমাধান। প্রয়োজনীয় পুষ্টি, আর্দ্রতা ও সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি এটি শিশুর ত্বককে নরম, মসৃণ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। তাই সঠিক ব্যবহারে অলিভ অয়েল হতে পারে শিশুর ত্বক পরিচর্যার একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
ছবি: ফ্রিপিক ও মেরিল