
বাংলাদেশের গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ত্বকের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ঘাম, রোদ, ধুলাবালি ও দূষণের কারণে ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এখনকার স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডে জোর দেওয়া হচ্ছে ত্বককে ‘ফর্সা’ বা ‘এজলেস’ বানানোর চেয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার ওপর।

আগে স্কিনকেয়ার মানেই ছিল বয়সের ছাপ মুছে ফেলার যুদ্ধ। এখন সেই ধারণা বদলাচ্ছে। নতুন ট্রেন্ড বলছে, ত্বককে অল্প বয়সী দেখানোর চেয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ কোলাজেন ধরে রাখা, পর্যাপ্ত হাইড্রেশন নিশ্চিত করা এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের অভ্যাস এই ‘স্কিন লংজেভিটি’ ধারণাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

একসময় অতিরিক্ত স্ক্রাব, শক্তিশালী অ্যাসিড বা ঘন ঘন এক্সফোলিয়েশনকে স্কিনকেয়ারের জন্য ভালো মনে করা হতো। কিন্তু এখন বোঝা যাচ্ছে, এতে ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে এমন সব উপাদান, যা ত্বককে শান্ত রাখে ও রিপেয়ার করতে সাহায্য করে। যেমন: সেরামাইড, পেপটাইড, হাইড্রেটিং উপাদান ও জেন্টল ময়েশ্চারাইজার। বিশেষ করে গরমে যাদের ত্বক সহজেই র্যাশ বা লালচে হয়ে যায়, তাদের জন্য এই পদ্ধতি বেশ কার্যকর।

স্কিনকেয়ারে এখন সবচেয়ে আলোচিত উপাদানগুলোর একটি হলো পেপটাইড। এটি ত্বকের দৃঢ়তা বাড়াতে, রিপেয়ার প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে এবং বয়সের ছাপ ধীরে আনতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এটি তুলনামূলক কম জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে।
যারা খুব বেশি ক্ষাড়িয় উপাদান ব্যবহার করতে চান না, তাদের জন্য পেপটাইডভিত্তিক সিরাম বা ক্রিম হতে পারে ভালো বিকল্প।

দিনের ব্যস্ততায় স্কিনকেয়ার ঠিকভাবে করা না হলেও, রাতে ত্বকের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস এখন অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ রাতে ঘুমের সময় ত্বক নিজেকে রিপেয়ার করে।
এই সময়ে রেটিনল, পেপটাইড, হায়ালুরনিক অ্যাসিড বা হাইড্রেটিং উপাদান ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তবে একসঙ্গে অনেক প্রোডাক্ট ব্যবহার না করে নিয়মিত ও সহজ রুটিন মেনে চলাই সবচেয়ে কার্যকর।

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ভারী ফাউন্ডেশন বা বহু স্তরের মেকআপ ত্বকের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই এখন জনপ্রিয় হচ্ছে হালকা টিন্ট, ক্রিম ব্লাশ, ডিউই ফিনিশ ও ন্যাচারাল মেকআপ লুক।
এ ধরনের মেকআপ ত্বককে শ্বাস নিতে দেয় এবং পোরস সহজে বন্ধ করে না। তবে মেকআপ যতই হালকা হোক, দিনের শেষে ভালোভাবে ক্লিনজিং করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’ ট্রেন্ড এখনও জনপ্রিয়, তবে এখন সেটিরও স্বাস্থ্যকর সংস্করণ দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা ত্বককে কৃত্রিমভাবে চকচকে করার বদলে এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতায়।
হায়ালুরনিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড ও জেন্টল এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করে ত্বককে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড ও স্বাস্থ্যকর রাখার দিকেই ঝুঁকছেন অনেকেই।
শেষ পর্যন্ত, সুন্দর ত্বকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের ত্বকের ধরন বোঝা এবং ট্রেন্ডের পেছনে না ছুটে এমন রুটিন অনুসরণ করা, যা দীর্ঘমেয়াদে ত্বককে সুস্থ রাখে।
সূত্র: স্কিনকেয়ারডটকম, ভোগ ইন্ডিয়া
ছবি: এআই