
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা চুলের স্ক্যাল্পে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, সঠিক নিয়ম না মেনে তেল লাগালে তা স্ক্যাল্প ইনফেকশন, ছত্রাকের আক্রমণ বা চুল পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

* বর্ষাকালে রাতে তেল দিয়ে সারা রাত রেখে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়।
* বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতা স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে, যা ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায়।
* ঘামানো বা অপরিষ্কার চুলে তেল দিলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ তৈরি হতে পারে।
* অনেকে বর্ষাকালে চুলে তেল দেওয়া বন্ধ করবেন বা অনেক বেশি কমিয়ে দেন। যা একদমই উচিত না। বরং বর্ষার সময় নিয়ম মেনে তেল দিলে তার উপকারিতাই বেশি। কারণ এই সময় বৃষ্টি বা ঘামেভেজা চুলে নিয়মিত শ্যাম্পু করতে হয়। যে কারণে চুল ও স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে যায়। যা ফ্লেকি স্ক্যাল্প বা খুশকির কারণ হতে পারে। যা চুল পড়ার অন্যতম কারণ। তাই নিয়ম মেনে অবশ্যই তেল ব্যবহার করতে হবে। সেই সঙ্গে তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ মানসিক চাপ কমায়, মন ভালো রাখে।

১. হালকা, নন-স্টিকি তেল বেছে নিন:
কোকোনাট অয়েল, জোজোবা বা আর্গান অয়েল বেছে নিতে পারেন। ক্যাস্টর অয়েলের মতো ভারী তেল এই সময় এড়িয়ে চলুন।
২. তেল হালকা গরম করে নিন:
গরম তেল ত্বকে সহজে প্রবেশ করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
৩. পরিষ্কার ও শুকনো স্ক্যাল্পে তেল লাগান:
ঘাম বা ধুলো-ময়লাযুক্ত চুলে তেল না লাগানোই ভালো।
৪. হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন:
আঙুলের ডগা দিয়ে গোলাকারভাবে ম্যাসাজ করলে চুলে টান পড়ে না এবং স্ক্যাল্প রিল্যাক্স করে।

৫. বেশি সময় রেখে দেবেন না:
৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা যথেষ্ট। তেলের সব উপকার পেতে এর চেয়ে বেশি সময় রাখার দরকার নেই।
৬. শ্যাম্পু করার সময় গরম পানি নয়:
সালফেট-মুক্ত, মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন এবং হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।

বর্ষাকালে সপ্তাহে ২ বার তেল দেওয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত তেল দিলে চুল চিটচিটে হয়ে যায় এবং খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে। যদি স্ক্যাল্পে সংক্রমণ বা অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা থাকে, তবে তেল দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
তেল দেওয়া মানেই শুধু চুলে পুষ্টি নয়, এটা মনকে শান্ত করারও একটি ভালো কৌশল। তবে বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় একটুখানি ভুল মাথার ত্বক ও চুলে তৈরি করতে পারে বড় সমস্যা। তাই সচেতন থাকার পাশাপাশি, নিয়ম মেনে তেল ব্যবহার করতে হবে।