
ভোটের দিন যা সবচেয়ে বেশি ক্যামেরাবন্দি হয়, তা হলো কালির ছাপ দেওয়া বৃদ্ধাঙ্গুলি। ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে অনেকেই হাতের ছবি তুলে রাখেন স্মৃতি হিসেবে। তাই নির্বাচনের আগে হাতের যত্ন নেওয়াটা জরুরি। মলিন, শুষ্ক বা রুক্ষ হাত ছবিতে সুন্দর দেখায় না। নখ পরিপাটি ও পরিষ্কার রাখলে আঙুলের গঠন আরও ভালো লাগে। অতিরিক্ত লম্বা বা নকশা করা নখ এড়িয়ে চলাই ভালো। এমন কিছু টিপস মানলে ভোটের দিন আপনার আঙুলের ছবি হবে নজরকাড়া।
স্ক্রাবিং
হাত প্রথমে হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে স্ক্রাবিং করতে হবে। এই স্ক্রাব ঘরেই বানানো সম্ভব। দুই চামচ জলপাই বা নারকেল তেলের সঙ্গে এক চামচ লবণ বা চিনি মেশালেই হবে। এই স্ক্রাব দিয়ে হাত ম্যাসাজ করতে হবে দুই-তিন মিনিট। এরপর ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বিশেষ মাস্ক
খাওয়া ও রান্নাবান্না করার সময়ে হাতে ও নখে হলদে দাগ পড়ে যায়। এই দাগ ওঠানোর জন্য বিশেষ মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। দুই চামচ বেকিং সোডা, দুই চামচ লেবুর রস ও সামান্য শ্যাম্পু মিশিয়ে হাতে লাগিয়ে রাখতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নখ ও হাত আলতো করে ব্রাশ করতে হবে। এভাবে হাত থেকে দাগ বিদায় হবে।
ময়েশ্চারাইজার
সর্বশেষ হাত ময়েশ্চারাইজ করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। বাজারে এখন ভালো মানের হ্যান্ড ক্রিম পাওয়া যায়। দামও হাতের নাগালে। চাইলেই এই ক্রিমগুলো ব্যবহার করতে পারেন। না হলে ময়েশ্চারাইজিং বডি লোশন লাগালেও চলবে। এ ছাড়া জলপাই বা নারকেলের তেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করবে।
নেইলপলিশ আইডিয়া
নেইলপলিশের ক্ষেত্রে হালকা ও সফট শেড সবচেয়ে মানানসই। ন্যুড, মিল্কি হোয়াইট, সফট পিঙ্ক, পিচ বা একেবারে ট্রান্সপারেন্ট নেইলপলিশ কালির দাগটাকে আরও সুন্দরভাবে হাইলাইট করে। চাইলে শুধু ক্লিয়ার কোট দিয়েও নখ ঝকঝকে রাখা যায়। খুব গাঢ় লাল, কালো বা ভারী গ্লিটার এড়িয়ে চলাই ভালো যেন কালির দাগটাই মূল হাইলাইট থাকে। আসলে এই দিনের আসল আকর্ষণ কালির ছাপই।
টপকোট হতে হবে মসৃণ
শাইনি বা চকচকে হোক, আর ম্যাট ফিনিশ হোক, টপকোটটি নির্বাচন করতে হয় সাবধানে। নেইল কালার চিপড বা চিড় ধরে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, নখের শক্তি বাড়ায়, এমন টপকোট বেছে নিতে হবে। যদি একটু বেশি দামের মানসম্পন্ন পণ্য ব্যবহার করতে হয়, এ ক্ষেত্রে এ নিয়ে কার্পণ্য করা উচিত নয়। কারণ, বারবার নষ্ট হয়ে যাওয়া নেইল পেইন্ট নতুন করে করতে আগের চেয়ে বেশি খরচ হবে।
বেজকোটের ব্যাপারে সমঝোতা নয়
মসৃণ আর সমান ফিনিশের নেইল পেইন্টের জন্য অন্যতম প্রয়োজনীয় হচ্ছে সঠিক বেজকোট। সরাসরি নখের ওপরে এই বেজকোটই প্রথম লাগানো হয়। পরবর্তী নেইল পেইন্টের ওপরেই বসে। দীর্ঘস্থায়ী ও শক্ত গ্রিপযুক্ত বেজকোটের ওপরেই নির্ভর করে নখের পুরো সাজ।
ভাঙা নখ বা উঠে যাওয়া নেইলপলিশ যেন না থাকে
ভোটের অমোচনীয় কালির দাগ দেওয়া আঙুলের স্পেশাল ছবিটা বরবাদ করে দিতে পারে ভাঙা নখ না উঠে যাওয়া নেইলপলিশ। এই বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
তথ্যসূত্র: অ্যালিউর
ছবি: এআই