
বিমানবন্দরের দীর্ঘ অপেক্ষা, নিরাপত্তা তল্লাশি, ঠান্ডা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং বিমানের ভেতরের শুষ্ক বাতাস। সব মিলিয়ে ত্বকের ওপর পড়ে বাড়তি চাপ। ফলে ভ্রমণ শেষে ত্বক হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক সতেজতা।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সবচেয়ে বড় কারণ বিমানের কেবিনের অত্যন্ত কম আর্দ্রতা। সাধারণত বিমানের ভেতরে আর্দ্রতার মাত্রা থাকে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ, যা ত্বকের জন্য যথেষ্ট প্রতিকূল। এই পরিবেশে ত্বক দ্রুত আর্দ্রতা হারাতে শুরু করে। ফলে দেখা দেয় শুষ্কতা, খসখসে ভাব এবং অস্বস্তিকর টানটান অনুভূতি।
এর সঙ্গে যোগ হয় ভ্রমণজনিত মানসিক চাপ। ফ্লাইট বিলম্ব, জেট ল্যাগ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব কিংবা দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পড়ে ত্বকেও। অনেকের ক্ষেত্রে ত্বক মলিন দেখায়, আবার কারও ব্রণ বা প্রদাহও বাড়তে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো ক্যাফেইন। বিমানবন্দরে অপেক্ষার সময় একের পর এক কফি পান করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু অতিরিক্ত কফি শরীরকে আরও বেশি পানিশূন্য করতে পারে। আর পানিশূন্যতা মানেই ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া।

আমাদের ত্বকে একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর রয়েছে, যা আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। ভ্রমণের সময় পানিশূন্যতার কারণে এই সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ত্বক আরও দ্রুত পানি হারায়। এর ফলেই মুখের ত্বক নিস্তেজ, শুষ্ক এবং ক্লান্ত দেখাতে শুরু করে।

অনেকের প্রিয় জানালার পাশের সিট। মেঘের ওপরের দৃশ্য উপভোগ করা কিংবা সুন্দর ছবি তোলার জন্য এই সিটের জনপ্রিয়তা সবসময়ই বেশি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জানালার পাশে বসলে ত্বক তুলনামূলক বেশি অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসে।
উচ্চতায় থাকার কারণে এই রশ্মির প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে। দীর্ঘ সময় এমন অবস্থায় থাকলে ত্বকে ট্যান, পিগমেন্টেশন কিংবা অক্সিডেটিভ ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ভ্রমণের দিনই নয়, কয়েক দিন আগে থেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন। একসঙ্গে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করা ভালো।

ত্বকের সুরক্ষা স্তর শক্তিশালী রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সেরামাইড, গ্লিসারিন বা স্কোয়ালেনযুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।
বিমানযাত্রার সময়ও সানস্ক্রিন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে দিনের ফ্লাইট হলে ব্রড-স্পেকট্রাম এসপিএফ ব্যবহার করা ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
ভ্রমণের আগে অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা শক্তিশালী অ্যাকটিভ উপাদান ব্যবহার না করাই ভালো। ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার এবং সানস্ক্রিন এই তিন ধাপের রুটিনই যথেষ্ট।

ঠোঁট এবং চোখের নিচের অংশ সবচেয়ে দ্রুত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই একটি হাইড্রেটিং লিপ বাম এবং সুগন্ধিবিহীন ফেস মিস্ট সঙ্গে রাখতে পারেন।
ভ্রমণের আনন্দ যেন ত্বকের ক্লান্তিতে ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য প্রয়োজন সামান্য সচেতনতা। কয়েকটি সহজ অভ্যাসই বিমানবন্দর থেকে গন্তব্য পর্যন্ত আপনার ত্বককে রাখতে পারে সতেজ, আরামদায়ক এবং উজ্জ্বল।
ছবি: এআই