
নাক-কপালে তেলতেলে ভাব, ফাউন্ডেশন অসমান, কনসিলার জমে যাওয়া কিংবা মেকআপ হালকা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা বর্ষায় যেন আরও বেশি চোখে পড়ে। বাংলাদেশের গরম, ভ্যাপসা আবহাওয়া আর বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতাই এর অন্যতম কারণ। তাই বর্ষায় দীর্ঘক্ষণ মেকআপ টিকিয়ে রাখতে দরকার একটু অন্য রকম কৌশল।

বাংলাদেশের বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যায়। তার সঙ্গে যোগ হয় ঘাম, ত্বকের স্বাভাবিক তেল এবং বাইরে বের হলে গরমের অনুভূতি। ফলে সকালে সুন্দরভাবে বসে থাকা ফাউন্ডেশন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে নাক, কপাল ও থুতনির মতো জায়গায় তেল ও ঘাম বেশি জমে। এতে বেস মেকআপ ভারী দেখাতে পারে, কনসিলার সূক্ষ্ম ভাঁজে জমে যেতে পারে, আবার কোথাও কোথাও ফাউন্ডেশন প্যাচি বা অসমানও লাগতে পারে। তাই বর্ষায় মেকআপ টেকানোর প্রথম শর্ত হলো—আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে রুটিন বদলানো।

বর্ষায় মেকআপ ভালো রাখার কাজ শুরু করতে হবে ফাউন্ডেশনেরও আগে। অনেকেই মেকআপের আগে একাধিক স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত লেয়ার ত্বককে খুব স্লিপারি করে ফেলতে পারে। ফলে মেকআপ ত্বকে ভালোভাবে বসার বদলে সহজেই নড়ে যায়।
তাই মেকআপের আগে হালকা, আরামদায়ক স্কিন প্রেপ বেছে নেওয়া ভালো। ত্বক পরিষ্কার করে প্রয়োজন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনের মেকআপ হলে সানস্ক্রিনও অবশ্যই থাকুক। তবে একসঙ্গে অনেক ধরনের ভারী প্রোডাক্ট না লাগিয়ে প্রয়োজনীয় ধাপগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকুন। মূল কথা, ত্বক হবে হাইড্রেটেড, কিন্তু অতিরিক্ত চিটচিটে নয়।

বর্ষাকালে ফাউন্ডেশনের এক মোটা স্তর দেওয়ার বদলে পাতলা করে ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর। পুরো মুখে ভারী কভারেজ দেওয়ার বদলে যেখানে প্রয়োজন, শুধু সেখানেই প্রোডাক্ট ব্যবহার করুন।
একবারে অনেকটা ফাউন্ডেশন লাগানোর পরিবর্তে অল্প অল্প করে কভারেজ তৈরি করলে ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচারও দেখা যায়, আবার দিনের শেষে মেকআপ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাও কমে।
বর্ষার জন্য লাইটওয়েট, ব্রিদেবল এবং লং-লাস্টিং ফর্মুলা বেছে নিলে বেস আরও আরামদায়ক থাকে। বাংলাদেশের গরম-আর্দ্র আবহাওয়ায় এমন মেকআপই বেশি স্বস্তিদায়ক, যা ত্বকের ওপর ভারী অনুভূত হয় না।

বর্ষার মেকআপে সেটিং পাউডার গুরুত্বপূর্ণ, তবে পুরো মুখে মোটা করে পাউডার লাগানোর প্রয়োজন নেই। এতে মুখ অতিরিক্ত ম্যাট ও ফ্ল্যাট দেখাতে পারে।
বরং নাক, কপাল, থুতনি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আন্ডার-আইয়ের মতো জায়গায় হালকা করে লুজ পাউডার ব্যবহার করুন। এতে তেল ও ঘামের কারণে মেকআপ দ্রুত নড়েচড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে।
অর্থাৎ লক্ষ্য হবে পুরো মুখকে পাউডারে ঢেকে দেওয়া নয়, বরং যেসব জায়গায় মেকআপ দ্রুত নষ্ট হয় সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

দিনের মাঝখানে মেকআপ কিছুটা নষ্ট হয়ে গেলে অনেকেই তার ওপর আবার ফাউন্ডেশন বা পাউডারের স্তর দিতে শুরু করেন। এতে সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। কারণ অতিরিক্ত প্রোডাক্টের ওপর নতুন করে প্রোডাক্ট বসালে বেস আরও ভারী ও প্যাচি দেখাতে পারে।
তার বদলে প্রথমে অতিরিক্ত তেল বা ঘাম আলতোভাবে শুষে নিন। প্রয়োজন হলে টিস্যু বা ব্লটিং পেপার দিয়ে টি-জোন পরিষ্কার করুন। এরপর যে জায়গায় মেকআপ কমে গেছে, শুধু সেখানেই সামান্য টাচ-আপ করুন।
পুরো মুখ নতুন করে সাজানোর চেয়ে এই ছোট্ট রিফ্রেশ অনেক বেশি স্বাভাবিক দেখাবে।

শীত বা তুলনামূলক শুষ্ক আবহাওয়ায় যে মেকআপ রুটিন ভালো কাজ করে, বর্ষায় সেটিই একইভাবে কাজ করবে, এমনটা নয়। বাংলাদেশের আবহাওয়া, ঘাম, আর্দ্রতা এবং বাইরে কাটানো সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে প্রোডাক্ট ও টেকনিক বদলাতে হবে।
বর্ষায় তাই মেকআপের মূল মন্ত্র হতে পারে—হালকা স্কিন প্রেপ, পাতলা বেস, প্রয়োজনীয় জায়গায় পাউডার এবং দিনের মাঝে কৌশলী টাচ-আপ।

বর্ষায় বেলা ৩টার পর মেকআপ বদলে যাওয়া খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়। গরম, আর্দ্রতা, ঘাম আর ত্বকের স্বাভাবিক তেলের সঙ্গে মেকআপের ফর্মুলা কীভাবে প্রতিক্রিয়া করবে, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করে।
তাই মেকআপকে আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করানোর বদলে বর্ষার জন্য একটু বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সাজানোই ভালো। কম প্রোডাক্ট, হালকা বেস আর সঠিক টাচ-আপ, এই তিনটি কৌশলেই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মেকআপকে রাখা যায় অনেক বেশি ফ্রেশ, স্বাভাবিক এবং সুন্দর।
ছবি: এআই