
শীত এলেই ঠোঁট ফাটা, ত্বক রুক্ষ হওয়া এসব খুব পরিচিত সমস্যা। তবে অনেকেই খেয়াল করেন না আরেকটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। তা হলো নখের সামনের চামড়া বা কিউটিকল উঠে যাওয়া। শুরুতে সামান্য শুষ্কতা মনে হলেও, ধীরে ধীরে এটি রক্তপাত, ব্যথা এমনকি সংক্রমণের কারণও হতে পারে। শীতে কেন এই সমস্যা বাড়ে এবং কীভাবে সহজেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া যায় তা জেনে নেওয়া যাক।

শীতকালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হাত ও নখে।
* শুষ্ক আবহাওয়া ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নেয়
* বারবার হাত ধোয়া ও স্যানিটাইজার ব্যবহার
* গরম পানি দিয়ে হাত ধোয়া
* ডিটারজেন্ট ও কেমিক্যালের সংস্পর্শ
* হাতের যত্নে অবহেলা
এসব কারণেই কিউটিকল শুষ্ক হয়ে ফেটে যায় বা উঠে আসে।

অনেকেই কিউটিকল উঠলে কেটে ফেলেন বা ছিঁড়ে দেন, যা বিপজ্জনক।
* ব্যথা ও জ্বালা
* রক্তপাত
* নখের গোড়ায় ইনফেকশন
* নখ দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া

১. নিয়মিত ময়শ্চারাইজ করুন
হাত ধোয়ার পরপরই হ্যান্ড ক্রিম, পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার বা নারকেল তেল লাগান। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে কিউটিকলে ভালো করে লাগান।
২. কিউটিকল অয়েল ব্যবহার করুন
অলিভ অয়েল, বাদাম তেল বা বাজারে পাওয়া কিউটিকল অয়েল নখের গোড়ায় ম্যাসাজ করুন। দিনে ১–২ বার যথেষ্ট।

৩. গরম পানি এড়িয়ে চলুন
হাত ধোয়ার সময় কুসুম গরম বা স্বাভাবিক পানি ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত গরম পানি কিউটিকল আরও শুষ্ক করে।
৪. হাত ধোয়ার পর ভালো করে মুছুন
ভেজা হাতে ঠান্ডা লাগলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়। তাই হাত ধুয়ে আলতো করে শুকান। তারপরই ময়শ্চারাইজার লাগান।
৫. কেমিক্যাল থেকে হাত বাঁচান
বাসার কাজ বা ডিটারজেন্ট ব্যবহারের সময় রাবার গ্লাভস ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখবেন না।

৬. কিউটিকল কাটাকাটি নয়
উঠে যাওয়া চামড়া কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলবেন না। টান দেবেন না। প্রয়োজনে পরিষ্কার নেল ক্লিপার দিয়ে শুধু আলগা অংশটুকু সাবধানে ট্রিম করা যেতে পারে।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শীতেও শরীরের ভেতরের আর্দ্রতা জরুরি। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানিযুক্ত ফল ও সবজি খান।
৮. নখের যত্নে অতিরিক্ত নেল পলিশ এড়িয়ে চলুন
বারবার নেল পলিশ রিমুভার ব্যবহার করলে কিউটিকল আরও শুষ্ক হয়।

যদি নিচের বিষয়গুলো ঘটে তবে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যান।
* ব্যথা বাড়া
* লালচে ফোলা ও পুঁজ হওয়া
* বারবার একই সমস্যা দেখা দেওয়া
ছবি: এআই