
শীতকালে বাসায় যে সৌন্দর্য উপাদানটি অবশ্যই মজুত থাকে তা হলো পেট্রোলিয়াম জেলি। আর শীতে মোজা তো লাগবেই। ব্যাস, এসময় পায়ের যত্নে আর বাড়তি কিছুই লাগবে না। শীতকালে বা শুষ্ক আবহাওয়ায় পায়ের ত্বক খোসা উঠা, ফাটা ও রুক্ষ হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। আর হাতের মতো, পায়ের ত্বকও সময়মতো আর্দ্রতা না পেলে সমস্যা তৈরি করতে পারে। শীতে পায়ের যত্ন নিতে কত না দামী দামী ক্রিম আর এটা-সেটা কিনি আমরা। অথচ সবচেয়ে সতা উপায়টার কথা আমরা অনেকেই জানিনা।। আর তা হলো রাতে পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে মোজা পরে থাকা।

পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে এবং ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা লক করে রাখে। পয়েন্ট আকারে এই সুলভ সৌন্দর্য পণ্যের মূল কার্যকারিতাগুলো দেখে নিন এবারে।
আর্দ্রতা ধরে রাখা
শুষ্ক ও ফাটা ত্বক নরম করা
ত্বকের ব্যারিয়ার মজবুত করা
এটি ত্বকে গভীরভাবে ঢুকে কাজ করে না, বরং বাইরের স্তরে আর্দ্রতা আটকে রাখে।

ত্বক দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড থাকে
ঘুমের সময়ে জেলি আর্দ্রতাকে আটকে রাখে, ফলে সকালে পায়ের ত্বক নরম ও মসৃণ থাকে।
ফাটাভাব ও খোসা কমে
বিশেষ করে গোড়ালি ও পায়ের আগার অংশে, যা শীতকালে বেশি শুষ্ক হয়।
নরম ও আরামদায়ক অনুভূতি
পায়ে মোজা পরার কারণে জেলি ধরে থাকে এবং ত্বকে স্যাঁতসেঁতে ও নরম ভাব তৈরি করে।

নিয়মিত ব্যবহারে পায়ের ত্বক সুস্থ থাকে, ফাটা ও রুক্ষতা দূর হয়।
সঠিকভাবে ব্যবহার করার উপায়
পরিষ্কার ও শুকনো পা: গোড়ালি ও পায়ের অন্যান্য অংশ ভালো করে ধুয়ে হালকা শুকিয়ে নিন।
হালকা ময়শ্চারাইজিং: পেট্রোলিয়াম জেলি হালকা হাতে মাখুন। খুব বেশি মাখলে মোজা লেগে নোংরা হতে পারে।
মোজা ব্যবহার: সুতির মোজা বা হালকা মোজা পরে ঘুমানো সবচেয়ে ভালো।
নিয়মিত ব্যবহার: সপ্তাহে ২–৩ বার শুরুতে যথেষ্ট, তারপর প্রয়োজন অনুসারে কমানো যেতে পারে।

ভারি বা রবার মোজা এড়িয়ে চলুন: ত্বকে ঘর্ষণ হতে পারে।
সংক্রমণ থাকলে ব্যবহার করবেন না: ফুট ফাংগাস বা র্যাশ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
অতিরিক্ত জেলি: খুব বেশি মাখলে মোজার ভেতরে ঘাম ধরে ইনফেকশন ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হালকা স্ক্রাব বা পাথর দিয়ে মৃত কোষ সপ্তাহে ১–২ বার দূর করুন।
শুষ্ক পরিবেশে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে পায়ের ত্বক আরও উপকৃত হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবার রাখুন, কারণ শরীরের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা ত্বককে প্রভাবিত করে।
রাতে পেট্রোলিয়াম জেলি দিয়ে মোজা পরা হলো সহজ, সাশ্রয়ী এবং কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি। বিশেষ করে শুষ্ক ও ফাটা গোড়ালির জন্য এটি ফিল-গুড হোম হ্যাক। নিয়মিত ব্যবহার করলে পায়ের ত্বক হবে মসৃণ, নরম ও সুস্থ।
সূত্র: স্কিনকেয়ারডটকম
ছবি: এআই