
গতানুগতিক স্কিনকেয়ারে না গিয়ে নিজের ত্বকের চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই বেছে নিতে হবে প্রসাধনসামগ্রী। খেয়াল রাখতে হবে, ত্বক যেন সব সময় ময়েশ্চারাইজড থাকে। এ সময় ত্বকের ময়েশ্চার নিশ্চিতে সাধারণ কোনো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করে ডিপ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করাই ভালো। বাড়তি যত্ন ও সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললেই শীতে রুক্ষ ত্বকের নানা ঝক্কিঝামেলা থেকে রেহাই পেতে পারেন।

শীতের রুক্ষতা থেকে বাঁচতে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় বা ‘স্কিন ব্যারিয়ার’ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। শীতে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ত্বকে দেখা দেয় নানা জটিলতা। এই সময় ত্বকের যাবতীয় সমস্যার মূলে থাকে এর প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। যখনই এই সুরক্ষা স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে, তখনই ত্বক তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায় এবং অকাল বার্ধক্যের ছাপ পড়তে শুরু করে। আমাদের ত্বকের ওপরের স্তরটি মূলত লিপিড, সিরামাইড ও ফ্যাটি অ্যাসিড দিয়ে গঠিত একটি দেয়ালের মতো কাজ করে, যা ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে। বাইরের ধুলাবালু, দূষণ ও ব্যাকটেরিয়াকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। শীতের শুষ্ক বাতাস এই লিপিড স্তরকে ভেঙে দেয়, ফলে ত্বক ফেটে যায় এবং অতি সহজেই আর্দ্রতা উবে যায়। একে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস’ বলা হয়। এ কারণেই মূলত ত্বকে অতিরিক্ত টান লাগে, চামড়া উঠে যায়, প্রসাধনী ব্যবহারের সময় ত্বকে জ্বালাপোড়া দেখা দেয় এবং অকারণে ত্বক লাল হয়ে যায়। এই মৌসুমে প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় ঠিক রাখতে সাধারণ ময়েশ্চারাইজার যথেষ্ট নয়।

শীতে ত্বকের রুক্ষতা ও ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে প্রয়োজন ডিপ ময়েশ্চারাইজিংয়ের যত্ন, যা ত্বককে গভীর থেকে পুষ্টি ও আর্দ্রতা দেয়। ভিটামিন ই–সমৃদ্ধ ফর্মুলা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে স্কিন ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করে এবং লং লাস্টিং হাইড্রেশন নিশ্চিত করে। এই শীতে ত্বককে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজড রাখতে রিভাইভ পারফেক্ট স্কিন ময়েশ্চারাইজিং লোশনের মতো পণ্যগুলো বেছে নিতে পারেন। রিভাইভ পারফেক্ট স্কিন ময়েশ্চারাইজিং লোশন নিয়াসিনামাইড সিরামের গুণসমৃদ্ধ, যার দ্বিগুণ ময়েশ্চার দিনভর ত্বককে রাখে দ্বিগুণ হাইড্রেটেড। এর ব্যালান্সড পিএইচ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের ড্যামেজ রোধ করে দেয় পারফেক্ট ন্যাচারাল স্কিন। এর নিয়মিত ব্যবহারে শীতের শুষ্কতা ও রুক্ষতা থেকে ত্বক পায় দৃশ্যমান স্বস্তি ও সুরক্ষা।
শীতের তীব্র শুষ্কতায় ত্বকের গভীর থেকে আর্দ্রতা নিশ্চিত করতে ‘লেয়ারিং’ পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ও অত্যন্ত কার্যকর। শুধু একবার সাধারণ কোনো ক্রিম মেখে সারা দিন হাইড্রেটেড থাকা সম্ভব নয়। কারণ, বাতাসের শুষ্কতা দ্রুত ত্বকের পানি শুষে নেয়। লেয়ারিং পদ্ধতিতে প্রথমে একটি হাইড্রেটিং টোনার বা এসেন্স ব্যবহার করা হয়, যা ত্বকের কোষগুলোকে পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত করে। এরপর সক্রিয় উপাদানে সমৃদ্ধ সিরাম প্রয়োগ করা হয়, যা ত্বকের গভীরে পুষ্টি পৌঁছে দেয়। সবশেষে একটি ডিপ ময়েশ্চারাইজার দিয়ে পুরো আর্দ্রতা ত্বকের ভেতরে লক করে দেওয়া হয়। এই লেয়ারিং একটি ব্যারিয়ার তৈরি করে, যা বাইরের শুষ্ক বাতাসকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং ত্বকের নিজস্ব আর্দ্রতা ধরে রাখে। ফলে অতিরিক্ত শুষ্ক কিংবা সংবেদনশীল ত্বক দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত সজীব ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল থাকে।

রাতের বাড়তি পরিচর্যায় ত্বক পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে। রাত হলো ত্বকের ক্ষতি সারিয়ে তোলার বা ‘সেলুলার রিপেয়ার’ করার উপযুক্ত সময়। শীতের রাতে যখন চারপাশের তাপমাত্রা কমে যায়, তখন ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি আর্দ্রতা হারায়। তাই এ সময়ে একটি বিশেষ নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন ত্বকের জন্য সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। রাতে ত্বক মেটাবলিজমের মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ তৈরি করে, আর এ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন গভীর পুষ্টি। ঘুমানোর আগে সিরামাইড বা পেপটাইডসমৃদ্ধ ঘন নাইট ক্রিম অথবা স্কোয়ালেন ও আর্গান অয়েলের মতো ন্যাচারাল ফেসিয়াল অয়েল ব্যবহার করলে তা ত্বকের গভীর স্তরে পৌঁছে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই ‘ওভারনাইট ট্রিটমেন্ট’ একদিকে যেমন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়ায়, অন্যদিকে সকালে ত্বককে করে তোলে তুলনামূলক কোমল, সজীব ও দাগহীন। মূলত সারা দিনের ধকল কাটিয়ে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে রাতের এই বাড়তি যত্ন শীতকালে অপরিহার্য।
ছবি: ফ্রিপিক ও মেরিল