
শীত মৌসুমে স্কিনকেয়ার রুটিনে এমন কিছু উপাদান রাখা উচিত, যা ত্বককে আর্দ্র রাখবে এবং ত্বকে গভীর থেকে পুষ্টি জোগাবে। কোকো বাটার ও মাল্টিভিটামিন ঠিক এই দুই ভূমিকাতেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হয়। শীতে কোকো বাটার আর মাল্টিভিটামিন কীভাবে হয়ে উঠতে পারে ত্বকের সর্বোচ্চ সুরক্ষার সঙ্গী—জানা যাক।

কোকো বাটার হলো কোকোবীজ থেকে তৈরি একধরনের প্রাকৃতিক ফ্যাট। দীর্ঘদিন ধরেই ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই বাটার। শীতকালে কোকো বাটারের কার্যকারিতা অনেক। কারণ, শীতে ত্বক আর্দ্রতা হারিয়ে ফেললে সবচেয়ে জরুরি হলো ত্বকের প্রাকৃতিক ময়েশ্চার ব্যারিয়ারকে পুনর্গঠন করা। কোকো বাটারের ফ্যাটি অ্যাসিড এই ব্যারিয়ারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এর ক্রিমি টেক্সচার ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষাস্তর তৈরি করে, যা ত্বককে দীর্ঘসময় পর্যন্ত ময়েশ্চারাইজড রাখে। ফলে শীতকালে ত্বকে কোকো বাটার ব্যবহার করলে ত্বকের শুষ্কতা ও খসখসে ভাব অনেকটাই কমে যায়।
এ ছাড়া শীতকালে হাত–পা, কনুই, হাঁটু বা ঠোঁট দ্রুত রুক্ষ হয়ে যায়। এসব স্থানে কোকো বাটার অসাধারণ কাজ করে। পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে। বলা যায়, শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ত্বকে যে ড্যামেজ সৃষ্টি হয়, তা থেকে ত্বককে পুনরুদ্ধারে কোকো বাটার দারুণ কার্যকর ভূমিকা রাখে।
শীতকালে শুধু ময়েশ্চারই নয়, ত্বক পুষ্টিও হারায়। তাই ময়েশ্চারাইজারের পাশাপাশি ত্বকের ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোও বেশ জরুরি। মাল্টিভিটামিনযুক্ত স্কিনকেয়ার ত্বকের পুনর্গঠন, উজ্জ্বলতা ও টেক্সচার উন্নত করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, কালচে ভাব দূর করে এবং কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। শীতের রোদ অপেক্ষাকৃত নরম হলেও এ সময় একটু রোদের সংস্পর্শে এলেই ত্বকে ‘ডালনেস’ বা নিস্তেজভাব দেখা দেয়। ভিটামিন সি সেই সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন ই-তে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শুষ্ক ত্বককে প্রশান্ত করে এবং প্রদাহ কমায়। শীতে অনেকের ত্বকে জ্বালাভাব বা লালচে দাগ দেখা দেয়। ভিটামিন ই সেই সমস্যা অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে। ভিটামিন এ বা রেটিনয়েড ত্বকের কোষ পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।
শীতের স্কিনকেয়ারে মূলত দুটি ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হয়—ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা ও ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক পুনর্গঠন করা। কোকোয়া বাটার আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে আর মাল্টিভিটামিন ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি জোগায়। এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বকের ওপরের স্তর যেমন নরম ও কোমল থাকে, তেমনি ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা ও দৃঢ়তাও ফিরে আসে। এই দুই উপাদানের গুণ একসঙ্গে পেতে ব্যবহার করতে পারেন মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি কোকোয়া ফ্রেশ। যাঁদের ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক, তাঁদের জন্য কোকোয়া বাটারসমৃদ্ধ পেট্রোলিয়াম জেলি বা ক্রিম রাতে ব্যবহার করলে ত্বক সারারাত ময়েশ্চারাইজড থাকে। অন্যদিকে মাল্টিভিটামিনযুক্ত প্রসাধন ব্যবহার করলে ত্বক প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সুরক্ষা পায়।
* গোসলের পর ভেজা ত্বকে কোকো বাটারসমৃদ্ধ প্রসাধন ব্যবহার করলে এটি দ্রুত শোষিত হয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
* রাতে ঘুমানোর আগে কোকো বাটার ও মাল্টিভিটামিনসমৃদ্ধ পেট্রোলিয়াম জেলি ত্বকে ব্যবহার করলে সারা রাত ধরে এটি আপনার ত্বকের ড্যামেজ পুনরুদ্ধার করে।
* ঠোঁট ও হাত-পায়ের ফাটা দূর করতেও ব্যবহার করতে পারেন মেরিল পেট্রোলিয়াম জেলি কোকো ফ্রেশ।
শীতের শুষ্কতা রোধ করতে শুধু ময়েশ্চারাইজার নয়, দরকার পুষ্টি ও সুরক্ষার ডাবল কেয়ার। কোকো বাটারের গভীর ময়েশ্চার আর মাল্টিভিটামিনের পুষ্টি—দুটোর সমন্বয়ে ত্বক পায় সর্বোচ্চ সুরক্ষা, কোমলতা ও দীর্ঘস্থায়ী উজ্জ্বলতা। শীতে সুস্থ, নরম আর উজ্জ্বল ত্বকের জন্য এই যুগল যত্নই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান।
ছবি: মেরিল