ত্বকের যত্নে ফুল
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশ্বের অনেক দেশের সংস্কৃতিতে, ফুল বিভিন্ন রোগের জন্য ব্যবহার হয়ে থাকে। কখনো ফুল থেকে তেল, কিংবা খাবার হিসেবেও ব্যবহার হয়। মাথাব্যথা এবং হজমের সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয় ফুল। যখন ত্বকের যত্নের কথা আসে, তখন এগুলো কেবল রং এবং সুগন্ধ যোগ করার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, বরং প্রাকৃতিকভাবে সৌন্দর্যের চাহিদা পূরণ করে। ফুলের নির্যাসে ভিটামিন এবং অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা ত্বককে ময়েশ্চারাইজ, পরিষ্কার এবং মসৃণ করতে সাহায্য করে।

সেই সঙ্গে বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণ এবং ফ্রি রেডিক্যাল ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে। ফুলের মাধ্যমে ত্বকের উপকারিতা উপভোগ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ফুলের তৈরি এসেনশিয়াল তেল। আরেকটি বিকল্প, নাইট ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ফুলের তেল মেশানো। সতর্কতা হিসেবে, ব্যবহারের আগে ত্বক পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন

ত্বকের যত্নের রুটিনে যেসব ফুল অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন

জুঁই ফুলের ফেস মিস্ট

বিভিন্ন প্রসাধনী, যেমন লোশন, সাবান এমনকি মুখের ক্রিমগুলোতেও জুঁই ফুল ব্যবহৃত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ত্বক মেরামতে সাহায্য করতে রূপ রুটিনে জুঁই ফুল যোগ করা যেতে পারে। ফেস মিস্ট তৈরি করতে মিনারেল পানিতে কিছু জুঁই ফুল ভিজিয়ে রাখুন। এবার একটি স্প্রে বোতলে ছেঁকে নিন জুঁই ফুলের পানি।
ফ্রিজে রেখে এক সপ্তাহের জন্য এটা ফেস মিস্ট হিসেবে প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে।

গোলাপ ফুলের টোনার ও স্ক্রাব
টোনার হিসেবে গোলাপের জুড়িমেলা ভার। প্রাকৃতিক উপায়ে টোনার তৈরি করতে কিছু গোলাপের পাপড়ি মাঝারি আঁচে পানিতে ফুটিয়ে নিতে হবে। ঢাকনা দিয়ে পাত্রটি ঢেকে রাখুন, যাতে আর্দ্রতা বাষ্পীভূত না হয়। ফুটন্ত পানিতে পাপড়িগুলোকে ৪৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা হলে একটি স্প্রে বোতলে পানি ছেঁকে নিন। এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা রোজ এসেনশিয়াল তেল এবং ভিটামিন ই তেল যোগ করুন। মিশ্রণটি ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যাবে। ব্যবহারের আগে অবশ্যই ঝাঁকিয়ে নিতে হবে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কয়েক টেবিল চামচ গোলাপজল, দুধ, মধু ও গমের আটার সঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করেও ব্যবহার করা যায়। প্যাকটি লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।

গাঁদা ফুলের ফেস মাস্ক
এই প্যাক তৈরি করতে কিছু শুকনা গাঁদা ফুলের পাপড়ির গুঁড়া, আধা চা–চামচ হলুদ ও এক টেবিল চামচ দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। পেস্টটি মুখে লাগিয়ে সঠিকভাবে ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ডার্ক স্পট লাইটেনিং–এর জন্য গাঁদা ফুলের ফেস স্ক্রাব ব্যবহার করা যায়। এর জন্য এক চা–চামচ গাঁদা ফুলের পেস্ট, এক টেবিল চামচ চালের আটা ও আধা চা–চামচ লেবুর রস মিশিয়ে মুখে ও ঘাড়ে লাগান। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে বৃত্তাকার গতিতে স্ক্রাবিং করে সাধারণ পানিতে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

বিজ্ঞাপন

জবা ফুলের মাস্ক
জবা ফুলের পাপড়ি ছিঁড়ে প্রাকৃতিকভাবে শুকিয়ে নিতে হবে। সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেলে গুঁড়া করে পাউডারটি মুলতানি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মধু, দই বা গোলাপজল যোগ করুন। একটি ব্রাশ ব্যবহার করে আপনার মুখে মিশ্রণটি লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিটের জন্য বসতে দিন। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ক্যামোমাইল ফেসপ্যাক ও ক্লিনজার
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্যামোমাইল চা বেশ উপকারী। এই ফুলে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি–ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একটি ক্যামোমাইল টি–ব্যাগ কেটে একটি পাত্রে ঢেলে নিন। আধা কাপ জলপাই তেল এবং আধা কাপ সাদা চিনি যোগ করে ভালোভাবে মেশান। ব্যবহারের আগে উষ্ণ পানি দিয়ে মুখ ভিজিয়ে নিন। তারপর আঙুলের ডগার সাহায্যে মুখ এবং ত্বকে সমানভাবে মাস্কটি লাগান। ১৫-২০ মিনিট ত্বকে রেখে এবার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।

ফেসিয়াল ক্লিনজার হিসেবেও এই ফুল দারুণ উপকারী। প্রথমে এক কাপ ক্যামোমাইল চা তৈরি করুন। এরপর একটি পাত্রে দুই টেবিল চামচ চা, এক টেবিল চামচ দুধ ও এক চিমটি হলুদ ভালোভাবে মিশিয়ে আপনার মুখ এবং ঘাড়ে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। ৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এক কাপ পানিতে তিন টেবিল চামচ শুকনা ক্যামোমাইল ফুল ১০ মিনিট সেদ্ধ করুন। মিশ্রণটি ছেঁকে এর সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু ও গোলাপজল যোগ করুন। আপনার মুখ এবং ঘাড়ে মিশ্রণটি লাগিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এটি প্রাকৃতিক ব্লিচ হিসেবে কাজ করবে।

ছবি: সাইফুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯: ৩৬
বিজ্ঞাপন