
দিনের বেশির ভাগ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটানো, মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দূষণ এবং রোদের ক্ষতিকর প্রভাব। সব মিলিয়ে ত্বক আগের চেয়ে দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে।

স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট কিংবা এলইডি আলোর মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন যে নীলচে আলো বা ব্লু লাইটের সংস্পর্শে আসি, তা ত্বকের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলো ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে, যা কোলাজেন ও ইলাস্টিনের ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।
ফলে ত্বক ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক টানটান ভাব হারাতে শুরু করে। দেখা দিতে পারে অমসৃণ টেক্সচার, মলিনতা ও সূক্ষ্ম বলিরেখা।

কাজের চাপ, ব্যক্তিগত উদ্বেগ কিংবা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ শরীরের কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর প্রভাব পড়ে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও।
ফলে ত্বক হয়ে উঠতে পারে সংবেদনশীল, শুষ্ক ও ক্লান্ত। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা দেয় প্রাপ্তবয়স্ক বয়সের ব্রণ, লালচে ভাব কিংবা দীর্ঘস্থায়ী নিস্তেজতা। নিয়মিত স্কিনকেয়ার ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পেছনে এটি একটি কারণ হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং সব সময় চাপের মধ্যে থাকা ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এ কারণেই বর্তমানে সৌন্দর্যবিশ্বে আলোচনায় এসেছে ‘বার্নআউট স্কিন’ শব্দটি।
এ ধরনের ত্বক সাধারণত ক্লান্ত, প্রদাহপ্রবণ ও সহজেই প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে। আয়নায় নিজের মুখকে আগের চেয়ে বেশি মলিন বা অবসন্ন লাগার পেছনে থাকতে পারে এই কারণ।

ত্বকের অকাল বার্ধক্যের অন্যতম প্রধান কারণ সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি। ইউভিএ রশ্মি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে কোলাজেন ভাঙতে সাহায্য করে, অন্যদিকে ইউভিবি রশ্মি ত্বকের কোষের ক্ষতি করে এবং পিগমেন্টেশন ও ট্যানের কারণ হয়।
বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় ত্বকে দীর্ঘদিনের সূর্যালোকের প্রভাব হিসেবে অল্প বয়সেই কালচে দাগ, অসম ত্বক এবং রুক্ষ টেক্সচার দেখা দিতে পারে।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের ছাপ মুছে ফেলার চেয়ে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আগে থেকেই ত্বককে সুরক্ষিত রাখার ওপর। তাই স্কিনকেয়ারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ উপাদান, বিশেষ করে ভিটামিন সি, ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এ ছাড়া ত্বকের সুরক্ষা স্তর মজবুত রাখতে সহায়ক উপাদান, পর্যাপ্ত আর্দ্রতা প্রদানকারী পণ্য এবং কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক পরিচর্যাও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ত্বকের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ও মানসম্মত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষাকারী কোমল স্কিনকেয়ার রুটিন অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সুন্দর ত্বক এখন আর শুধু প্রসাধনী ব্যবহারের ফল নয়; এটি জীবনযাপন, বিশ্রাম ও সামগ্রিক সুস্থতারও প্রতিফলন। তাই ত্বকের যত্ন শুরু হোক শুধু আয়নার সামনে নয়, বরং প্রতিদিনের অভ্যাসে।
ছবি: এআই