
ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার লাগানোই হলো ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ভেজা ত্বক বলতে একেবারে পানি চুঁইয়ে পড়া ত্বক নয়। এটি হলো ধোয়া বা গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে হালকা মুছে নেওয়া ত্বক যাতে এখনও সামান্য আর্দ্রতা রয়ে গেছে। এই সময়টিই ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

ত্বকের উপরের স্তর (স্ট্র্যাটাম কর্নিয়াম) পানি পেলে নরম ও গ্রহণক্ষম হয়। এই সময় ময়শ্চারাইজার দিলে তা—
ত্বকের ভেতরে থাকা পানি লক করে রাখে
দ্রুত বাষ্পীভবন কমায়
স্কিন ব্যারিয়ার শক্তিশালী করে
ফলে ত্বক দীর্ঘ সময় হাইড্রেটেড থাকে।

১. আর্দ্রতা বেশি সময় ধরে থাকে
ভেজা ত্বকে লাগানো ময়শ্চারাইজার পানি আটকে রেখে ত্বককে গভীরভাবে হাইড্রেট করে। ফলে শুষ্কতা কমে, খসখসে ভাব দূর হয়।
২. কম ময়শ্চারাইজারেই বেশি কাজ
ত্বক ভেজা থাকায় অল্প পরিমাণ ময়শ্চারাইজারও ভালোভাবে ছড়িয়ে যায় ও কার্যকর হয়।
৩. ত্বক হয় নরম ও মসৃণ
পানি ও ময়শ্চারাইজারের যৌথ প্রভাবে ত্বক দ্রুত নরম হয়, রুক্ষতা কমে।
৪. স্কিন ব্যারিয়ার মজবুত হয়
নিয়মিত ভেজা ত্বকে ময়শ্চারাইজার লাগালে ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ভালো থাকে, যা দূষণ ও অ্যালার্জেন থেকে রক্ষা করে।
৫. একজিমা ও অতিরিক্ত শুষ্কতায় উপকারী
ডার্মাটোলজিস্টরা একজিমা বা খুব শুষ্ক ত্বকের রোগীদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি বিশেষভাবে পরামর্শ দেন।

ভেজা ত্বকে সবচেয়ে ভালো কাজ করে পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার ইত্যাদি।
এছাড়া গ্লিসারিন, হায়ালুরনিক অ্যাসিড ইত্যাদি দিতে পারেন।
সেরামাইডসমৃদ্ধ ক্রিমও ভেজা ত্বকে ভালো কাজ করে। শুষ্ক ত্বকে ক্রিম বা অয়েন্টমেন্ট, আর স্বাভাবিক অয়েলি ত্বকে লোশন বা জেল দিলে ভালো।
গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি মুছুন
ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই ময়শ্চারাইজার লাগান
হালকা ম্যাসাজ করে শুঁষতে দিন
খুব শুষ্ক জায়গায় একটু বেশি ব্যবহার করুন

অ্যাকনেপ্রবণ বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক যাদের তাঁরা ভারী ময়শ্চারাইজার এড়িয়ে চলুন। ফাঙ্গাল সংক্রমণ থাকলে ভেজা ত্বকে কিছু লাগানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ছবি: এআই