
ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার আছে যা নীরবে ত্বকের ক্ষতি করে। বাইরে থেকে যতই দামি স্কিনকেয়ার ব্যবহার করা হোক, ভেতর থেকে এই খাবারগুলো ত্বককে দুর্বল করে দেয়। হাল ফ্যাশনের পাঠকদের জন্য সহজ ও সুন্দর বাংলায় থাকছে ত্বকের সবচেয়ে ক্ষতিকর তিনটি খাবারের গল্প।

সফট ড্রিংক, প্যাকেটজাত জুস, বিস্কুট কিংবা নানা প্রসেসড জাঙ্ক ফুডে যে ‘ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ’ থাকে, তা আসলে সাধারণ চিনি নয়। এটি একটি কৃত্রিম উপাদান, যা ত্বকের জন্য আরও বেশি ক্ষতিকর।
ত্বক বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই চিনি ত্বকের প্রোটিন—বিশেষ করে কোলাজেন—নষ্ট করে দেয় অনেক দ্রুত। এর ফলে তৈরি হয় ‘অ্যাডভান্সড গ্লাইকেশন এন্ড প্রোডাক্টস’ (AGEs), যা ত্বককে করে তোলে শক্ত ও নিস্তেজ। বলিরেখা দেখা দেয় আগেভাগেই, হারিয়ে যায় স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা। শুধু ত্বকই নয়, লিভারের উপরও পড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব।
অর্থাৎ নিয়মিত প্রসেসড ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার মানেই ত্বকের অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি।

সিঙ্গারা, সমুচা, পুরি কিংবা নানা ডিপ ফ্রাই—এসব ছাড়া আমাদের শহুরে জীবন কল্পনা করা কঠিন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করা হয়।
এই ধরনের তেলে থাকা ভিটামিন ই বারবার উত্তাপে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে যা থাকে, তা হলো অক্সিডাইজড ফ্যাট—যা শরীরের ভেতরে প্রদাহ বাড়ায়। ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেতরের প্রদাহই ধীরে ধীরে ত্বকে প্রকাশ পায় ব্রণ, লালচে ভাব ও নিস্তেজতার মাধ্যমে।
অর্থাৎ স্ট্রিট ফুডের স্বাদ যতই লোভনীয় হোক, এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ত্বকের জন্য মোটেও বন্ধুসুলভ নয়।

সোনালি-বাদামি রঙের কড়কড়ে খাবার—ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, পাকোড়া—দেখতেই মন টানে। কিন্তু এই ‘ক্রাঞ্চ’ই তৈরি করে এক ধরনের ক্ষতিকর যৌগ, যার নাম অ্যাক্রিলামাইড।
খাবার যত বেশি গাঢ় রঙের ও কড়কড়ে হয়, তত বেশি তৈরি হয় AGEs। এই যৌগ সরাসরি ত্বকের গঠন নষ্ট করে, কোলাজেন ভাঙন ত্বরান্বিত করে। ফলাফল—ত্বক দ্রুত তার দৃঢ়তা হারায়, বয়সের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ত্বক বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা—ক্রিম বা সিরাম দিয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়, যা প্রতিদিনের খাবার ত্বকের ভেতরে ভেতরে করে চলেছে। সুন্দর ত্বক মানে শুধু বাহ্যিক যত্ন নয়; বরং সচেতন খাদ্যাভ্যাসই হলো আসল স্কিনকেয়ার।
ত্বককে সত্যিই ভালোবাসলে, আজ থেকেই প্লেটে একটু নজর দেওয়া জরুরি। কারণ গ্লো আসে শুধু বোতল থেকে নয়, আসে জীবনযাপন থেকে।
ছবি: এআই