নতুন বছরে ত্বকের যত্ন: বার্ধক্য ঠেকাতে ৫টি স্কিনকেয়ার রেজ্যুলেশন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

এই জটিলতার ভিড় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য প্রয়োজন একটি সহজ, বাস্তবসম্মত রুটিন। এই বিষয়ে ডার্মাটোলজিস্টরা পরামর্শ দিয়েছেন এমন পাঁচটি স্কিনকেয়ার রেজ্যুলেশনের, যেগুলো নিয়মিত মেনে চললে নিস্তেজতা ও অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১. প্রতিদিন সানস্ক্রিন

সানস্ক্রিন হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-এজিং অস্ত্র
সানস্ক্রিন হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-এজিং অস্ত্র

সানস্ক্রিন হলো সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-এজিং অস্ত্র। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকে পিগমেন্টেশন, ফাইন লাইন এমনকি ব্রণও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আবহাওয়া যেমনই হোক, প্রতিদিন সকালে এপিএফ ৩০ বা তার বেশি ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।

অনেকেই ভাবেন ঘরের ভেতরে থাকলে সানস্ক্রিনের দরকার নেই। কিন্তু জানালার পাশে কাজ করলে বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের সামনে থাকলেও ত্বক ক্ষতির মুখে পড়ে। বাইরে থাকলে প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন পুনরায় লাগানো উচিত। এতে ত্বকের টোন ও টেক্সচারে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে।

২. স্কিনকেয়ারে লেস ইজ মোর

অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা শক্তিশালী প্রোডাক্ট ত্বকের ব্যারিয়ার নষ্ট করে ব্রণ ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়
অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা শক্তিশালী প্রোডাক্ট ত্বকের ব্যারিয়ার নষ্ট করে ব্রণ ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়

একসঙ্গে অনেক অ্যাকটিভ উপাদান ব্যবহার করা ত্বকের জন্য উপকারের বদলে ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত এক্সফোলিয়েশন বা শক্তিশালী প্রোডাক্ট ত্বকের ব্যারিয়ার নষ্ট করে ব্রণ ও সংবেদনশীলতা বাড়ায়।
সকালে: একটি মাইল্ড ক্লিনজার, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন।
রাতে: প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট ট্রিটমেন্ট, যেমন রেটিনল বা অ্যাকনে কন্ট্রোল প্রোডাক্ট।

সহজ রুটিনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর।

বিজ্ঞাপন

৩. স্কিন ব্যারিয়ারকে অগ্রাধিকার দিন

সাধারণত হার্শ ক্লিনজার, ঘন ঘন প্রোডাক্ট বদলানো আর অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এর জন্য দায়ী
সাধারণত হার্শ ক্লিনজার, ঘন ঘন প্রোডাক্ট বদলানো আর অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এর জন্য দায়ী

ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার দুর্বল হলে নিস্তেজতা, রুক্ষতা, ব্রণ ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। সাধারণত হার্শ ক্লিনজার, ঘন ঘন প্রোডাক্ট বদলানো আর অতিরিক্ত স্ক্রাবিং এর জন্য দায়ী।
ত্বকের ব্যারিয়ার শক্ত রাখতে ডার্মাটোলজিস্টরা যেসব উপাদান ব্যবহারের পরামর্শ দেন—
সেরামাইডস, গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ও নিয়াসিনামাইড।
এই উপাদানগুলো ত্বককে আর্দ্র রাখে, সুরক্ষা দেয় এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবান করে তোলে।

৪. ব্রণ হলে দেরি নয়

ব্রণ একটি মেডিকেল কন্ডিশন
ব্রণ একটি মেডিকেল কন্ডিশন

ব্রণকে অনেকেই সাময়িক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না করলে তা থেকে দাগ, পিগমেন্টেশন ও অসমান টেক্সচার তৈরি হতে পারে।
ব্রণ একটি মেডিকেল কন্ডিশন—যা হরমোন, লাইফস্টাইল ও স্কিনকেয়ার অভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই ব্রণ দেখা দিলে দ্রুত ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়াই ভবিষ্যতের বড় সমস্যাগুলো এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায়।

৫. ভেতর থেকে ত্বকের যত্ন

ত্বকের সত্যিকারের যত্ন শুরু হয় শরীর ও মনের ভারসাম্য থেকে
ত্বকের সত্যিকারের যত্ন শুরু হয় শরীর ও মনের ভারসাম্য থেকে

শুধু বাহ্যিক প্রোডাক্টেই সুন্দর ত্বক সম্ভব নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাদ্য ত্বকের উজ্জ্বলতার জন্য অপরিহার্য। পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ ত্বকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—নিস্তেজতা ও ব্রণ দুটোই বাড়ায়।

ত্বকের সত্যিকারের যত্ন শুরু হয় শরীর ও মনের ভারসাম্য থেকে।

নতুন বছরে নিখুঁত ত্বকের স্বপ্ন পূরণ করতে হলে দরকার নেই অগণিত প্রোডাক্ট বা জটিল রুটিনের। কয়েকটি সচেতন অভ্যাস, নিয়মিত যত্ন আর নিজের ত্বককে বোঝার মানসিকতাই পারে আপনাকে নিয়ে যেতে আরও স্বাস্থ্যবান, উজ্জ্বল এক স্কিন জার্নিতে।

সূত্র: স্কিনকেয়ারডটকম

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮: ০০
বিজ্ঞাপন