শীতকালীন গোসলের সঠিক সমাধান: আরাম ও যত্নের ভারসাম্য
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বিশেষজ্ঞ ডার্মাটোলজিস্টদের মতে, আমাদের ত্বক একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে। ত্বকের ভেতরে থাকা প্রাকৃতিক তেল ও লিপিড ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং বাইরের ক্ষতিকর উপাদান থেকে রক্ষা করে। কিন্তু দীর্ঘ সময় গরম পানির সংস্পর্শে থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ তেল ধুয়ে যেতে শুরু করে। এর ফলেই ত্বক হয়ে ওঠে শুষ্ক, টানটান এবং সহজেই জ্বালা বা সংক্রমণের শিকার।

ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট হয় যেভাবে

গরম পানিতে নিয়মিত গোসল করলে ত্বকের মাইক্রোবায়োম বা প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে ত্বকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ক্ষতিকর জীবাণু বাড়ার সুযোগ পায়। বিশেষ করে যাঁরা একজিমা, সোরিয়াসিস, রোসেসিয়া বা সংবেদনশীল ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে গরম পানির গোসল উপসর্গ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। গোসলের পর লালচে ভাব, জ্বালা বা চুলকানি—এসবই দুর্বল স্কিন ব্যারিয়ারের লক্ষণ।

আর্দ্রতা হারিয়ে দ্রুত বার্ধক্য

অনেকেই ভাবেন, পানির সংস্পর্শে থাকলে ত্বক হাইড্রেটেড থাকবে। কিন্তু বাস্তবে গরম পানি ত্বকের আর্দ্রতা আরও দ্রুত উড়িয়ে দেয়। গরম পানি ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস বাড়ায়, ফলে গোসলের পর ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে ফাইন লাইন, রুক্ষ টেক্সচার আর বয়সের ছাপ দ্রুত স্পষ্ট হতে শুরু করে। মুখ ও হাতের ত্বক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ এই অংশগুলোর ত্বক তুলনামূলক পাতলা এবং তেলের গ্রন্থিও কম।

বিজ্ঞাপন

লালচে ভাব ও প্রদাহের ঝুঁকি

গরম পানি ত্বকের ওপরের রক্তনালিগুলো প্রসারিত করে। এতে সাময়িকভাবে ত্বক উজ্জ্বল দেখালেও, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রসারণ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল করে দিতে পারে। ফলাফল হিসেবে স্থায়ী লালচে ভাব বা কেশিকাগুলোর ক্ষতি হতে পারে, বিশেষ করে রোসেসিয়ায় আক্রান্ত বা ফর্সা ত্বকের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি অতিরিক্ত তাপ ত্বকে প্রদাহ সৃষ্টি করে ব্রণপ্রবণ ত্বকের সমস্যাও বাড়াতে পারে।

চুল ও স্ক্যাল্পের ক্ষতিও কম নয়

গরম পানির প্রভাব শুধু ত্বকেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক সিবাম বা তেল ধুয়ে ফেলে, ফলে মাথার ত্বক শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। চুলের গোড়ায় আর্দ্রতা ও প্রোটিন কমে গিয়ে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ এবং সহজেই ভেঙে যায়। রঙ করা বা কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট করা চুলে এই ক্ষতি আরও দ্রুত চোখে পড়ে।

কী করবেন, কীভাবে বাঁচাবেন ত্বক

বিশেষজ্ঞরা শীতে কুসুম গরম পানিতে গোসলের পরামর্শ দেন। এতে ত্বক পরিষ্কারও হয়, আবার তার প্রাকৃতিক সুরক্ষাও বজায় থাকে। গোসলের সময় সংক্ষিপ্ত রাখা, শক্ত বা সুগন্ধিযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলা এবং তোয়ালে দিয়ে ঘষে না মুছে আলতোভাবে ত্বক শুকানো জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—গোসলের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ময়েশ্চারাইজার বা হালকা তেল ব্যবহার করা। এতে ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা আটকে থাকে এবং স্কিন ব্যারিয়ার ধীরে ধীরে নিজেকে ঠিক করে নিতে পারে। হালকা সুগন্ধি বা ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি ক্লিনজার ও এমোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে ত্বক দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বস্তিতে থাকে।

সূত্র: হেলথলাইন

ছবি: এআই

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১: ০০
বিজ্ঞাপন