
অভিনয়জীবনের এক দশক পূর্ণ করলেন অভিনেতা আজম খান। করপোরেট জগতের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সফল ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও ২০১৫ সালের ৩ জুলাই, পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে হঠাৎ করেই পা রাখেন অভিনয়জগতে। প্রথম শুটিংয়ের দিনই হারান জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ মাকে। ব্যক্তিগত শোক নিয়েই শুরু হয় তাঁর অভিনয়ের পথচলা।

মাত্র এক দশকের ব্যবধানে আজম খান নাটক, টেলিফিল্ম, ধারাবাহিক নাটক, মিউজিক ভিডিও, সিনেমাসহ শোবিজের নানা মাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দেশের প্রথম সারির পরিচালকদের সঙ্গে, অভিনয় করেছেন আফরান নিশো, মেহজাবীন, অপূর্ব, তিশা, মমসহ বহু তারকার সঙ্গে। কখনো বাবার চরিত্রে, কখনো পুলিশ, ডাক্তার, উকিল বা সাধারণ মানুষ—সব চরিত্রেই নিজেকে ফুটিয়ে তুলেছেন সমান স্বতঃস্ফূর্ততায়। তিনি নিজেই বলেন, ‘অভিনয় এমন এক শিল্প, যার মাধ্যমে সব ধরনের চরিত্রের আস্বাদন নেওয়া যায়।’
এই বিশেষ অর্জনকে কেন্দ্র করে ৫ জুলাই শনিবার বিকেল ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দ্বিতীয় তলায় বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহার আয়োজন ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ উদ্যাপন অনুষ্ঠান। উপস্থিত ছিলেন নাট্যাঙ্গনের অনেক গুণীজন, সহকর্মী ও আজম খানের বন্ধুবান্ধব।

অনুষ্ঠানে অভিনেতা জাহিদ হাসান বলেন, ‘আজম ভাই যেমন পর্দায় বাবার চরিত্রে প্রাণ ঢেলে দেন, ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি একজন আদর্শ বাবাও।’
পরিচালক চয়নিকা চৌধুরী জানান, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, কেন আমার নাটকে বারবার আজম ভাই বাবার চরিত্রে থাকেন। আমি বলি, উনি নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নেন।’
অভিনেতা আরশ খান বলেন, ‘তিনি শুধু একজন দক্ষ অভিনেতাই নন, একজন অসাধারণ মানুষও।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা সোহেল আরমান, অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু, অভিনেত্রী ফারজানা চুমকী প্রমুখ। ঢাকা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজম খানকে শুভেচ্ছা জানান তাঁর ব্যাচের বন্ধুরা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তাকে ঘিরে গান, কবিতা, গল্প আর প্রাণের গল্পে মুখর হয়ে ওঠে সন্ধ্যা। এই এক দশকের অভিনয়যাত্রা আজম খানের জন্য যেমন স্মরণীয়, তেমনি নতুন প্রজন্মের অভিনেতাদের জন্যও এক অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে থাকবে।
ছবি: হাল ফ্যাশন