
ঢাকার আকাশপথে আসা অতিথিদের কাছে শহরের প্রথম অভিজ্ঞতাই হতে পারে আধুনিক আতিথেয়তার এক নতুন পরিচয়, সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এগোচ্ছেন অশ্বিনী নায়ার। তাঁর নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও আতিথেয়তা শিল্পে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি পেলেন ‘এশিয়াস মোস্ট এমিনেন্ট জেনারেল ম্যানেজার অ্যাওয়ার্ড’। বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের জন্যও এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

আইএইচজি সাউথ ওয়েস্ট এশিয়ার এরিয়া জেনারেল ম্যানেজার এবং ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্টের ক্লাস্টার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বিনী নায়ারকে এ সম্মাননা দিয়েছে সিএমও এশিয়া ও ওয়ার্ল্ড ফোরাম অব হসপিটালিটি। ৩ আগস্ট সিঙ্গাপুরের প্যান প্যাসিফিক সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ১৭তম ওয়ার্ল্ড হসপিটালিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের করপোরেট ও হসপিটালিটি শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নায়ার স্বীকৃতি পান নেতৃত্ব, উদ্ভাবন, অপারেশনাল এক্সেলেন্স এবং হসপিটালিটি শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি অবদানের জন্য।
এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; বাংলাদেশের হসপিটালিটি শিল্পের জন্যও এটি একটি ইতিবাচক বার্তা। কারণ দেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত যখন নতুন অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক পর্যটক এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের চাহিদা পূরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার হসপিটালিটি ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনাও নতুন করে আলোচনায় আসছে।

পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় অশ্বিনী নায়ার বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর একার নয়, পুরো দলের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের প্রতিফলন। তাঁর ভাষায়, হসপিটালিটির মূল বিষয় হলো মানুষের জন্য অর্থবহ অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করা। আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করার জন্য তিনি তাঁর সহকর্মীদের প্রতিভা ও নিষ্ঠার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।
তবে সিঙ্গাপুরের ওই আয়োজন শুধু পুরস্কার গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। অনুষ্ঠানে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের করপোরেট নেতা, ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের সামনে বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরেন নায়ার।
বিশেষ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নতুন হসপিটালিটি ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, এয়ারপোর্ট এখন কেবল যাত্রীদের আগমন ও বহির্গমনের স্থান নয়; একটি আধুনিক এয়ারপোর্ট ইকোসিস্টেম একই সঙ্গে রিটেইল, কমার্শিয়াল, কনভেনশন, হসপিটালিটি ও বিনোদনের সমন্বিত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
এই ভাবনারই একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ইন্টিগ্রেটেড রিটেইল, কমার্শিয়াল, কনভেনশন অ্যান্ড হসপিটালিটি কমপ্লেক্সের কথা। এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্ট।

নায়ারের ভাষায়, এই সমন্বিত উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু ভ্রমণকারীদের থাকার ব্যবস্থা করা নয়; বরং ঢাকায় প্রবেশের মুহূর্ত থেকেই তাঁদের জন্য একটি সিমলেস এবং উন্নত অভিজ্ঞতা তৈরি করা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হসপিটালিটি খাতে নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে এর মাধ্যমে।
আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের এই নতুন এয়ারপোর্টকেন্দ্রিক হসপিটালিটি মডেলের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। অনুষ্ঠানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, ওরাকল, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল, ডেলয়েট, সিটিব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
গত কয়েক বছরে ঢাকার হসপিটালিটি ল্যান্ডস্কেপেও পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, কনভেনশন সুবিধা, ব্যবসায়িক ভ্রমণ এবং এয়ারপোর্টকেন্দ্রিক কমার্শিয়াল ডেভেলপমেন্ট—সব মিলিয়ে রাজধানীর আতিথেয়তা খাত ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পর্যটন, ব্যবসায়িক আয়োজন, করপোরেট ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো খাত।

এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে অশ্বিনী নায়ারের স্বীকৃতি তাই ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশের হসপিটালিটি শিল্পের সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এয়ারপোর্টের নেতৃত্বে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে যেমন রয়েছে অতিথির অভিজ্ঞতা ও অপারেশনাল এক্সেলেন্স নিশ্চিত করা, তেমনি রয়েছে বাণিজ্যিক সাফল্য এবং একটি শক্তিশালী দলীয় সংস্কৃতি গড়ে তোলা। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান দুটি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় হসপিটালিটি গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হসপিটালিটি নেতৃত্বের মঞ্চ থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি সেই যাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের আতিথেয়তা খাতের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও আরও দৃশ্যমান করল।
ঢাকার হসপিটালিটি শিল্প এখন আর শুধু হোটেলের কক্ষ, রেস্তোরাঁ বা ব্যাংকোয়েট সার্ভিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিমানবন্দর, ব্যবসা, কনভেনশন, রিটেইল, পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—সবকিছুকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন এক ইকোসিস্টেম। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে অশ্বিনী নায়ারের এই স্বীকৃতি যেন সেই বৃহত্তর পরিবর্তনেরই একটি প্রতীক।
ছবি: ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট ও হাল ফ্যাশন