ঐতিহ্য রক্ষা ও শিল্পের পুনরুজ্জীবন: টাঙ্গাইল বয়নশিল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ)–এর উদ্যোগে “টাঙ্গাইলের তাঁত: ঐতিহ্যের মালিকানা ও শিল্পের সম্ভাবনা” শীর্ষক সংলাপ বুধবার ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাঁ থেকে: মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক মাসউদ ইমরান, বিশেষ অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন, বিএনসিইউর চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার ও বিএনসিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি
বাঁ থেকে: মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক মাসউদ ইমরান, বিশেষ অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন, বিএনসিইউর চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার ও বিএনসিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি

সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনসিইউর চেয়ারম্যান ও শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ’র সেক্রেটারি জেনারেল মিজ রেহানা পারভীন।

বিজ্ঞাপন

সংলাপের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসউদ ইমরান।

অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল তাঁতি কমিউনিটির প্রতিনিধি, হেরিটেজ বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, টাঙ্গাইল শাড়ি ব্র্যান্ডিংয়ের উদ্যোক্তা, তরুণ ফ্যাশন ডিজাইনার, আইনি পরামর্শক এবং সরকারি ও বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহ্য, প্রযুক্তি ও জিআই বিতর্ক

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক মাসউদ ইমরান ইউনেস্কো কর্তৃক টাঙ্গাইল বয়ন ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এর ঐতিহাসিক উৎস, বুনন কৌশলের প্রযুক্তিগত দিক এবং সাম্প্রতিক জিআই বা ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বিতর্ক বিশ্লেষণ করেন।

 বৈঠকে উপস্থিত অংশীজন
বৈঠকে উপস্থিত অংশীজন

তিনি বলেন, টাঙ্গাইল তাঁত কেবল একটি অর্থনৈতিক খাত নয়; এটি বাংলাদেশের অবিনাশী আত্মার এক সুনিপুণ বুনন। তাঁর মতে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও জিআই বিতর্ক এই বার্তাই দেয় যে ঐতিহ্যের মালিকানা রক্ষায় আইনি সচেতনতা ও সক্রিয়তা অপরিহার্য।

প্রান্তিক বয়নশিল্পীদের আর্থ-সামাজিক সংকট তুলে ধরে তিনি আধুনিক বিপণন কৌশল ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে এই শিল্পের পুনরুত্থানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।

আইনি ও নীতিগত সুপারিশ

মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

স্বতন্ত্র ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অ্যাক্ট প্রণয়ন, লিভিং হিউম্যান ট্রেজার সিস্টেম চালু, জাতীয় ইনভেন্টরি ডিজিটালাইজেশন, শিক্ষা পাঠক্রমে ঐতিহ্যের ইতিহাস ও গল্প অন্তর্ভুক্তি, মেধাস্বত্ব আইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং নগরায়নের ক্ষেত্রে হেরিটেজ ইম্প্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক করা।

সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বিএনসিইউর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সি আর আবরার তাঁর বক্তব্যে ঐতিহ্যের পুনঃসৃজনে সমন্বিত নীতি ও যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি টাঙ্গাইল তাঁতের ইউনেস্কো স্বীকৃতি অর্জনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় যাদুঘর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

বৈঠকে উপস্থিত অংশীজন
বৈঠকে উপস্থিত অংশীজন

এ সময় টাঙ্গাইলসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও শিল্পের জিআই সুরক্ষায় ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা প্রস্তাবিত ‘লইয়ার্স পুল’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন তিনি। সংলাপে উত্থাপিত সুপারিশগুলো সন্নিবেশিত আকারে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী সংস্থায় পাঠানোর জন্য আয়োজকদের অনুরোধ জানান।

শিক্ষা কারিকুলামে ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্তির আশ্বাস

সংলাপকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত আখ্যা দিয়ে রেহানা পারভীন বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা এই উদ্যোগের বড় সাফল্য। তিনি জানান, মূল প্রবন্ধে উত্থাপিত সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষা কারিকুলামে ঐতিহ্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তাঁর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

অংশগ্রহণকারীরা

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন তাঁতশিল্পী সমিতির নেতা রঘুনাথ বসাক ও নীলকমল বসাক, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের মনিরা এমদাদ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের লুভা নাহিদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ ছিদ্দিকী (এনডিসি), কপিরাইট রেজিস্ট্রার এস. এম. আরশাদ ইমাম, বাংলাদেশ জাতীয় যাদুঘরের কিপার আসমা ফেরদৌসি, ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের কালচার প্রোগ্রাম হেড কিযী তাহনিন, হেরিটেজ টেক্সটাইল গবেষক, সাংবাদিক ও বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের সদস্য শেখ সাইফুর রহমান, ফ্যাশন ডিজাইনার রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণা। এ ছাড়া পররাষ্ট্র, শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

ছবি: বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ২৮
বিজ্ঞাপন