
তরুণ আধেয় নির্মাতাকে নিয়ে বিকাশ নিবেদিত ‘স্কুল অব ইনফ্লুয়েন্সার সিজন ৩’–এর এই আয়োজন শুরু হয় সকাল ১০টার দিকে। চলে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৃজনশীল আধেয় নির্মাণ ও পরিকল্পনা, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ফটোগ্রাফিসহ নানা আলোচিত বিষয়ে চারটি সেশন পরিচালনা করেন কনটেন্ট নির্মাতা রাকিন আবসার, পরী রুখ আল মতিন, অনির্বাণ কায়সার ও শুভাশীষ ভৌমিক। এ ছাড়া প্যানেল সদস্য হিসেবে ছিলেন পিরান খান, স্মিতা চৌধুরী, মঞ্জুরুল হক, আমিন হান্নান প্রমুখ। এ কর্মশালার আয়োজন করে ‘দ্য মার্বেল-বি ইউ’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম।
চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এ কারণে তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটররা ছিলেন উচ্ছ্বসিত। ডিজিটাল আঙিনায় অনুসারী বাড়ানো, সৃজনশীল আইডিয়া তৈরি করা, আইডিয়া অনুযায়ী কনটেন্ট বানানোসহ নানা প্রশ্ন করেন তরুণ কনটেন্ট নির্মাতারা। কনটেন্ট নির্মাতা রাকিন আবসার বলেন, এক দিনেই কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে সফল হওয়া যায় না। এ জন্য লেগে থাকতে হয়। ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের নিত্যনতুন ফিচারগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে শেখা যায়। ফেসবুকের ক্যাপশন ঠিকঠাকভাবে দিতে হয়। ক্যাপশনে লিংক দিলে ফেসবুকের রিচ কমে যায়। কারণ, ফেসবুক তখন মনে করে, কনটেন্টের মাধ্যমে কোনো পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তাই লিংক দিতে হবে কমেন্ট সেকশনে। এ ছাড়া নিত্যনতুন সৃজনশীল আইডিয়া দিয়ে কনটেন্ট বানালে দর্শক গ্রহণ করবে। রাকিন তরুণ কনটেন্ট নির্মাতাদের ছোট ছোট ভিডিও করা, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করা, এডিট ঠিকঠাক করার পরামর্শ দেন।
কনটেন্ট নির্মাতা অনির্বাণ কায়সার ফটোগ্রাফি ও ভিডিও তৈরির খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে অনির্বাণ প্রথম আলোকে বলেন, হাল আমলের কনটেন্ট নির্মাতারা রিল ও ভ্লগ তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। কীভাবে এ দুই ক্ষেত্রে আধেয় নির্মাণ করা যায়, তা নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন তিনি। আয়োজকেরা জানান, বিকাশ স্কুল অব ইনফ্লুয়েন্সার–এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কনটেন্ট নির্মাতাদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের উদ্দেশে কাজ করে যাচ্ছে মার্বেল-বি ইউ। এ সংগঠনের লক্ষ্য হলো স্কুল অব ইনফ্লুয়েন্সারকে এমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করা, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শহরের তরুণ কনটেন্ট নির্মাতাদের আরও সৃজনশীল করে তোলা এবং সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ করে দেওয়া যায়।

দানিয়েল আলম নামের অংশগ্রহণকারী এক কনটেন্ট নির্মাতা বলেন, ব্যবসায় বিস্তারিয়া নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে ব্যবসায়িক কনটেন্ট তৈরি করেন তিনি। কনটেন্টকে কীভাবে আরও পরিশীলিত করা যায়, কীভাবে আরও ইউনিক করা যায়, তা জানতেই তিনি কর্মশালায় অংশ নিয়েছেন।
অন্যদিকে নোহা সিদ্দিকা স্ক্রিপ্ট রাইটিং নিয়ে খুঁটিনাটি জেনেছেন। তিনি বলেন, কোনো কনটেন্ট দর্শকের কাছে পৌঁছানোর আগে ভালো একটা স্ক্রিপ্ট তৈরি করতে হয়। ওই স্ক্রিপ্ট কীভাবে সাজানো যাবে, কীভাবে পরিকল্পনা করতে হবে, তা জেনেছেন কর্মশালায় এসে। উল্লেখ্য, বিকাশ প্রেজেন্টস স্কুল অব ইনফ্লুয়েন্সার সিজন ৩ কর্মশালায় মিডিয়া পার্টনার ছিল সময় টিভি, ট্রাভেল পার্টনার এয়ার অ্যাস্ট্রা, সার্ভিস পার্টনার পেপার রাঈম, প্রিন্ট পোর্টাল পার্টনার হাল ফ্যাশন ও ফুড পার্টনার ছিল বারকোড ক্যাফে।