বিষমুক্ত জীবনের পথে নতুন ঠিকানা: লালমাটিয়ায় যাত্রা শুরু করল সুপণ্য
শেয়ার করুন
ফলো করুন

শুক্রবার বিকেলে লালমাটিয়ার ২/৭, ব্লক-বি-তে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল—স্বাস্থ্য, প্রকৃতি এবং মানুষের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য। বক্তারা একবাক্যে বলেন, সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে হলে নিরাপদ ও বিষমুক্ত খাদ্যের বিকল্প নেই। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তে প্রকৃতিনির্ভর, বিজ্ঞানভিত্তিক অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল কৃষিই হতে পারে ভবিষ্যতের পথ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিলোত্তমা বাংলা গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং তিলোত্তমা অরগানিক কৃষি খামারের প্রতিষ্ঠাতা জোয়ারদার নওশের আলী, এফসিএ। তিনি বলেন, এটি কেবল একটি ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়, বরং একটি সচেতন খাদ্য আন্দোলন। সবাইকে এই আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদের। তার বক্তব্যে উঠে আসে গভীর উদ্বেগ—বাংলাদেশের আবাদি জমির ক্রমাগত উর্বরতা হ্রাস। তিনি বলেন, অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল পদ্ধতিতে চাষই এখন সময়ের দাবি। এটিকে তিনি ‘অরগানিক’-এর সীমা ছাড়িয়ে ‘বিয়ন্ড অরগানিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও একই সুর। সাবেক সচিব মো. সেলিম রেজা, কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. মাহবুবুর রহমান, প্রাকৃতিক খাদ্য বিশেষজ্ঞ শহীদ আহমেদসহ অন্যান্য বক্তারা অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল কৃষির বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, এই পদ্ধতিতে কোনো রাসায়নিক সার বা ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার না করে জমির জীব (Biotic), জড় (Abiotic) ও ভৌত উপাদানের স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ফসল উৎপাদন করা হয়। ফলে মাটির স্বাস্থ্য, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক খাদ্যশৃঙ্খল অক্ষুণ্ন থাকে।

বিজ্ঞাপন

এই কৃষি পদ্ধতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—পুষ্টিমান। বক্তারা জানান, অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল পদ্ধতিতে উৎপাদিত খাদ্যে পুষ্টি উপাদান প্রাণরাসায়নিক ও জিনগতভাবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। এসব খাদ্য মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ জীবনধারার ভিত্তি তৈরি করে।

ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনে অনিরাপদ ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের কারণে যখন নানা জটিল রোগ বাড়ছে, তখন ‘সুপণ্য’-এর মতো উদ্যোগ শহুরে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে। বক্তাদের ভাষায়, সুপণ্য কেবল একটি খাদ্য বিপণন প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সচেতন জীবনধারার অংশ।

এই উদ্যোগের পেছনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন অ্যাগ্রোইকোলোজিক্যাল কৃষি আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত কৃষি বিশেষজ্ঞ ও সুকৃষি এবং সুপণ্যের প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান। তার বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টাকে বক্তারা বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। পাশাপাশি আউটলেট স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য বিডিডিএল প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএ বাতেন খানের অবদানও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সভাপতি ও প্রধান অতিথি একসঙ্গে ফিতা কেটে ‘সুপণ্য’-এর প্রথম আউটলেটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আরও আউটলেট স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও বিষমুক্ত খাদ্য সবার জন্য সহজলভ্য করার লক্ষ্য নিয়েই এগোবে সুপণ্য।

হাল ফ্যাশনের পাঠকের জন্য ‘সুপণ্য’-এর এই যাত্রা তাই শুধু একটি নতুন দোকান খোলার খবর নয়—এটি সুস্থতা, সচেতনতা ও প্রকৃতির সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ে তোলার গল্প।

ছবি: সুপণ্য

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ১২
বিজ্ঞাপন