শেষ হল বিসিকের জামদানি ও কারুপণ্য মেলা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

আজ শেষ হয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদ্যোগে আয়োজিত পাঁচ দিনের ‘বিসিক জামদানি ও কারুপণ্য মেলা-২০২৬’। মেলাটি ১০ থেকে ১৪ মার্চ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিদিন ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন। জামদানিসহ অন্যান্য পোশাক ও অনুষঙ্গ নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে মোট ১০০টি স্টল।
প্রথম দিন মেলার বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘এনহান্সিং ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিটিভনেস অব জিআই জামদানি থ্রু ব্র্যান্ডিং, কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স অ্যান্ড ডিজিটাল মার্কেটিং’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনার শেষে মেলার উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

শুরুতেই স্বাগত বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বিসিকের বহুমাত্রিক কার্যক্রম ও দেশের শিল্পায়নে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন বিসিক শিল্পনগরী ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাতে প্রায় ৮ দশমিক ৫ লাখ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।

মেলার উদ্বোধন করছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ
মেলার উদ্বোধন করছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ

বিসিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শিল্প খাত থেকে প্রতিবছর প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা মূল্যের পণ্য বিক্রি হয় এবং বিসিক শিল্পনগরীগুলো থেকে সরকার প্রায় ৪ দশমিক ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করে। তিনি আরও বলেন, জিআই পণ্য হিসেবে জামদানি বিসিকের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। জামদানির আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিজাইন উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সম্প্রসারণে বিসিক কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ কারিগর তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মকে এই শিল্পে আগ্রহী করে তুলতেও বিসিক ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বিজ্ঞাপন

তারপর সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চন্দ্রশেখর সাহা। তিনি জামদানির আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, ব্র্যান্ডিং, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিসিক শিল্পনগরীর জন্য বয়নশিল্পীদের নতুন যেসব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেন বয়নশিল্পী মোহাম্মদ নাহিদুল রাসেল। তিনি বলেন, বিসিকের প্রশিক্ষণ পেয়ে বয়নশিল্পীদের সংখ্যা বাড়ছে৷ শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরাও এখন কাজ করছে।

বক্তব্য রাখছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান

মূল প্রবন্ধের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যোগ করে জামদানির সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস আলোচনা করেন, জ্যেষ্ঠ ফ্যাশন সাংবাদিক শেখ সাইফুর রহমান। তাঁর বক্তব্যে আরও উঠে আসে মসলিন আর জামদানির পার্থক্য। জামদানির মোটিফ সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কেটিং, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুতার ওপর ভিত্তি করে দাম নিয়ন্ত্রণ, বয়নশিল্পীদের সহযোগিতার প্রসঙ্গে ঋণ নয় বরং কাঁচামালের সুলভতা, সর্বোচ্চ জাতীয় কোনো পুরস্কার দেওয়া হয় না বয়নশিল্পীদের, জিআই জার্নালগুলোকে ইংরেজি করা আর আন্তর্জাতিক ফ্যাশন উইকগুলোর প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, এসব জরুরি বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

সিনিয়র ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল বলেন, ‘দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজ করা বয়নশিল্পীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। পণ্যের মানোন্নয়ন এবং তাঁতিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’ তারপর উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন উপস্থিত অনেকেই।

বক্তব্য রাখছেন বিসিকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম
বক্তব্য রাখছেন বিসিকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম

সেমিনারের শেষ পর্যায়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেন, দেশের বয়নশিল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে বিবি রাসেলের মতো গুণী ব্যক্তিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প সংরক্ষণ, উন্নয়ন, ডিজিটাল বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে আমাদের আরও গুরুত্ব দিতে হবে।’ একই সঙ্গে বয়নশিল্পীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও বিশেষ নজর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এই সেমিনারের মাধ্যমে শুধু জামদানি নয়, দেশের সামগ্রিক বয়নশিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তিনি জানান, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ, বাজারজাতকরণ, মার্কেটিং, পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ সৃষ্টি এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

ছবি: বিসিক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৫১
বিজ্ঞাপন