
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত পাঁচ তারকা হোটেল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে অনুষ্ঠিত হলো রুফটপ রেস্তোরাঁ ‘বিস্ট বাই এমকে’-এর গ্র্যান্ড রিলঞ্চ ও অভিনব পাসপোর্ট মেনু উন্মোচন। ভ্রমণপ্রেমী ও রসনাপ্রিয় অতিথিদের জন্য তৈরি এই কনসেপ্ট মেনুতে রয়েছে ৫ মহাদেশের ৩০টি দেশের স্বাদ, গল্প ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অভিজ্ঞতা।

২৬ তলার ওপর অবস্থিত ‘দ্য বিস্ট’ ঢাকার অন্যতম উঁচু রুফটপ ডাইনিং স্পেস, যেখানে শহরের নান্দনিক দৃশ্যের সঙ্গে ফাইন ডাইনিং অভিজ্ঞতা অতিথিদের আকর্ষণ করে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে রেস্তোরাঁর পরিবেশ, কুলিনারি উপস্থাপন ও নতুন মেনু সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন ক্রাউন প্লাজার জেনারেল ম্যানেজার ও এক্সিকিউটিভ শেফ।
জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, ‘আমরা কখনো নকল ধারণা বা ডুপ্লিকেট কনসেপ্ট অনুসরণ করি না। আমাদের লক্ষ্য বাস্তব অভিজ্ঞতা, আসল স্বাদ ও সত্যিকারের আতিথেয়তা। বিস্ট বাই এমকের পাসপোর্ট মেনু হলো ৫ মহাদেশের ৩০টি দেশের স্বাদের সম্মিলন, যেখানে এক প্লেট শুধু খাবার নয়, থাকে গল্প ও একটি কালিনারি অভিযাত্রা।’
কার্থি ভিকে আরও যোগ করেন, ‘খাবারই সেই ভাষা, যা সংস্কৃতি ও ভালোবাসা সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে। এখানে আমরা শুধু ফাইন ডাইনিং পরিবেশন করছি না, স্বাদের মাধ্যমে গল্প বলছি। এটি খাবার, স্মৃতি ও ভ্রমণের এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।’
২৫ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিরিয়ান এক্সিকিউটিভ শেফ মোহাম্মদ খাওয়ালদেহ বলেন, ‘এই মেনুর প্রতিটি ডিশ আমার ভ্রমণের স্মৃতি-কোথায় বেড়ে উঠেছি, কোন শহরের রাস্তার খাবার আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে, কোন সংস্কৃতি আমাকে শিখিয়েছে নতুন স্বাদের ব্যাখ্যা—সব মিলেই তৈরি হয়েছে পাসপোর্ট মেনু। যাঁরা বিদেশে না গিয়েও বিশ্বজুড়ে স্বাদ জানতে চান, তাঁদের জন্য এটি অনন্য অভিজ্ঞতা।’
মোহাম্মদ খাওয়ালদেহ আরও বলেন, ‘এখানে কোনো রেডি বা প্রি-কুকড আইটেম নেই। প্রতিটি খাবার তৎক্ষণাৎ রান্না করা হয়। হাইজিন ও ফুড সেফটি প্রতিটি ধাপে নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, ঢাকার ডাইনিং কালচারে এটি নতুন ট্রেন্ড তৈরি করবে। ইউরোপের বৃষ্টিভেজা বিকেলে রাস্তার দোকান থেকে স্মোকড ফিশ বা উত্তর আফ্রিকার বাজারের মশলার গন্ধ—এসবই আমরা বিভিন্ন ডিশে ফুটিয়ে তুলেছি, যেন অতিথিরা প্লেটেই পৃথিবীর স্বাদ পান।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ জাসিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, ‘খাবার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে, দেশ ও ভাষার সীমানা পেরিয়ে। পৃথিবীর যেখানেই গেছি, খাবারই ছিল মানুষের ভালোবাসার ভাষা। একসঙ্গে বসে বিশ্বজুড়ে স্বাদ উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ঢাকার মানুষদের জন্য সত্যিই নতুন ও চমৎকার।’
ক্রাউন প্লাজার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাসপোর্ট মেনু ২ নভেম্বর থেকে অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ঢাকার খাদ্যপ্রেমীরা এখান থেকে আন্তর্জাতিক স্বাদ উপভোগ করতে পারবেন।
ছবি: হাল ফ্যাশন