
টেকসই উন্নয়ন এখন আর কেবল পরিবেশ সংরক্ষণের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অর্থনীতি, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর পৃথিবী গড়ে তোলার প্রশ্ন। এসব বিষয়কে সামনে রেখে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ডিআইইউ) ১৪ অক্টোবর, বুধবার, ‘সাসটেইনেবিলিটি ডে’ উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী ‘ডিআইইউ সাসটেইনেবিলিটি উইক ২০২৬’। সমাপনী দিনের আয়োজনজুড়ে ছিল নীতিনির্ধারণী আলোচনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অর্জনের স্বীকৃতি এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান।
ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির নলেজ টাওয়ারের ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স হলে সকাল ৯টায় শুরু হয় সমাপনী দিনের আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনীন রশীদ। তিনি অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
দিনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় টেকসই অর্থনীতি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা। ‘সাসটেইনেবল ইকোনমির জন্য সরকারের প্রস্তুতি: থ্রি-আর (৩-আর) স্ট্র্যাটেজি এবং এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক প্রথম পলিসি ডায়ালগে বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য এমন জনবল গড়ে তোলা জরুরি, যাদের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে জ্ঞান ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা থাকবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠদান ও গবেষণার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি উঠে আসে দ্বিতীয় পলিসি ডায়ালগে। ‘টেকসই উন্নয়নে শিল্প ও একাডেমিয়ার ভূমিকা: চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ শীর্ষক আলোচনায় শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা দুই পক্ষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে বাস্তবমুখী গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবনী কার্যক্রম, পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ এবং পেটেন্ট-সংক্রান্ত উদ্যোগ সম্পর্কে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের ধারণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি বিভিন্ন উদ্ভাবন দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে শিল্প খাতের বাস্তব সমস্যার সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও উদ্ভাবকদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষের স্বীকৃতিও ছিল সমাপনী আয়োজনের অন্যতম অংশ। কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশনের বৈশ্বিক বিষয়ভিত্তিক র্যাঙ্কিংয়ে অবদানের জন্য ডিআইইউর সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় বিভাগগুলোর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এ আয়োজন ভবিষ্যতে গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নে অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।
গ্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রিন্সিপাল এসডিজি কো-অর্ডিনেটর অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুল আউয়াল। বক্তব্যে তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে তরুণদের সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাসটেইনেবিলিটি উইককে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে, বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট অর্জনের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্লোভাক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির লুসিয়া মিয়াডোকোভা। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সপ্তাহজুড়ে আয়োজিত সাসটেইনেবল প্রজেক্ট কম্পিটিশন, সোশ্যাল বিজনেস এক্সপোজার প্রোগ্রাম (এসবিইপি) এবং এসডিজি ইয়ুথ ডায়ালগের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ক্লাবগুলোকে দেওয়া হয় টোকেন অব অ্যাপ্রিসিয়েশন।
পাঁচ দিনের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা যেমন শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে শিল্প ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছেছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সামাজিক উদ্যোগও পেয়েছে স্বীকৃতি। শিল্প, একাডেমিয়া ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নযাত্রায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
ছবি: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি