
মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬ বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশন (বিএনসিইউ) আয়োজিত “ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এবং বাংলাদেশের প্রামাণ্য ঐতিহ্য সনাক্তকরণ ও সংরক্ষণ: সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা” শীর্ষক ক সেমিনার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ভবনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) মো: শাহজাহান মিয়া।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান এবং বাংলা একাডেমির গবেষণা উপবিভাগের উপপরিচালক ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম যিনি সাইমন জাকারিয়া নামে সমাধিক পরিচিত। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বিএনসিইউ-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি।
এছাড়াও বাংলা একাডেমি, জাতীয় গ্রন্থাগার, জাতীয় জাদুঘর, চলচ্চিত্র আর্কাইভ, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, নজরুল ইনস্টিটিউট এবং ইউনেস্কো ঢাকা অফিস, সংস্কৃতি কর্মী, স্বাধীন গবেষক, হেরিটেজ একটিভিস্টসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিবর্গ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কাজী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মূল প্রবন্ধে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের প্রামাণ্য ঐতিহ্যের সম্ভাবনা, ইউনেস্কোর মানদণ্ড এবং আমাদের চ্যালেঞ্জসমূহকে ৪টি ভাগে বিভক্ত করে তুলে ধরেন। তিনি ইউনেস্কোর গাইডলাইন অনুযায়ী ঐতিহ্য সংরক্ষণে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেন।
প্রধান অতিথি সংকটের সময়ে ইতিহাসের গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দেন।
পদ্ধতিগত ঘাটতি ও আন্তর্জাতিক তুলনা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান উল্লেখ করেন যে, আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে আবেগ থাকলেও সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতির অভাব রয়েছে। তিনি বিশ্বের এথনোগ্রাফিক মিউজিয়ামের উদাহরণ দিয়ে জানান, বাংলাদেশে অনেক মূল্যবান ঐতিহ্য থাকলেও তা সঠিকভাবে প্রদর্শন করা সম্ভব হয়নি। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার এর মাধ্যমে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ডিজিটাইজেশন এবং আর্কাইভের কাজে লাগানোর উপর তিনি জোর দেন।
বাংলা একাডেমির ড. শরিফুল ইসলাম লিভিং হেরিটেজের সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা জানান এবং একই সাথে তিনি বিশ্ব জাদুঘরের তুলনায় বাংলাদেশের প্রামাণ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সেমিনারের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের সুচিন্তিত মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইলিয়া সুমনা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ড. শহিদুল হাসান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আসমা ফেরদৌসী এবং ইউনেস্কো ঢাকা অফিসের সংস্কৃতি প্রধান কিযী তাহনিনসহ আরও অনেকে।

আলোচনা পর্বে অধ্যাপক মাসউদ ইমরান মান্নু আঞ্চলিক ও বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন পলিসি তৈরি করা ও এর প্রভাবের উপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের পলিসি নির্ধারণ, একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে সব সংস্থাকে এনে সমন্বিত কমিটি গঠন করার মাধ্যমে একটি সমন্বিত হাব গঠন, ব্যক্তিগত উদ্যোগের স্বীকৃতি, জাতীয় নীতিমালা নির্ধারণ, ব্যক্তিগত বা স্বাধীন গবেষকবৃন্দের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ, আর্থিক প্রণোদনা, ইউনেস্কো ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রোগ্রাম সমন্বিত একশন প্ল্যান ইত্যাদি নানান বিষয় বক্তাগণ আলোচনা করেন। সেমিনার শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের অমূল্য প্রামাণ্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।
ছবি: বিএসসিইউ