জাতীয় জাদুঘরে টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য উদ্‌যাপনে চার দিনের আয়োজন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ টাঙ্গাইল শাড়ি। এই ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন ও সংরক্ষণের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশন (বিএনসিইউ), বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে চার দিনব্যাপী বিশেষ আয়োজন ‘হেরিটেজ, হারমনি, হ্যান্ডলুম: সেলিব্রেটিং দ্য লিগ্যাসি অব টাঙ্গাইল তাঁত’ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে চলছে টাঙ্গাইল শাড়ির এই বিশেষ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন। গ্যালারি–সংলগ্ন লবিতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী তাঁত মেলা। টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের নানা দিক তুলে ধরা এই আয়োজন ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে আয়োজনটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, তাঁতিদের জীবনমান উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা এবং এই ঐতিহ্য সুরক্ষার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি–বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম টাঙ্গাইল শাড়ির ইউনেসকো স্বীকৃতির পেছনের সাফল্যের গল্পের পাশাপাশি তাঁতিদের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘যাঁরা এই স্বীকৃত শিল্পের কারিগর, তাঁদের সম্মাননা দেওয়ার বিষয়টি আমাদের নিজেদের জন্যও সম্মানের। একই সঙ্গে এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়। এই শিল্প ও শিল্পীদের সুরক্ষা ও তাঁদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করা একটি গুরুদায়িত্ব হিসেবে আমাদের সামনে উঠে আসে।’

বিজ্ঞাপন

বিশেষ অতিথি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা তাঁতশিল্পীদের জ্ঞান সংরক্ষণ ও তাঁদের আত্মমর্যাদার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্য টিকে থাকবে তখনই, যখন ঐতিহ্যের ধারকরা মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবেন। তাঁতের প্রতিটি নকশা আমাদের পরিচয়ের কথা বলে। তাঁতশিল্পীকে বাঁচাতে হলে শুধু শাড়িকে সংরক্ষণ করলে হবে না, শাড়ি তৈরির জ্ঞান ও দক্ষতাকে সংরক্ষণ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন। তিনি হস্তশিল্পের এই বিশাল ঐতিহ্যকে আধুনিক যুগের পটভূমিতে মূল্যায়নের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলাদেশ ইউনেসকো জাতীয় কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সাবভীনা মনীর চিঠি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে টাঙ্গাইল শাড়ির সঙ্গে বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘টাঙ্গাইলের শাড়ি আমাদের দেশের মেয়েদের অতি পরিচিত পরিধেয়। অতি পরিচিত ও আপন বলেই বোধ হয় আমরা এর সমাদর করতে ভুলে যাই। অথচ আমাদের দৈনন্দিন যাপনের অনুষঙ্গগুলোই আমাদের আত্মপরিচয় নির্মাণের অন্যতম উপাদান।’

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনেসকো ঢাকা অফিসের প্রধান সুজান ভাইস। আয়োজকেরা জানান, চার দিনব্যাপী এই বিশেষ আয়োজন চলবে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। টাঙ্গাইল শাড়ির ঐতিহ্য, তাঁতিদের জীবন ও তাঁদের সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে দর্শনার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও গভীরভাবে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ০৩
বিজ্ঞাপন