মাইডাস সেন্টারে জমে উঠেছে বারুণী–ত্রিনয়নী বৈশাখী মেলা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বাঙালির প্রস্তুতি শুরু হয় আগে থেকেই। আর সেই প্রস্তুতির বড় অংশজুড়ে থাকে সাজপোশাক ও কেনাকাটা। ভাবুন তো, যদি বৈশাখের সব প্রয়োজনীয় জিনিস এক জায়গাতেই পাওয়া যায়! ঠিক তেমনই অভিজ্ঞতা দিচ্ছে বারুণী-ত্রিনয়নীর বৈশাখ মেলা।

এখানে মিলছে দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় তৈরি নান্দনিক সব পণ্য। মেলায় রয়েছে বৈশাখী পোশাক, আকর্ষণীয় গয়না, হ্যান্ডমেড ও ক্র্যাফট পণ্য।

পাশাপাশি ভোজনরসিকদের জন্য আছে মুখরোচক খাবারের স্টল। বিশেষ বর্ষবরণ অফার ও চমক তো থাকছেই।

বিজ্ঞাপন

মোট ৩২টি বাছাইকৃত স্টল নিয়ে বসেছে এই আয়োজন, যেখানে অংশ নিয়েছেন দেশের নানা প্রান্তের উদ্যোক্তারা।

১০ ও ১১ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চলবে এই মেলা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে সবার জন্য। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন বা বন্ধুদের সঙ্গে আরাম করে ঘুরে কেনাকাটা করার দারুণ সুযোগ এটি।

বিজ্ঞাপন

এই মেলায় অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে—সিন্ধু, নকশা মিস্ত্রি, হাসিমুখ, মাইসারা, ইলোরা কালেকশন, ঋষা, জয়িতা, স্নিগ্ধাস সোলো, লিরিয়ান’স বুটিক, আলতাবিবি’র বুনন, ফিউশন ক্যানভাস, অরাম বাংলাদেশ, চরনিকা, সাফিয়া’স কিচেন, লুভা’স ডেজার্ট গ্যালারি, মারমেইড’স সিক্রেট, ক্রিসতাং, অহম, বাংলা রকার্স, কালার্স বো, সোনালী’স ক্লজেট, বাঙালির পার্বণ, শশী ফ্যাশন হাউস, ক্র্যাফটহোলিক, সুহাসিনী, এলিগ্যান্ট বুটিক, আর্টিকা, সৃজনীসহ আরও অনেক দেশীয় উদ্যোগ।

বৈশাখ মানেই রঙিন পোশাক। এখানে শাড়ি, থ্রি-পিস, টু-পিস, ওয়ান-পিস, কুর্তি-পায়জামা, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট থেকে শুরু করে আনস্টিচ কাপড়ও পাওয়া যাচ্ছে। ব্লক, বাটিক, কাঁথাস্টিচ ও ন্যাচারাল ডাইয়ের পোশাকের বিশেষ উপস্থিতি আলাদা করে চোখে পড়ে।

প্রতিটি স্টলের সংগ্রহই ভিন্নধর্মী, যা ক্রেতাদের জন্য তৈরি করছে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা।

গয়নার দিক থেকেও এই মেলা সমৃদ্ধ।

হাতে তৈরি নানা ধরনের গয়না—মুক্তা, অক্সিডাইজড ব্রাস, কড়ি, সুতা, রেজিন, পোড়ামাটি ও বিডসের কাজ করা অলংকার—সবই মিলছে এখানে।

পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নিজের পছন্দের গয়না বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকায় ক্রেতাদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো।

শুধু নিজের সাজ নয়, ঘর সাজানোর জন্যও রয়েছে নান্দনিক হোম ডেকোর সামগ্রী।

পাশাপাশি আছে হাতে তৈরি স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু খাবারের স্টল। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে বাঙালি ঐতিহ্যবাহী খাবার থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ফাস্ট ফুড। সব মিলিয়ে দেশি পণ্যের বৈচিত্র্যে জমে উঠেছে পুরো আয়োজন।

এই মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য দেশীয় পণ্যকে তুলে ধরা এবং নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। আয়োজনের পেছনে রয়েছেন সঞ্জীব গোপ ও পূর্ণিমা প্রভা। আয়োজক সঞ্জীব গোপ বলেন, “আমরা সাধারণত বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন করি। তবে এবারের এই আয়োজন সম্পূর্ণভাবে বৈশাখকে ঘিরে।”

আরেকজন আয়োজক পূর্ণিমা প্রভা জানান, “অনলাইন ব্যবসার কারণে উদ্যোক্তারা ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার সুযোগ পান না। এই মেলার মাধ্যমে আমরা সেই সংযোগ তৈরির একটি প্ল্যাটফর্ম দিতে চেয়েছি।” রং, আনন্দ আর দেশীয় সৃজনশীলতার মিলনে বারুণী ও ত্রিনয়নীর এই বৈশাখ মেলা হয়ে উঠেছে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার এক প্রাণবন্ত ঠিকানা।

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৫১
বিজ্ঞাপন