
জলপথে ভ্রমণের অনন্য অভিজ্ঞতা নিতে চান? টাঙ্গুয়ার হাওর, কাপ্তাই লেক, পদ্মা কিংবা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান হাউসবোটে? তাহলে এখনই পরিকল্পনা করার উপযুক্ত সময়।

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ভবনের ‘শৈলপ্রপাত হল’-এ চলছে দ্বিতীয় ‘হাউসবোট মেলা ২০২৬’। আজ মেলার দ্বিতীয় দিন, আর আগামীকাল (১১ জুলাই) শেষ হবে তিন দিনের এই আয়োজন।


বাংলাদেশ হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (HOAB) আয়োজিত এই মেলার মূল উদ্দেশ্য দেশের হাওর ও নদীকেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করে তোলা। একই সঙ্গে দেশীয় জলপর্যটনের সম্ভাবনাকে আরও বিস্তৃত পরিসরে তুলে ধরা।
মেলায় অংশ নিয়েছে ২৯টি স্টলে শতাধিক হাউসবোট। এখানে টাঙ্গুয়ার হাওর, রাঙামাটির কাপ্তাই লেক, পদ্মা, শীতলক্ষ্যা নদী, সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন হাউসবোট সম্পর্কে জানা এবং সরাসরি বুকিং দেওয়ার সুযোগ আছে ।


ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়। মেলা চলাকালীন বুকিংয়ে শুধু এই ডিসকাউন্ট পাওয়া যাচ্ছে।


পাশাপাশি প্রতি ব্যক্তির জন্য হাউসবোট ভ্রমণের প্যাকেজ ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা গন্তব্য ও প্যাকেজভেদে নির্ধারিত।
মেলার আরেকটি বিশেষ সুবিধা হলো, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি হাউসবোটের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে বুকিং দেওয়া যাচ্ছে। ফলে পর্যটকেরা নিজেদের প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী সহজেই উপযুক্ত প্যাকেজ বেছে নিতে পারছেন।


এ ছাড়া স্পট বুকিং করলে থাকছে আকর্ষণীয় গিফট ও লাকি ড্রয়ের সুযোগ। অভিজ্ঞ ট্যুর অপারেটরদের কাছ থেকে হাওর, লেক ও নদীভিত্তিক ভ্রমণের বিভিন্ন দিক, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কেও পরামর্শ নেওয়া যাচ্ছে এখানে এলে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (ব্যাণিজিক) গণি উল আজম এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ও যুগ্ম সচিব আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান।


হাউসবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মো. আরাফাত হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশের জলপর্যটন খাত দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পর্যটকদের আধুনিক ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে এবং দেশীয় পর্যটনকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই আমাদের এই আয়োজন। আমরা আশা করি, প্রথম মেলার মতো এবারও ভ্রমণপ্রেমীদের কাছ থেকে অনেক সাড়া পাব।’


মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত এবং প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে। আয়োজকদের আশা, দেশীয় পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের প্রসার এবং হাউসবোটে রাত্রিযাপনের অনন্য অভিজ্ঞতা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।