সবুজ না বাদামি কোন নারকেলের পানি শরীরের জন্য বেশি ভালো
শেয়ার করুন
ফলো করুন

এই পার্থক্যই ঠিক করে দেয়—কোনটা আপনার শরীরের জন্য বেশি উপযোগী।
রোজার সময় সারা দিন পানিশূন্য থাকার পর শরীর চায় দ্রুত হাইড্রেশন। তাই নারকেলের পানি অনেকের কাছেই ভরসার পানীয়। তবে সব নারকেলের পানি এক রকম নয়।

কাঁচা থেকে পাকা: বদলে যায় পুষ্টিগুণ

নারকেল যখন সবুজ ও কচি থাকে, তখন তার পানিতে থাকে তুলনামূলক কম প্রাকৃতিক চিনি এবং হালকা স্বাদ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ খোলস বাদামি হলে ভেতরের পানির স্বাদ হয় বেশি মিষ্টি ও ঘন। কারণ ফলটি পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বাড়ে।

যে পরিবর্তনগুলো ঘটে

* চিনি: সবুজ নারকেলের পানিতে প্রায় ৫ গ্রাম চিনি থাকে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে। পরিপক্ব বাদামি নারকেলের পানিতে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৮ গ্রাম পর্যন্ত।

* ক্যালরি: সবুজ নারকেলের পানিতে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে প্রায় ১৮-২০ ক্যালরি, আর বাদামিতে ২২-২৫ ক্যালরি।

* ইলেকট্রোলাইট: দুটিতেই পটাশিয়াম বেশি থাকে। তবে কচি নারকেলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য হাইড্রেশনের জন্য তুলনামূলক উপযোগী।

* ভিটামিন সি ও বায়োঅ্যাকটিভ উপাদান: সবুজ নারকেলে সাধারণত ভিটামিন সি ও কিছু উপকারী অ্যামিনো অ্যাসিড বেশি থাকে, যা ফল পরিপক্ব হলে কিছুটা কমে যায়।

বিজ্ঞাপন

রোজার দিনে কোনটা ভালো?

বাংলাদেশের গরমে রোজা রাখা মানেই দীর্ঘ সময় পানিশূন্য থাকা। তাই ইফতারে এমন কিছু দরকার যা দ্রুত শরীরকে হাইড্রেট করবে কিন্তু অতিরিক্ত চিনি যোগ করবে না।
সবুজ নারকেলের পানি

* হালকা

* কম চিনি

* বেশি পরিমাণে পান করলেও ভারী লাগে না

* ইফতার বা তারাবির পর শরীরকে সতেজ রাখতে উপযোগী

বাদামি নারকেলের পানি

* স্বাদে বেশি মিষ্টি

* কার্বোহাইড্রেট বেশি

* দ্রুত শক্তি জোগাতে পারে

* তবে নিয়মিত বেশি পান করলে অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি যোগ হতে পারে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সবুজ নারকেলের পানি বেশি সহনীয়। আর যাদের ডায়াবেটিস বা চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের জন্য সবুজটাই নিরাপদ পছন্দ।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু মনে রাখতে হবে

নারকেলের পানি উপকারী হলেও এটি সাধারণ পানির বিকল্প নয়।

* তীব্র ডিহাইড্রেশন হলে ওআরএসের বিকল্প নয়।

* ভারী ব্যায়াম বা দীর্ঘক্ষণ ক্রীড়াচর্চার পর শুধু নারকেলের পানি যথেষ্ট নয়, কারণ এতে সোডিয়াম তুলনামূলক কম।

* কিডনি সমস্যা বা পটাশিয়াম-নিয়ন্ত্রিত ডায়েট অনুসরণ করলে পরিমাণে সতর্ক থাকতে হবে।

* যাদের পেট সংবেদনশীল বা আইবিএস আছে, তারা বিশেষ করে বাদামি নারকেলের পানি কম খাবেন।

নারকেলের পানি একটি ‘ফাংশনাল বেভারেজ’—অর্থাৎ বিশেষ পরিস্থিতিতে উপকারী পানীয়। এটি প্রতিদিন লিটার লিটার খাওয়ার কিছু নেই। রোজার দিনে ইফতারে বা হালকা অসুস্থতার পর শরীর চাঙা করতে এক গ্লাস সবুজ নারকেলের পানি হতে পারে চমৎকার পছন্দ।

তবে আপনার আসল হাইড্রেশন ভরসা হওয়া উচিত সাধারণ পানি। বোতলভর্তি পানি কাছে রাখুন, আর নারকেলের পানিকে রাখুন মৌসুমি আরাম ও স্বাদের পরিমিত আনন্দ হিসেবে।

ছবি: এআই

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩৯
বিজ্ঞাপন