ফিরে দেখা হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬: উৎসব, সৃজনশীলতা ও সংযোগের মেলবন্ধন
শেয়ার করুন
ফলো করুন

১ থেকে ৩ মার্চ ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ৫৮টি দেশি উদ্যোগের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬। উৎসবমুখর এই আয়োজন শেষ হলেও এর রেশ থেকে গেছে। এই তো গত সপ্তাহে মেলা–সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আনন্দঘন ইফতার গেটটুগেদার আয়োজন করা হয় প্রথম আলো অফিস। ১০ তলার সভাকক্ষ মুখর ছিল অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের উপস্থিতিতে। এদিন ১০টি ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নজরকাড়া ও সেরা উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি জানানো হয় সম্মাননা স্মারক দিয়ে।

 নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফের কাছ থেকে র‍্যাফল ড্রর পুরস্কার নিচ্ছেন অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরীর চিকিৎসক স্ত্রী শান্তনা সাহা
নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরীফের কাছ থেকে র‍্যাফল ড্রর পুরস্কার নিচ্ছেন অভিনয়শিল্পী চঞ্চল চৌধুরীর চিকিৎসক স্ত্রী শান্তনা সাহা

ঈদ ফিয়েস্তায় এসে কেনাকাটা করে র‍্যাফল ড্র বিজয়ী ৯ জন ও নির্ধারিত বুথে ছবি তুলে হাল ফ্যাশনিস্তা হওয়া ৫ জনকেও এদিন পুরস্কৃত করা হয়। তাঁরা সবাই প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হকের কাছ থেকে পুরস্কার নিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে প্রথম আলো অনলাইন হেড শতকত হোসেন মাসুমও উপস্থিত ছিলেন। এর বাইরে আরও এসেছিলেন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন

ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিওরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আজহারুল হক আজাদ, কে ক্র্যাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান, অঞ্জন’সের শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ, রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস, ব্লুচিজের প্রধান নির্বাহী ফজলে রাব্বি উপস্থিত ছিলেন। আরও উপস্থিতি ছিলেন দুই স্পন্সর এপেক্স কনভিনিয়েন্স ফুডের জেনারেল ম্যানেজার, বিজনেস ডেভেলপমেন্টে অ্যান্ড অপারেশনাল চিফ মো. শাহেদুজ জামান, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্র্যান্ড মার্কেটিং অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম ও সিনিয়ার একজিকিউটিভ অফিসার আনিকা তাসনিম রুহীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার গেট টুগেদারে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা
ইফতার গেট টুগেদারে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা

সবার প্রাণবন্ত উপস্থিতি এই আয়োজন সার্থক করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে অত্যন্ত আনন্দময় ছিল এই পুরস্কার বিতরণ ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান। এখনো সামাজিক মাধ্যমে এদিনের ও ঈদ ফিয়েস্তার ছবি আর ভিডিও পোস্ট করছেন সবাই। সেই আনন্দ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে করতে মনে হলো ফিরে দেখি হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬ কেমন ছিল। আর কীই–বা ছিল এর বিশেষত্ব। এখানে এর কয়েকটি বিশেষ দিক তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞাপন

রোজার প্রথম দিন থেকেই এ বছর দারুণ সব জমজমাট মেলার আয়োজন হয়েছে ঈদ সামনে রেখে। উল্লেখ্য, হাল ফ্যাশন এই মেলাগুলোর বেশির ভাগের সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পৃক্ত থাকে ও দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারে নিজেদের যথাসাধ্য কভারেজ দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সিংহভাগ কালেকশনই উৎসবকেন্দ্রিক হয়। সে ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে রোজার ঈদ বা ঈদুল ফিতর।

মেলার দর্শনার্থীরা
মেলার দর্শনার্থীরা

ক্যালেন্ডারে ঈদের আগে আগে বসন্ত ও ঈদের পরেই বৈশাখ থাকায় কালেকশনে সেদিকটিও খেয়াল রাখছেন দেশের ফ্যাশন উদ্যোক্তা, ডিজাইনার ও ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারীরা। নির্বাচনের ঠিক পরপরই হাতে খুব কম সময় নিয়েই হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তার প্রস্তুতি শুরু করে টিম হাল ফ্যাশন। কারণ, এর আগে আমরা অর্থাৎ আমাদের প্রথম আলো পরিবার এক সংকটকাল অতিক্রম করেছে। আমাদের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

আমাদের এই আয়োজনে দারুণভাবে সাপোর্ট দিয়েছে প্রথম আলো ইভেন্ট টিম। একসঙ্গে পারফেক্ট টিমওয়ার্কে অত্যন্ত কম সময়েই যাচাই–বাছাইয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করে, এমন ৫৮টি উদ্যোগকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হয় তিন দিনের আয়োজনের। অসংখ্য আবেদন থেকে মাত্র ৫৮ জন উদ্যোক্তাকে বেছে নেওয়া ছিল এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ব্যাক টু ব্যাক ঈদমেলার মধ্যে হাল ফ্যাশনের এই আয়োজনকে স্পেশাল করে তোলা। টিম হাল ফ্যাশন তখনই প্রত্যয় নেয় হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা হবে মেলার চেয়েও বেশি কিছু। দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সব স্টেকহোল্ডারকে এই তিন দিনের ফ্যাশন উৎসবে শামিল করাই হয়ে ওঠে এই বিশেষত্বের ভিত্তি। এটা ছিল একটা চ্যালেঞ্জও বোধকরি।
হাল ফ্যাশন বাংলাদেশের প্রথম ও প্রধান পূর্ণাঙ্গ ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ওয়েবপোর্টাল।

মেলায় পণ্য পরখ করছেন বরিষ্ঠ ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা
মেলায় পণ্য পরখ করছেন বরিষ্ঠ ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা

তবে কার্যক্ষেত্রে এটা শুধু সাইটে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের এক আলাদা অবস্থান গড়ে তুলেছে। আর তার চেয়েও বড় কথা, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা টিম হাল ফ্যাশন দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সব স্টেকহোল্ডারের আস্থাভাজন ও কমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে একে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আসছে। আমাদের চাওয়া হচ্ছে—ফ্যাশন হাউস, ফ্যাশন উদ্যোগ, ইনডিপেন্ডেন্ট ফ্যাশন লেবেল ও ডিজাইনাররা; আর সেই সঙ্গে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির আরএমজি প্লেয়াররা সবাই একসঙ্গে একই লক্ষ্যে কাজ করুক।

আর তা হলো দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির শক্ত ভিত্তি তৈরি ও উন্নয়ন। এ ক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে এসে ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের ভূমিকার কথা অনস্বীকার্যই বলা যায়। অত্যন্ত সৃজনশীল ও পরিশ্রমী এসব মানুষ নিজেদের সবটা দিয়ে বিন্দু থেকে সিন্ধু রচনার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আর তা এখন দেশের মূলধারার মিডিয়া, ফ্যাশনবোদ্ধা, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ সারির ব্র্যান্ডগুলো আর সেই সঙ্গে এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো, এসএমই–এর মতো প্রতিষ্ঠানও একযোগে স্বীকৃতি দিচ্ছে। হাল ফ্যাশন একেবারে প্রথম থেকেই ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আছে। তাঁদের নিজেদের কমফোর্ট জোন ও প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। তাই হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা নিয়ে সবার মধ্যে আলাদা রকমের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। আর এই আয়োজনকে মেলার চেয়েও বেশি কিছু হিসেবে সবার সামনে নিয়ে আসতে টিম হাল ফ্যাশন বদ্ধপরিকর ছিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা

স্প্যানিশ শব্দ ফিয়েস্তা। এর অর্থ ফেস্টিভ্যাল বা উৎসব৷ উৎসবের কেনাকাটাকে উৎসবমুখর করাই ছিল হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তার মূল উদ্দেশ্য। আর তা রূপ দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন ফ্যাশনপ্রেমী ক্রেতা-দর্শনার্থী, দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ক্ষেত্রের স্টেকহোল্ডারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। শুধু কেনাকাটা নয়, ফিয়েস্তার তিন দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাইডাস সেন্টারের ১২ তলার দুটি হলের চারদিকে হইচই, আড্ডা, হাসি, হুল্লোড় দেখা গিয়েছে।

এসেছিলেন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির সব ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ

ঈদ ফিয়েস্তার তিন দিনে ছোট–বড় ৫৮ জন ফ্যাশন উদ্যোক্তার কাজ সরেজমিনে, হাতে ধরে দেখেছেন ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসেছিলেন প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আনিসুল হক, জনপ্রিয় দেশীয় ব্র্যান্ড সাদাকালোর স্বত্বাধিকারী আজহারুল হক আজাদ, বিশিষ্ট ডিজাইনার চন্দ্রশেখর সাহা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ফ্যাশন ব্র্যান্ড অঞ্জন’স–এর শীর্ষ নির্বাহী শাহীন আহম্মেদ, এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার আব্দুস সালাম সরদার, কোরিওগ্রাফার ও মডেল আজরা মাহমুদ, কে ক্রাফটের পরিচালক খালিদ মাহমুদ খান,  প্রথম আলোর পরামর্শক ও হাল ফ্যাশনের একান্ত আপনজন ও গুরুজন মুনির হাসান আর সবার প্রিয় অভিনয়শিল্পী রুনা খান।

মেলায় এসেছেন ও কেনাকাটা করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, সহযোগী সম্পাদক সুমনা শারমীনও। এসেছিলেন প্রথম আলোর চিফ ডিজিটাল বিজনেস অফিসার জাবেদ সুলতান পিয়াস, গীতিকার কবির বকুলসহ প্রথম আলোর অনেকেই। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, উৎসাহ দিয়েছেন সবাই। রঙ বাংলাদেশের কর্ণধার সৌমিক দাস, লা রিভের প্রধান নির্বাহী পরিচালক মন্নুজান নার্গিস, লা রিভ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম রেজাউল হাসান ও বিইউএফটির ফ্যাশন স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর শর্মিলী সরকার এসেছিলেন ঈদ ফিয়েস্তার শেষ দিন।

দিনভর রুনা খানের প্রাণবন্ত উপস্থিতি

রুনা খান ছিলেন অনেকটা সময়
রুনা খান ছিলেন অনেকটা সময়

দেশীয় পণ্যের প্রতি জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খানের অকৃত্রিম ভালোবাসার কথা সবাই জানেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠেই উদ্বোধনী দিনের বক্তব্যে বলেন, নিজের উপার্জন দিয়ে তিনি দেশি পণ্য ছাড়া কখনো কিছু কেনেন না। আমাদের দেশের ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাঁর আছে অত্যন্ত আন্তরিক সম্পর্ক। তিনি সব সময়ই নবীন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেন। হাল ফ্যাশনের সঙ্গেও রুনা খান জড়িয়ে আছেন কাছের মানুষ হয়ে। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েই চলে যাননি তিনি। দিনভর রুনা প্রতিটি স্টলে যান ও সবার পণ্য দেখেন, প্রশংসা করেন, মতামত দেন। সবার আবদার রাখেন ছবি ও সেলফি তুলে। ইফতারের পর এক বন্ধু উদ্যোক্তার জন্মদিনের কেক কেটে তবে ছুটি পান রুনা। তাঁর উপস্থিতি হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তাকে দিয়েছে অন্য মাত্রা।

বন্ধু উদ্যোক্তারা এসেছিলেন মনের টানে

ঈদের আগে এই সময়টা কতটা ব্যস্ততায় কাটে ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের, তা বলাই বাহুল্য। এর মধ্যে সব ছেড়ে, সময় ব্যয় করে হাল ফ্যাশন ও অংশ নেওয়া বন্ধু উদ্যোক্তাদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা নিয়ে ঈদ ফিয়েস্তায় উপস্থিত হয়েছেন সরলার মানসুরা স্পৃহা, পটের বিবির ফোয়ারা ফেরদৌস, কালিন্দীর মুনিয়া জামান, ঋতির মুসাররাত খুশবু, খাদি বাই নুভিয়ার নুভিয়া, ট্যান-এর তানিয়া ওয়াহাব, গুটিপার তাসলিমা মিজি, সিগনেট-এর ফারজানা রিপা, বেনে বৌয়ের ফারহানা মুনমুন, সুরঞ্জনার তৃপ্তি নূর, সানজানা’স কালেকশনসের আমিনা সুলতানা সানজানা, নয়ার জেসমিন নিশিসহ অনেকে। তাঁদের হাসি, আড্ডা, হুল্লোড় আর তুমুল কেনাকাটা ছাড়া ঈদ ফিয়েস্তা আসলেই সার্থক হতো না।  

দ্বিতীয় দিনের ডিজাইনার্স ডে

এসেছিলেন নানা বয়সী ডিজাইনাররা
এসেছিলেন নানা বয়সী ডিজাইনাররা

হাল ফ্যাশন সব সময় দেশের ফ্যাশন স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে ব্রিজিং করতে সচেষ্ট থাকে। নলেজ শেয়ারিং ও কোলাবরেশনের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করলে দেশের ইনডিপেন্ডেন্ট ডিজাইনার লেবেল আর ফ্যাশন উদ্যোক্তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারবেন, বিশ্ব ফ্যাশনে বড় পরিসরে দেশকে উপস্থাপন করতে পারবেন বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আর সে ভাবনা থেকেই ফিয়েস্তার দ্বিতীয় দিনটি ডিজাইনার্স ডে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এদিন হাল ফ্যাশনের আমন্ত্রণে ফিয়েস্তায় এসে বেশ কেনাকাটা করেছেন, উদ্যোক্তাদের কালেকশন দেখেছেন ও সে সম্পর্কে সুচিন্তিত ভাবনা শেয়ার করেছেন নবীন ও অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞ অথচ তরুণ ডিজাইনাররা। এসেছিলেন ইমাম হাসান, আফসানা ফেরদৌসী, লোরা খান, তন্বী কবির, সঙ্গীতা ওয়াহিদ তাশা, মাধুরী সঞ্চিতা, রোকাইয়া আহমেদ পূর্ণা, জুবায়ের আহমেদ, খালিদ ত্বকী ও পৃথু রাজ।

শেষ দিনের ফ্যাশন ইউনিভার্সিটি ডে

নাহারিন চৌধুরীর গাইডেন্সে শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ছাত্র–ছাত্রীরা
নাহারিন চৌধুরীর গাইডেন্সে শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ছাত্র–ছাত্রীরা

দেশের ফ্যাশন ইউনিভার্সিটিগুলোর সঙ্গে হাল ফ্যাশন কাজ করে আসছে শুরু থেকেই। তবে ফ্যাশন শিক্ষার্থীদের দেশের ৫৮ জন সৃজনশীল উদ্যোক্তার দেশি পণ্যের সমাহার একসঙ্গে দেখার সুযোগ করে দিতে ও ফ্যাশন শিক্ষার সঙ্গে দেশের ফ্যাশন ট্রেন্ডের বাস্তব রূপের যোগসূত্র খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করতেই হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তার শেষ দিন আমন্ত্রণ জানানো হয় শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন টেকনোলজি ও বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের। শান্ত–মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ফ্যাকাল্টি মেম্বার নাহারিন চৌধুরী ছিলেন ছাত্রদের সঙ্গে; অন্যদিকে বিইউএফটির ছাত্রদের সঙ্গে ছিলেন প্রভাষক সুমাইয়া সন্ধি। শিক্ষার্থীরা লাইভে এসে তাঁদের পুরো অভিজ্ঞতা ও ঈদ ফিয়েস্তা থেকে তাঁদের লার্নিং সম্পর্কে জানান। এই পর্ব মেলা থেকে বেশি কিছুর এক বিশেষ নিদর্শন, যা এর আগে আর কখনো হয়নি।

ঈদ ফিয়েস্তা হাল ফ্যাশনিস্তা

সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের সঙ্গে বিজয়ী ফ্যাশনিস্তারা
সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের সঙ্গে বিজয়ী ফ্যাশনিস্তারা

বিভিন্ন আয়োজনে সামনাসামনি বা ইনবক্সে প্রায়ই আসে হাল ফ্যাশনে মডেল হওয়ার জন্য অনুরোধ। আর সে ভাবনা থেকেই ঈদ ফিয়েস্তায় হাল ফ্যাশনিস্তা হওয়ার দারুণ সুযোগ রাখা হয়। ফিয়েস্তায় এসে নির্ধারিত ফটো বুথের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বিজয়ী হন পাঁচজন ফ্যাশনিস্তা। হাল ফ্যাশনের পরবর্তী শুট তাঁদের নিয়েই হবে। সেই সঙ্গে তাঁরা পেয়েছেন আকর্ষণীয় পুরস্কারও।

১০টি ভিন্নধর্মী ক্রাইটেরিয়ায় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সম্মাননা

পুরস্কারপ্রাপ্তদের কয়েকজন
পুরস্কারপ্রাপ্তদের কয়েকজন

সাধারণত বিভিন্ন মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের সেরা স্টল, সেরা পোশাক, সেরা অনুষঙ্গ ইত্যাদি বিভাগে পুরস্কৃত করা হয়। হাল ফ্যাশন এ ক্ষেত্রে একটু অন্যভাবে ভেবেছে। ১০টি ভিন্নধর্মী ক্রাইটেরিয়ায় সম্ভাবনাময় ও নজরকাড়া কালেকশন আর কী মূলমন্ত্রে কাজ করছেন উদ্যোক্তারা, সেই দিকগুলোই বিবেচনায় আনা হয়েছে। ঈদ ফিয়েস্তায় ঘুরে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানানো ডিজাইনার, ফ্যাশন শিক্ষার্থী ও দেশের ফ্যাশন জগতের অগ্রজদের মতামতও এই ক্রাইটেরিয়ায় উদ্যোক্তাদের নির্বাচন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্লো ফ্যাশনে চৌধুরী’স, সাস্টেইনেবল ফ্যাশনে যারীন'স ক্রিয়েশন, নো ওয়েস্ট ও আপসাইকেলিংয়ে আজুরা বাই শান্তা কবির, কাট প্যাটার্ন ও ডিজাইনে এসো, জেনজি ফ্রেন্ডলি বিভাগে ক্যাটারফ্লাই, ক্রিয়েটিভ ফেব্রিকে মিতার গল্প, আউটস্ট্যান্ডিং পারফরম্যান্সে নকশামিস্ত্রি, হ্যান্ডমেড এক্সেলেন্সে দয়ীতা, ট্র্যাডিশনাল রুটসে কাদম্বরী ও বেস্ট নিউ ইনিশিয়েটিভ হিসেবে সম্মাননা পেয়েছে রোদচশমা।

দিনশেষে একটি প্রাণবন্ত, ফলপ্রসূ, সফল ও আনন্দময় ঈদ ফিয়েস্তা আয়োজন করতে পেরে হাল ফ্যাশন অত্যন্ত আনন্দিত। বিশেষ ধন্যবাদ প্রাপ্য হাল ফ্যাশন ইভেন্ট টিমের। ৫৮ জন উদ্যোক্তার ৫৫টি স্টলে পরিপূর্ণ মাইডাস সেন্টারের দুটি হলের সজ্জা ছিল স্বস্তিদায়ক ও খোলামেলা। পুরো আয়োজনের স্পন্সর ছিল নাওয়াবি বাই এপেক্স কনভেনিয়েন্স ফুড। আর মজার বিষয় ছিল বাজারে নতুন আসা তাদের অভিনব হিট অ্যান্ড ইট ইনস্ট্যান্ট পদগুলো সবার নজর কেড়েছে। সবাই কিনেছেনও প্রচুর।

গেট টুগেদারে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা
গেট টুগেদারে অতিথিদের সঙ্গে উদ্যোক্তারা

পেমেন্ট পার্টনার ইউসিবি, গিফট পার্টনার টিংকার্স টি, ব্লু চিজ আর সেই সঙ্গে ইন্টারকন্টিনেটাল ঢাকা, সারিনা, রেনেসন্স, হলিডে ইন, ক্রাউন প্লাজা গুলশান ও ক্রাউন প্লাজা এয়ারপোর্ট, শেরাটন, ওয়েস্টিনকেও অশেষ ধন্যবাদ জানাতে হয় বিজয়ীদের উপহার হিসেবে আকর্ষণীয় গিফটবক্স, ভাউচার আর বুফে কাপল ডিনারের কুপনের জন্য। সব মিলিয়ে সত্যিই মেলার চেয়ে বেশি কিছু হয়েছে হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬—এটুকু বলাই যায়। আসছে বছর আবার হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় পরিসরে, আরও বৈচিত্র্য নিয়ে—এই কামনা ও স্বপ্ন নিয়েই ইতি টানি স্মৃতিরোমন্থনে।

ছবি: দীপু মালাকার, ফ্লোরিডা শুভ্রা রোজারিও ও নাদিয়া ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৬: ০০
বিজ্ঞাপন