আরবের রসনার আস্বাদন দিতে দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় শুরু হলো ‘টেস্ট অব অ্যারাবিয়া’
শেয়ার করুন
ফলো করুন

খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায় না, কখনো কখনো আপনাকে হাজার মাইল দূরের কোনো ভূখণ্ডেও নিয়ে যায়। জাফরান, এলাচ, দারুচিনি আর ধীরে ধীরে রান্না হওয়া মাংসের সুবাস যখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তখন মনে হয় যেন ঢাকার ব্যস্ততা পেছনে ফেলে পৌঁছে গেছেন দুবাই, কায়রো কিংবা রিয়াদের কোনো ঐতিহ্যবাহী ডাইনিং হলে। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার ''টেস্ট অব অ্যারাবিয়া'' ঠিক সেই অভিজ্ঞতারই আমন্ত্রণ জানায়।

উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মিশর আরব প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূত হিজ এক্সেলেন্সি ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমি, সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের ফরেন এইড অফিসের পরিচালক রাশেদ আল-মালি আল-জাবি, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন, এয়ার অ্যারাবিয়া বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মো. মবিন রশিদ, দ্য ওয়েস্টিন ঢাকা ও শেরাটন ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার গ্যারি ফারস্টাড এবং ডিরেক্টর অব সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং মামুনুর রহমান শুমনসহ কূটনৈতিক, কর্পোরেট ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি কেবল একটি ফুড ফেস্টিভ্যাল নয়; বরং খাবারের মাধ্যমে একটি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস পিএলসি-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, খাবার শুধু একটি দেশের রন্ধনশৈলী নয়, তার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যও বহন করে। তিনি বলেন, "খাবার একটি নীরব রাষ্ট্রদূত। এটি সীমান্ত অতিক্রম করে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে।" তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক ফুড ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রন্ধনঐতিহ্য বাংলাদেশের মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাঁদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, একদিন বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একইভাবে পরিচিত হবে।

বিজ্ঞাপন

মিশরের রাষ্ট্রদূত ওমর মোহি এলদিন আহমেদ ফাহমির বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তা যেন পুরো উৎসবের দর্শনকেই তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, খাবার এমন একটি ভাষা, যা মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প বলে। প্রতিটি আরব দেশের নিজস্ব স্বাদ ও রেসিপি থাকলেও তাদের সবার মধ্যে একটি বিষয় অভিন্ন অতিথিকে আন্তরিকভাবে আপ্যায়ন করার সংস্কৃতি। তিনি দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ঢাকায় বসেই আরব বিশ্বের বৈচিত্র্যময় রন্ধনঐতিহ্য উপভোগ করার এমন আয়োজন দুই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করবে।

সিজনাল টেস্টে ঢুকতেই চোখে পড়ে আরবীয় আতিথেয়তার আবহ। উষ্ণ রঙের সাজসজ্জা, আরবি নকশার অনুপ্রেরণা, সুগন্ধি মসলার ঘ্রাণ আর অতিথিদের আন্তরিক অভ্যর্থনা যেন শুরুতেই জানিয়ে দেয়—এটি শুধু একটি বুফে নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক ভ্রমণ। এই আয়োজনকে আরও বিশেষ করে তুলেছেন বাংলাদেশে অবস্থানরত মিশরের খ্যাতনামা শেফ মাহমুদ আবদেল ফাত্তাহ। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার এক্সিকিউটিভ শেফ শপন রোজারিও এবং রন্ধনশিল্পী দলের সঙ্গে তাঁর যৌথ পরিকল্পনায় তৈরি হয়েছে এমন একটি মেনু, যেখানে আরব বিশ্বের বৈচিত্র্যময় রন্ধনঐতিহ্য একসঙ্গে ধরা দিয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত পদ নিঃসন্দেহে ক্যামেল কাবসা, ক্যামেল তাজিন এবং সুলতানস ক্যামেল মজবুস। বাংলাদেশে উটের মাংসের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ খুব একটা আসে না। তাই ধীরে ধীরে রান্না করা এই পদগুলো কৌতূহলী খাদ্যরসিকদের জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে।

অনেকের কাছেই আরবীয় খাবার মানেই চিকেন মান্দি। কিন্তু এই উৎসবের মেনু সেই ধারণাকে অনেকটাই বিস্তৃত করেছে। এখানে দেকাহ গেলো  ল্যাম্ব কুজি, মিক্সড গ্রিলস, লাইভ ডোনার কাবাব, শাওয়ারমা স্টেশন, বিভিন্ন ধরনের মেজে, হামুস এবং সদ্য বেক করা আরবি রুটি। আর খাবারের শেষটা মধুর করে তুলতে রয়েছে বাকলাভাসহ খাঁটি আরবীয় ডেজার্টের সমৃদ্ধ আয়োজন। মেনুর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, প্রতিটি পদ যেন আরব বিশ্বের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের গল্প বলে। কোথাও মিশরের ছোঁয়া, কোথাও উপসাগরীয় অঞ্চলের ঐতিহ্য, আবার কোথাও লেভান্ট অঞ্চলের পরিচিত স্বাদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিদের জন্য ছিল বিশেষ টেস্টিং সেশন। নির্বাচিত সিগনেচার পদগুলোর পরিবেশন, উপস্থাপনা এবং প্রতিটি খাবারের পেছনের গল্প মিলিয়ে সেটি ছিল রন্ধনশিল্পের এক অনন্য প্রদর্শনী।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক খাবারের উৎসব নতুন নয়। তবে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবারকে এত বিস্তৃতভাবে, একই ছাদের নিচে এবং সেই অঞ্চলের আতিথেয়তার আবহ বজায় রেখে উপস্থাপনের আয়োজন খুব বেশি দেখা যায় না। এখানেই ''টেস্ট অব অ্যারাবিয়া''র বিশেষত্ব।শেষ পর্যন্ত একটি ভালো ফুড ফেস্টিভ্যালের সাফল্য নির্ভর করে শুধু কতগুলো পদ পরিবেশন করা হলো তার ওপর নয়; বরং সেটি আপনাকে অন্য একটি সংস্কৃতির গল্প কতটা অনুভব করাতে পারল তার ওপর। দ্য ওয়েস্টিন ঢাকার ''টেস্ট অব অ্যারাবিয়া'' সেই গল্পই বলতে চায় এক প্লেট কাবসা, এক টুকরো তাজিন, সদ্য বেক করা আরবি রুটি আর মধ্যপ্রাচ্যের আন্তরিক আতিথেয়তার মাধ্যমে। তাই এটি শুধু একটি ডিনার নয়, বরং ঢাকার মাঝেই এক সন্ধ্যার আরব ভ্রমণ।

ছবি: হাল ফ্যাশন

বিজ্ঞাপন
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৫০
বিজ্ঞাপন