
দীর্ঘ সাত বছর বিরতির পর আবারও জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো লাক্স সুপারস্টার-এর বহুল প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফিনালে। শুক্রবার ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তারকাখচিত এই আয়োজন ঘিরে ছিল দর্শকদের তুমুল আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস।


এবারের আসরে বিজয়ী হয়েছেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। সাংবাদিক মেহবুব আলম বর্ণ ও মেরী ইয়াসমিনের কন্যা বর্ণিতার হাতে ট্রফি তুলে দেন চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও এমডি রুহুল কুদ্দুস খান, এবং লাক্স সুপারস্টার ২০০৭ খ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম।
চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেন পাঁচ প্রতিযোগী। বর্ণিতার পাশাপাশি ছিলেন চট্টগ্রামের আমিনা ইসলাম, খুলনার নুসরাত আফরীন ইয়ুমনা, ঢাকার তিস্তা পাল এবং পাবনার নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।
সবার মধ্য থেকে বিচারকদের সিদ্ধান্তে বিজয়ী হন বর্ণিতা। তার হাতে তুলে দেওয়া হয় সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল দিয়ে তৈরি বিশেষ ট্রফি এবং একটি বিলাসবহুল গাড়ি। এছাড়াও থাকছে স্বনামধন্য পরিচালক শিহাব শাহিনের পরবর্তী ওয়েব ফিল্ম ও পরিচালক রায়হান রাফির পরবর্তী চলচ্চিত্রে মুভি কন্ট্রাক্ট। এবারের আসরে ফার্স্ট রানার আপ হয়েছেন আমিনা ইসলাম এবং সেকেন্ড রানার আপ হয়েছেন নাযাহ নাওয়ার বিনতে নুরুল।তারাও পাচ্ছেন শিহাব শাহিন ওয়েব ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ সহ যথাক্রমে তিন ও পাঁচ লক্ষ টাকার অর্থ পুরস্কার।


আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবারের প্রতিযোগিতাকে আরও আধুনিক ও বহুমাত্রিক করে সাজানো হয়েছে। শুধু সৌন্দর্য নয়, প্রতিযোগীদের অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব, স্টাইল সেন্স, নাচ এবং ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির সক্ষমতাকেও মূল্যায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, “২০০৫ সাল থেকে এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে আসা অনেকেই এখন চলচ্চিত্র, নাটক ও ওটিটিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই সত্যিকারের সুপারস্টার।”
বিজয়ী হবার পর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বিজয়ই বর্ণিতা তাঁর নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘এখনও মনে হচ্ছে যেন একটা স্বপ্নের ভেতর আছি, যেখান থেকে আমি জাগতে চাই না। এই সবচেয়ে বড় সম্মানটা আমি প্রতিটি মুহূর্তে নিজের হৃদয়ের কাছে রাখছি। এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না, কিন্তু ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। এত ভালোবাসায় আমি সত্যিই আপ্লুত। আপনাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। আশা করি, এই সম্মানের দায়িত্ব আমি সঠিকভাবে বহন করতে পারব।’

প্রতিযোগীদের গ্রুমিং ও প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন আজরা মাহমুদ। বিচারকের আসনে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান, নির্মাতা রায়হান রাফী এবং অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, লক্ষাধিক আবেদন থেকে বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এবারের লাক্স সুপারস্টারের যাত্রা। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর সেরা দশ এবং সেখান থেকে চূড়ান্ত পাঁচে পৌঁছান প্রতিযোগীরা। গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় চ্যানেল আই, আইস্ক্রিনসহ তাদের সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
২০০৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিযোগিতা দেশের বিনোদন অঙ্গনে বহু তারকার জন্ম দিয়েছে। জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, বিদ্যা সিনহা মিম, মেহজাবীন চৌধুরীসহ অনেকেই এই প্ল্যাটফর্ম থেকে উঠে এসে আজ চলচ্চিত্র, নাটক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছেন। নতুন মৌসুমের এই জাঁকজমকপূর্ণ প্রত্যাবর্তন আবারও প্রমাণ করলো লাক্স সুপারস্টার শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং তারকা তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
ছবি: ফেসবুক