শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফ্যাশন শোয়ে নিরীক্ষার ছাপ
শেয়ার করুন
ফলো করুন

শান্ত-মরিয়ম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির (এসএমইউসিটি) ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি (এফডিটি) বিভাগ ১১ অক্টোবর আয়োজন করে ৪২তম গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শো ২০২৫। বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি কালেকশন প্রদর্শন করেন। এফডিটি বিভাগের ৪২তম আবর্তনের ৪২ জন গ্র্যাজুয়েট কালেকশনের মাধ্যমে তাঁদের কল্পনা, কারুনৈপুণ্য ও ভাবনার গভীরতা তুলে ধরেন। চার বছরে তাঁরা যা শিখেছেন, তা–ই ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা ছিল সবার সংগ্রহে। আধুনিক কাট, দেশীয় কারুকাজ ও সংস্কৃতির ছোঁয়ায় তাঁদের সংগ্রহে সৃজনশীলতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

বিজ্ঞাপন

আয়োজনের মূল আকর্ষণ

চারটি কিউয়ে উপস্থাপিত হয় শিক্ষার্থীদের থিমেটিক সংগ্রহ
চারটি কিউয়ে উপস্থাপিত হয় শিক্ষার্থীদের থিমেটিক সংগ্রহ

চারটি কিউয়ে উপস্থাপিত হয় এই থিমেটিক সংগ্রহ। সব পোশাকই ছিল ফিউশনধর্মী। আধুনিক কাট ও প্যাটার্নের পোশাকগুলোতে দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া রাখা হয়েছে। তবে সংগ্রহগুলোতে নিরীক্ষার ছাপও স্পষ্ট। হাতের কাজ, কারচুপি, বিডস, হ্যান্ডপেইন্ট ও অ্যাপলিকের ব্যবহার দেখা গেছে পোশাক অলংকরণে।

বিজ্ঞাপন

অ্যাকোয়া ইডেন

প্রথম কিউর প্রেরণা ছিল পানি ও প্রকৃতি
প্রথম কিউর প্রেরণা ছিল পানি ও প্রকৃতি

নাম শুনেই ধারণা করা যায় প্রথম কিউটির প্রেরণা ছিল পানি ও প্রকৃতি। গ্রিন টু ব্লু কালার প্যালেটে রাঙানো এ পোশাকগুলো। নীল ও সবুজের বিভিন্ন শেডে তাঁরা কালেকশন সাজিয়েছেন। ক্রপ টপ, গাউন, কো-অর্ড সেট, স্কার্ট আর জ্যাকেট ছিল এই সংগ্রহে। গাউনের প্যাটার্নে বৈচিত্র্য রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এ লাইন, বল, মারমেইডসহ বিভিন্ন স্ট্রাকচারড গাউন প্রদর্শন করেন তাঁরা। আবার স্কার্টেও ছিল লেয়ার, স্লিট, সিমিট্রিক-অ্যাসিমেট্রিক কাট। পোশাকগুলোতে শঙ্খচিল, মাছ, ঢেউ ও সমুদ্রের অন্যান্য মোটিফ নজর কেড়েছে। প্রতিটি পোশাকে স্টোন, বিডস ও ফেব্রিকের এমবেলিশমেন্ট ছিল। ফেব্রিক হিসেবে শিক্ষার্থীরা বেছে নেন ডেনিম, সাটিন ও ভেলভেট।

স্কারলেট স্পিরিট

দ্বিতীয় কিউর শুরুতেই দেখা যায় কালচারাল ব্লেন্ডিং
দ্বিতীয় কিউর শুরুতেই দেখা যায় কালচারাল ব্লেন্ডিং


দ্বিতীয় কিউর শুরুতেই দেখা যায় কালচারাল ব্লেন্ডিং। জাপানিজ কিমোনো স্টাইল কো-অর্ড সেট, জ্যাকেট, স্কার্ট, শার্ট ও টপস প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া গাউন, নি-লেন্থ ড্রেস ছিল। শিয়ার, ভেলভেট, সাটিন, লেদারসহ ফেব্রিকে বৈচিত্র্য রাখা হয়েছে এই কালেকশনে। কাট-প্যাটার্নে অভিনবত্বের মতো রঙেও বেশ ছন্দ রেখেছেন তাঁরা। প্রাধান্য পেয়েছে মেরুন, কালো, সাদা, ব্রিক ও চকলেট। আর পোশাকগুলো অলংকৃত হয়েছে স্টোন, বিডস, লেস ও ফ্রিলে। এখানেও শিক্ষার্থীরা এমবেলিশমেন্টকে কাজে লাগিয়েছেন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে।

জার্নি টু ইমোশন

দুটি কিউ শেষে ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়
দুটি কিউ শেষে ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়

দুটি কিউ শেষে ৪২তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। এরপর শুরু হয় তৃতীয় কিউ। এতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ডাইয়ের নকশা ও হ্যান্ডপেইন্ট। কাশফুল, মাছ ধরার দৃশ্য, গ্রামের মেঠোপথ, তালগাছ তুলে আনা হয়েছে হ্যান্ডপেইন্টের মাধ্যমে।

পোশাকগুলোর কাট ও প্যাটার্নে ছিল মিনিমালিজম
পোশাকগুলোর কাট ও প্যাটার্নে ছিল মিনিমালিজম

পোশাকগুলোর কাট ও প্যাটার্নে ছিল মিনিমালিজম। সঙ্গে জমকালো কিছু পোশাকও ছিল। পপ আপ ও পেস্টাল শেডে গাউন, কো-অর্ড, বিভিন্ন লেন্থের স্কার্ট বৈচিত্র্য এনেছে এই অংশে। সুতি, সাটিন ও শিয়ার ফেব্রিকে তৈরি এই কালেকশন।

রুটস অ্যান্ড জিওমেট্রি

চতুর্থ কিউ শুরুর আগে বিভাগের প্রাক্তনরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন
চতুর্থ কিউ শুরুর আগে বিভাগের প্রাক্তনরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন
ড্রামাটিক ও স্কাল্পচারাল পোশাক বেশি ছিল এই অংশে
ড্রামাটিক ও স্কাল্পচারাল পোশাক বেশি ছিল এই অংশে

চতুর্থ কিউ শুরুর আগে বিভাগের প্রাক্তনরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন সবার সঙ্গে। এই ফ্যাশন শোর শেষ কিউটি প্রকৃতি, স্থাপত্য ও জ্যামিতিক নকশার সমন্বয়ে তৈরি। অন্যান্য কালেকশনের মতোই ফিউশনের ছাপ স্পষ্ট এতে। টিউনিক, স্কার্ট, ক্রপটপ, লেয়ারড জ্যাকেট, গাউন, কো-অর্ড ও শ্রাগ ছিল সংগ্রহে। তবে ড্রামাটিক ও স্কাল্পচারাল পোশাক বেশি ছিল এই অংশে।

ড্রেপড, লেয়ারড ও গ্যাদারড ফেব্রিকের নকশায় নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পোশাক অলংকরণে স্টোন, মিরর, ফ্রিল ও বিডসের ব্যবহারও দেখা যায়। স্ট্রাকচারড কলার ও সিলভসের ব্যবহার নজর কেড়েছে পোশাকগুলোয়। কালো, সাদা, বাদামি, আইভরি, সবুজ ও প্যাস্টেল শেড বেছে নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আয়োজনের অতিথি

বিভাগের শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য আবর্তনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত
বিভাগের শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য আবর্তনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত

এসএমইউসিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল হক, উপাচার্য শাহী আলমসহ ৪২তম গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শোতে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন স্বানমখ্যাত ডিজাইনার ও তৈরি পোশাক খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের প্রাক্তনরাও এসেছেন এই আয়োজনে। তাঁরা অনুজদের কাজ দেখেছেন আর নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেছেন। বিভাগের শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য আবর্তনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। ফ্যাশন শোর কোরিওগ্রাফি করেছেন রাকিব বাবু।

৪২তম গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শো ২০২৫ শেষে ফটোসেশন
৪২তম গ্র্যাজুয়েশন ফ্যাশন শো ২০২৫ শেষে ফটোসেশন

ছন্দ, তাল ও লয়ে হয় সংগীত, তেমনি ফ্যাশনেরও আপন ছন্দ আছে, বলেন মোস্তাফিজুল হক। আরও বলেন, ‘সবুজের যে এত শেড হয়, নীলেরও যে এত পার্থক্য হয়, তা এই ফ্যাশন শোতে আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম। সিম্বলিক সব কাজ করেছে তারা। শিক্ষার্থীদের এই কাজগুলো দেখে মুগ্ধ হলাম সত্যি।’

৪২ আবর্তনের সব শিক্ষার্থীকে শুভকামনা জানান শাহী আলম। তাঁদের শিক্ষার্থীরা দেশ ছেড়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুখ্যাতি ছড়াবেন, এই আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই শিক্ষার্থীরাই একসময় দেশের বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার হবে। তাদের এমন নান্দনিক সব কাজ ছড়িয়ে পড়ুক দেশে-বিদেশে।’

ছবি: আয়োজক

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ১৫: ১৩
বিজ্ঞাপন