
রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে। আলো, সঙ্গীত, কোরিওগ্রাফি আর আত্মবিশ্বাসী তরুণীদের উপস্থিতিতে মুখর এই আয়োজনে বিজয়ীর মুকুট ওঠে সামানজার সাঈদের মাথায়। প্রথম রানারআপ হয়েছেন স্বাগতা সাহা এবং দ্বিতীয় রানারআপ লাবিবা মনজুর।
তবে এবারের প্রতিযোগিতা শুধু সৌন্দর্যের ছিল না। ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’—এই দর্শনের সঙ্গে নিজেদের সামঞ্জস্য প্রমাণেরও ছিল এটি একটি মঞ্চ।
চূড়ান্ত পর্বে শীর্ষ পাঁচে জায়গা করে নেন আয়শা রহমান, যুক্তা ভৌমিক, লাবিবা মনজুর, সামানজার সাঈদ ও স্বাগতা সাহা। পরিচিতি পর্বের পর লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত বিচারকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তাঁরা। উপস্থিত বুদ্ধি, আত্মবিশ্বাস এবং মত প্রকাশের দক্ষতার ভিত্তিতে বিচারকরা প্রতিযোগীদের মূল্যায়ন করেন। এরপর গত বছরের বিজয়ী আকলিমা আতিকা কনিকার বক্তব্যের পর ঘোষণা করা হয় ফলাফল। কনিকার হাত থেকেই বিজয়ের মুকুট গ্রহণ করেন সামানজার। সবাইকে স্যাশে পরিয়ৈ দেন বিচারকরা ও আজরা মাহমুদ।
বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০১৯ শিরিন আক্তার শীলা, মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ ইফা তাবাসসুম, মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৯ রাফাহ নানজেবা তোরসা, দ্য ডেইলি স্টার-এর লাইফস্টাইল সম্পাদক মেহরিন আফরোজ চৌধুরী এবং হাল ফ্যাশনের কনসালট্যান্ট ও হেরিটেজ টেক্সটাইল বিশেষজ্ঞ শেখ সাইফুর রহমান। তাঁদের মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্ব, মঞ্চে উপস্থিতি, যোগাযোগ দক্ষতা, সামাজিক সচেতনতা এবং নেতৃত্বের গুণ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের জাতীয় পরিচালক ও আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্পের (এএমটিসি) প্রতিষ্ঠাতা আজরা মাহমুদ। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থাপনায় মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশকে এমন একটি প্ল্যাটফর্মে রূপ দিতে চান, যেখানে সৌন্দর্যের পাশাপাশি উদ্দেশ্য, নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্ব পাবে।
তাঁর ভাষায়, একজন বিজয়ী যেন শুধু একটি মুকুটের অধিকারী না হন; তিনি যেন মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের দূত হয়ে উঠতে পারেন।
এবারের বিজয়ী সামানজার সাঈদের পরিচয়ও সেই দর্শনের সঙ্গে মানানসই।
বায়োকেমিস্ট্রি ও বায়োটেকনোলজিতে স্নাতক এই তরুণীর আগ্রহ নিউরোসায়েন্সে। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি এবং স্নায়ুবিক রোগের আণবিক ও কোষীয় ভিত্তি নিয়ে গবেষণা করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, জ্ঞান, সহমর্মিতা এবং দায়িত্ববোধই একজন মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্যকে প্রকাশ করে।
মুকুট জয়ের পর থেকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু করবেন সামানজার। আগামী কয়েক সপ্তাহ তিনি ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উপস্থাপনা, জনসম্পৃক্ততা এবং ‘বিউটি উইথ আ পারপাস’ উদ্যোগের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এ বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আগামী ৯ আগস্ট ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে শুরু হবে প্রায় এক মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক আয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীরা সাংস্কৃতিক বিনিময়, সমাজসেবামূলক উদ্যোগ এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশ নেবেন। সবশেষে ৫ সেপ্টেম্বর ন্যা ট্রাং শহরে অনুষ্ঠিত হবে গ্র্যান্ড ফিনালে, যেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন সামানজার সাঈদ।
২০২৫ সালে আজরা মাহমুদ ট্যালেন্ট ক্যাম্প জাতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্ব নেওয়ার পর মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। আয়োজকদের আশা, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং নেতৃত্ব, মানবিকতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা বহনকারী একটি উদ্যোগ হিসেবে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
ছবি: এএমটিসি