রাজধানীতে শুরু ১০ দিনব্যাপী তাঁত পণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা
শেয়ার করুন
ফলো করুন

ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরার লক্ষ্যে বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ১০ দিনের তাঁতপণ্যের প্রদর্শনী ও মেলা। বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের উদ্যোগে এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেঙ্গল শিল্পালয়ের দ্বিতীয় তলার কামরুল হাসান গ্যালারি ও চতুর্থ তলার উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে।

আজ দুপুরে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনে এই আয়োজনের উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি।  

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের তাঁতশিল্পকে পরিচিত করাসহ শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত ও প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছেন খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, ‘মসলিন, জামদানি, টাঙ্গাইল ও মণিপুরি শাড়ি, সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি–গামছাসহ প্রায় ১৪টি তাঁতপণ্য ইতিমধ্যে জিআই  হিসেবে নিবন্ধিত। অন্যান্য তাঁতপণ্যের জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগও নেওয়া হবে। আমাদের তাঁতজাত পণ্য বিশেষ করে জামদানি ও মসলিনকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে যথাযথভাবে। কারণ, এসব পণ্য আসলে সবার জন্য নয় বলে তাঁর অভিমত।’  

বিজ্ঞাপন

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দক্ষ বয়নশিল্পীদের হাতে তৈরি শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ওড়না এই মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে। এ ছাড়া কিছু উদ্যোক্তার পণ্যও রাখা হয়েছে। সেগুলো মোটেও মানসম্মত নয়। এতে করে মেলার মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞ ও দর্শনার্থীদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন।

চতুর্থ তলায় চলছে এই মেলা। আর নিচতলায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রদর্শনী। সেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে।

মসলিনের ইতিহাস, পুনরুজ্জীবীত মসলিন তৈরির বিভিন্ন ধাপ ও উপকরণ রাখা হয়েছে।

এখানে দর্শনার্থীরা ঢাকাই মসলিন তৈরির বিভিন্ন ধাপ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছেন। ফুটি কার্পাস থেকে হ্যান্ড স্পিনিং পদ্ধতিতে সুতা তৈরি, সুতার নাটাইকরণ এবং ঢাকাই মসলিনের সূক্ষ্ম বুননপ্রক্রিয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী বস্ত্রের বয়নশৈলী।

পাশাপাশি পুনরুদ্ধার করা ঢাকাই মসলিন শাড়ি ও স্কার্ফ প্রদর্শনের পাশাপাশি মসলিন তৈরির প্রধান কাঁচামাল ফুটি কার্পাসের তুলা, বীজ ও গাছও রাখা হয়েছে প্রদর্শনীতে। ফলে দর্শনার্থীরা মসলিনের ঐতিহাসিক যাত্রা ও নির্মাণপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে রয়েছে প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো জামদানি ও টাঙ্গাইল শাড়ি। পাশাপাশি দেশের তাঁতজাত ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য, রেশমের জীবনচক্র, তাঁতশিল্পের ঐতিহাসিক নথিও প্রদর্শিত হচ্ছে এখানে।

বিভিন্ন ধরনের সুতা, তাঁতযন্ত্র এবং বস্ত্র তৈরির ঐতিহ্যবাহী উপকরণও তুলে ধরা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বয়নশিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস ও বৈচিত্র্যকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছে।
সুতার কাটার চরকানও কাটুনিদেরও আনা হয়েছে প্রদর্শনীতে। ফলে সুতা কাটার পদ্ধতি সবাই দেখতে পারছে।

এমনকি জামদানি ও জ্যাকার্ড তাঁতও বসানো হয়েছে। সেখানেও কাপড় বুনছেন বয়নশিল্পীরা। বিশেষ জামদানি তাঁতে তাঁরা জামদানি বুনছেন বলা হলেও তাঁরা সেটা করছেন না। বরং তাঁরা নকশা করা সুতি শাড়ি বুনছেন।

মেলার সঙ্গে প্রান্তিক তাঁতিদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রয়েছে মোট ১৫টি স্টল, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে।

এসব স্টলে দর্শনার্থীরা জামদানি শাড়ি, কাতান শাড়ি, মণিপুরি শাড়ি ও টাঙ্গাইল শাড়িসহ নানা ধরনের পোশাক কিনতে পারছেন।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের লুঙ্গি ও গামছা, কুমিল্লার খাদি, কুমারখালীর বেডশিট এবং রাজশাহীর বিখ্যাত সিল্কও রয়েছে মেলায়। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের নান্দনিক পোশাকও স্থান পেয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন এলাকার তাঁতশিল্পের বৈচিত্র্যকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরেছে।

তবে স্টল বরাদ্দে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল, কারণ অনেক অংশগ্রহণকারীর পণ্য এই মেলার উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করেছে। এমনকি এই ধরনের আয়োজনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা আশা করা যায় আয়োজকেরা ভবিষ্যতের জন্য মাথায় রাখবেন। কারণ, এই ধরনের প্রদর্শনী ঢাকায় আরও হয়েছে।

মেলাটি ১৭ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই মেলা ও প্রদর্শনী।

ছবি: হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৩
বিজ্ঞাপন