শুরু হয়েছে সেলিব্রিটি আর্কাইভ ও ফাল্গুন ফেস্ট
শেয়ার করুন
ফলো করুন

মিডিয়া ও বিনোদনজগতে কাজ করতে গেলে পোশাক হয়ে ওঠে পেশাগত প্রয়োজনেরই অংশ। শুটিং, অনুষ্ঠান, স্টেজ পারফরম্যান্স কিংবা ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি—সব ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা লুক দরকার হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এক বা দুবার পরার পর সেই পোশাকগুলো আর রিপিট করা যায় না। ফলে আলমারির এক কোণে জমতে থাকে অসংখ্য প্রায় নতুন পোশাক, বাড়তে থাকে জায়গার সংকটও।

এই বাস্তবতা থেকেই জন্ম নেয় এক সুন্দর ভাবনা—এই পোশাকগুলো কেন এমন মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হবে না, যারা এগুলো যত্ন নিয়ে পরবেন, নিজের মতো করে স্টাইলিং করবেন? একই সঙ্গে এতে টেকসই বা সাসটেইনেবল লাইফস্টাইলের ভাবনাটাও বাস্তব রূপ পাবে । বিনোদনজগতের শিল্পীদের মধ্যে এই সমস্যা প্রায় সবার। আউটফিট থেকে মেকআপ—সবকিছুতেই থাকতে হয় পরিপাটি ও ভিন্নতা। তাই নানান অনুষ্ঠানে পরা পোশাকগুলো নিয়ে প্রশ্ন আসে—এগুলোর পরের গন্তব্য কী? কাকে দেওয়া যায়, কোথায় রাখা যায়, কিংবা আদৌ কী করা উচিত? এই ভাবনাগুলো শিল্পীরা প্রায়ই নিজেদের মধ্যে শেয়ার করতেন।

গত বছরের শুরুতে প্রথম বিষয়টি নিয়ে ভাবেন উপস্থাপিকা অর্চি রহমান। তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন গায়িকা সাজিয়া সুলতানা পুতুলের সঙ্গে। ‘এত কাপড় আমরা কী করব?’—এই প্রশ্নের উত্তরে পুতুলের তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘চলো না, কিছু করি।’ সেখান থেকেই শুরু। পরে যুক্ত হন সংগীতশিল্পী সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা, যিনি এর আগেই নিজস্বভাবে ডিক্লাটার করেছেন তাঁর পোশাক। ধীরে ধীরে সমমনা আরও শিল্পীরা যুক্ত হলেও কোথায় ও কীভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়ে আলোচনা চলতেই থাকে। প্রায় এক বছর সময় লাগে পুরো ভাবনাটা বাস্তবে রূপ দিতে।

বিজ্ঞাপন

নতুন বছরের শুরুতে এই উদ্যোগে গতি আনে ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ‘গো গার্লস’। অবশেষে রাজধানীর পান্থপথে পান্থনিবাস ৬৯/জে-এর পাঁচতলায় তাদের স্পেসে আয়োজন করা হয় নারীদের জন্য এই বিশেষ মেলার।

এই আয়োজনে সংগীতশিল্পীদের মধ্যে আছেন নন্দিতা, পুতুল, লিজা ও লাবণ্য। উপস্থাপিকাদের মধ্যে রয়েছেন মৌসুমি মৌ, নীল হুরে জাহান, অর্চি রহমান ও সোনিয়া রিফাত। তাঁরা সবাই মিলে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেন। সিদ্ধান্ত হয়, ফ্রেশ কন্ডিশনের শাড়ি, কুর্তি, কামিজের মতো পোশাকগুলো নিয়ে কাজ করা হবে। সংগীতশিল্পী নন্দিতা জানালেন, তিনি তাঁতের সুতি শাড়ি পরতে খুবই ভালোবাসেন। মা, নানি, খালা থেকে শুরু করে শাশুড়ির শাড়ি—প্রতিটি পোশাকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা স্মৃতি। মেলায় রাখা তাঁর সব পিসই একদম ফ্রেশ অবস্থায়।

বিজ্ঞাপন

ডিক্লাটারের পাশাপাশি এই মেলায় যুক্ত হয়েছে আরও নানা সৃজনশীল উদ্যোগ। মোট নয়টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড তাদের নিজস্ব স্টল নিয়ে অংশ নিয়েছে, যা পুরো আয়োজনকে করেছে আরও বহুমাত্রিক। এই মেলার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারীদের অনুপ্রাণিত করার ভাবনা।

তারকাদের ব্যবহৃত পোশাকের পাশাপাশি একঝাঁক নারী উদ্যোক্তার সক্রিয় অংশগ্রহণে মেলাটি পেয়েছে আলাদা গুরুত্ব ও পরিচিতি। ফাল্গুন, ভ্যালেন্টাইনস ডে এবং আসন্ন ঈদ সামনে রেখে উদ্যোক্তারা এনেছেন তাঁদের নতুন কালেকশন। দেশি পণ্যের পাশাপাশি মেলায় মিলছে নানা ধরনের গয়না, শাড়ি, ব্লাউজ, ব্যাগ, মোমবাতি, স্কিনকেয়ার সামগ্রী।

আছে খাবারের স্টলও, যেখানে  মিলবে আচার, কুকিজ, কেকের মতো আইটেম। ভ্যারাইটি ও নান্দনিকতার দিকটি মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন—যাতে ফ্যাশন, লাইফস্টাইল আর পরিবেশ সচেতনতা একসঙ্গে থাকে।

মেলায় ভালো সাড়া পাওয়ায় ভবিষ্যতে ঈদ উপলক্ষেও এমন আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে তারকা আয়োজকদের। লক্ষ্য একটাই—তারকাদের ব্যবহৃত পোশাক যেন স্বল্প আয়ের মানুষেরাও সাধ্যের মধ্যে কিনতে পারেন। অনেকেই প্রশ্ন করেন, এই পোশাকগুলো কেন দান করা হচ্ছে না? আয়োজকদের মতে, ডিক্লাটার বা থ্রিফটিং বিশ্বজুড়ে পুরোনো ও গ্রহণযোগ্য একটি কনসেপ্ট। মজার বিষয় হলো, শিল্পীরাও এই মেলা থেকে নিজেরাই পোশাক কিনছেন এবং পরে এসেছেন। একই সঙ্গে প্রিয় তারকার সঙ্গে দেখা করা ও তাঁদের ব্যবহৃত পোশাক কেনার সুযোগ—এই অভিজ্ঞতাটাই মেলাটিকে আলাদা করে তুলেছে।

ছবি: হাল ফ্যাশন

প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ৫০
বিজ্ঞাপন